You are currently browsing writersclubeditor’s articles.

Rumi Ahmed
30 Nov, 2010, USA

So, Zafar Sobhan thinks BNP is mafia.  This made me laugh.  You see, that’s the thing with Bangladeshi politics — you have to laugh at it, because the alternative is to howl in despair.

Let’s be fair to Zafar.  It’s not just him who thinks this way.  I’ve heard it from many AL leaning folks over the years: the last BNP government was like the mafia, Tarique ran Bangladesh like a crime lord, the corruption and violence all pointed to mob rule.  So let’s lay off Zafar.  He is just more articulate than the most.

Instead, let’s look at the message.  So, the BNP government was like the mafia.  What does that mean?

Well, how does the mafia work?  There is a system of patronage, whereby the Don confers favours on those under his protection, and they in turn does the Don’s bidding.  Then there is extortion.  You want to do business in a mob neighbourhood, you pay a protection fee.  And finally, anyone stepping out of line has to be disciplined — made to sleep with the fishes.

BNP was all of these we are told.  Hawa Bhaban cronies ran the country like a private fiefdom.  There were rampant extortion, from the top to bottom.  And there were killings like the 21 August.

The 21 August was a crucial turning point.  After that event, many people said ‘we used to follow Zia’s ideals, not this Khaleda-Falu politic’.   For many who had no love of AL shunned BNP because of its mafia-type transformation.

That was then.  What do we see now?

We see that minister’s brother’s company is given lucrative contracts for electricity generation without any tender process.  And then we see that act being indemnified through legislation.

We see prime ministerial advisors openly declaring that only the ruling party members will be appointed for government job.  We see the public servants humiliated because they wanted to follow the law, and not the party diktat.

We see dissenting voices shut down and thrown into jail by partisan judges.

What was that about patronage, favor, and extortion?

Not as bad as BNP, you say?  Not like AL is killing opposition politicians, like the BNP did on 21 August.

Never mind that no one has actually produced any evidence of BNP being involved with 21 August (as opposed to covering up afterwards).  For the partisan AL mind, it’s a given that BNP did it.  And AL is not as bad.

Except for the inconvenient fact that AL is, of course, as bad if not worse.  In Natore, an upazilla chairman was killed in broad daylight a few weeks ago.  The entire thing is available in youtube.  And Sheikh Hasina personally saved the killers by saying ‘this was BNP’s internal conflict’.

We don’t need Julifikar Ali Manik’s complicated conspiracy theories.  All this happened in public media.  Sheikh Hasina intervened to save killers.

As I said, after 21 August, many BNP supporters abandoned their party.  I don’t know a single AL-er who owns up to Hasina’s action after the Natore killing.  None.

You know why?

Because AL is a cult.  It’s a cult whose members believe that their party can do no wrong.  It’s a cult whose members believe their leader can do no wrong.  It’s a cult whose members simply refuse to face the reality, and would prefer to believe in conspiracy theories where everything is someone else’s fault.  It’s a cult whose members, otherwise perfectly fine people, lock away parts of their reason, compassion, and conscience.

The 21 August assassinations will hang over BNP until it unconditionally apologises for it, and the real killers are convicted and punished.  Until that happens, the charge of ‘BNP is mafia’ will bite.

BNP may be mafia.  But so is AL.  And AL is also a cult.  No matter what happens to BNP, until the AL-ers free themselves from their mental slavery, Bangladesh will remain doomed with a plague on both houses.


Originally published here in Bangladesh First, 22 September, 2010.

বিএনপির প্রতিষ্ঠা লাভের প্রক্রিয়াটিকে নিয়ে ভেবে প্রথম আলোর মিজানুর রহমান খান যে অনেক মূল্যবান সময় ব্যয় করেছেন, সেটা প্রথম আলোয় প্রকাশিত তার “বিএনপির জন্ম যেভাবে সেনানিবাসে” সিরিজটি পড়ে বোঝা যায়। অবশ্য গবেষণা ছাড়া আকস্মিক ভাবে কিছু সূত্রের সন্ধান বা কোন নির্দেশনা পেলেও বহু আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে ব্যাখ্যা করার উদ্যোগ কেউ কেউ নিতে পারেন। মিজানুর রহমান খান কোনটি করেছেন জানি না।

মিজানুর রহমান খানের প্রতিবেদনটিতে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ কিছু শব্দের উপর বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। আমি জানি না সেগুলো কি মিজানুর রহমান খানের কি-ওয়র্ড ছিল কিনা। তবে এটা হলফ করে বলা যায়, পাঠকরা সেসব কি-ওয়র্ড নিমেষেই শনাক্ত করবেন। কি-ওয়র্ড-এর প্রসঙ্গে একটু পরে আসি। প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা তথ্যগুলোর সূত্র প্রসঙ্গে কিছু বলার ছিল, সেগুলো আগে বলে নেই।

স্টিফেন আইজেনব্রাউন

প্রতিবেদনটি পড়ে জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠা লাভের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে উল্লিখিত তথ্যাবলীর উৎসগুলো হচ্ছে মূলত- ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তৎকালীন এক কর্মী (পলিটিকাল কাউন্সেলর), প্রয়াত ন্যাপ নেতা মশিউর রহমানের ভাই ও ছেলে এবং বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। প্রতিবেদনের দুটি মুখ্য অংশের তথ্যের উৎস হচ্ছেন মার্কিন দূতাবাসের সেই কর্মী স্টিফেন আইজেনব্রাউন এবং ন্যাপ নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ভাই মোখলেসুর রহমান। এদের মধ্যে আইজেনব্রাউনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো মিজানুর রহমান সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সংগ্রহ করেননি। সেগুলো সংগৃহীত হয়েছে ২০০৪ সালে আইজেনব্রাউনের সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী এক তৃতীয় ব্যাক্তির কাছ থেকে, ইমেইল বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে।

চার্লস স্টুয়ার্ট কেনেডির নেয়া আইজেনব্রাউনের ঐ সাক্ষাৎকারের সূত্র ধরে বেশ কিছু ব্যাক্তির সাথে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কথোপকথনের বিশদ বিবরণ প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলো পড়ে অনেকেরই ভ্রম হতে পারে সেগুলো কোন ভিডিও ক্লিপ দেখে বা অডিও ক্লিপ শুনে লেখা হয়েছে। ভ্রম হওয়ার ব্যাপারটি প্রাসঙ্গিক নাও হতে পারে, কেননা সেসব ভিডিও বা অডিও ক্লিপ মিজানুর রহমানের কাছে থেকে থাকতে পারে, কিংবা থাকতে পারে জিয়ার সাথে একান্ত আলোচনায় অংশ নেয়া সেই ব্যাক্তিদের কারও না কারও স্বীকারোক্তি। মিজানুর রহমান খান প্রতিবেদনে বলেননি যে সেগুলো তার কাছে নেই। তবে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, মিজানুর রহমান এটাও বলেননি যে নির্ভরযোগ্য সেই উৎসগুলোর কোনটি তার কাছে আছে। বললে আমরা পাঠকরা একটু নিশ্চিন্ত মনে তথ্যগুলো গলধঃকরণ করতে পারতাম।

প্রতিবেদন পড়ে জানা যায়, জিয়ার সাথে একান্তে হওয়া আলোচনার বিষয়ে যেসব তথ্য মিজানুর রহমান দিয়েছেন, সেসব তথ্যর মূল উৎস হচ্ছে ন্যাপ নেতা মোখলেসুর রহমান যাদু মিয়া।  এটা বোধগম্য যে ১৯৭৯ সালে মৃত্যুবরণ করা যাদু মিয়া এসব তথ্য সরাসরি মিজানুর রহমানকে দেননি, কেননা দিলে প্রতিবেদনে তার উল্লেখ থাকত। যাদু মিয়া সেসব কথা বলেছিলেন আইজেনব্রাউনকে (একান্তই আইজেনব্রাউনের ভাষ্য মতে)। এই আইজেনব্রাউনও তথ্যগুলো মিজানুর রহমানকে (সরাসরি যোগাযোগ করা সত্তেও) দেননি, দিয়েছিলেন চার্লস স্টুয়ার্ট কেনেডিকে, ২০০৪ সালে দেয়া এক সাক্ষাতকারে। শেষ পর্যন্ত ১৯৭৬-৭৮ সালে ঘটা সেসব ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তিনবার হাত বদল হয়ে মিজানুর রহমান খানের কাছে এসে পৌঁছেছে কেনেডি সাহেবের মারফত, গত ৩০শে আগস্টে পাঠানো এক ইমেইলের মাধ্যমে। সেই মতে, মিজানুর রহমান খানের প্রায় ছয় হাজার শব্দবিশিষ্ট ঐ প্রতিবেদনটির একটা উল্লেখযোগ্য অংশেরই সূত্র হচ্ছে কেনেডি সাহেবের কাছ থেকে তিন সপ্তাহ আগে পাওয়া সেই ইমেইলটি।

কথোপকথন আর তার সূত্রের ব্যাপারে যা বলছিলাম- তো, প্রতিবেদনটিতে জিয়াউর রহমানের সাথে এরশাদ, জেনারেল মঞ্জুর, যাদু মিয়া ও তৎকালীন এনএসআই প্রধানের কথোপকথন রীতিমত ইনভার্টেড কমা সহকারে যোগ করা হয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে লঘু মেজাজে বলা (অন্তত পড়ে তাই মনে হল) কথাও যোগ করা হয়েছে গুরুত্বের সাথে। তো, বক্তাদের একজনের সাথেও সরাসরি যোগাযোগ না করে, দ্বিতীয়ও তো নয়ই, তৃতীয়ও নয় বরং চতুর্থ পর্যায়ের একটি সূত্রের ভিত্তিতে পাওয়া বর্ণনাগুলোকে একেবারে ইনভার্টেড কমা সহকারে উল্লেখ করা হলে তার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু হবে, এই প্রশ্ন বিজ্ঞজনদের কাছে রাখলে আশা করি দোষের কিছু হবে না। বিশেষ করে প্রতিবেদনে একাধিক বার “নাকি” শব্দের ব্যবহার (“তিনি নাকি বলেছিলেন”, “এরশাদ প্রথমেই নাকি বলেছেন” ইত্যাদি) সম্ভবত এই গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নটিকে জোরদার করবে।

আইজেনব্রাউনের সাথে মিজানুর রহমানের কোন তথ্য আদান-প্রদান না হলেও ন্যাপ নেতা মশিউর রহমানের ভাই মোখলেসুর রহমান আর ছেলে আনোয়ারুল গনির সাথে তিনি নিজেই কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। মওদুদ আহমেদের সাথেও কথাবার্তা হয়েছে সরাসরি ভাবে।

ভাবছেন উৎসের লম্বা ফিরিস্তি টেনে এখন সেগুলোর নির্ভরযোগ্যতা, কিংবা সেগুলোর ভিত্তিতে এত বড় একটি বিষয় নিয়ে একেবারে ‘অনুসন্ধানী প্রতিবেদন’ লিখে সেরে ফেলার যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা করব? না, তা নয়। উৎস গুলো উল্লেখ করলাম আসলে অনেকটা নিজের সাথে কথোপকথনের মত করে। কেননা পুরো সিরিজটা পড়ে সবগুলো তথ্যসূত্রের স্পষ্ট পরিচয় পেতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে।

এইবার কি-ওয়র্ডের প্রসঙ্গে আসা যেতে পারে। কি-ওয়র্ডগুলো কী কী? প্রতিবেদনটিতে এমনকি চোখ বোলালেও শনাক্ত করা যায়- সেনানিবাস, সেনাছাউনি, সেনানিবাসের বাড়ি, গভীর রাত, গোপন বৈঠক এবং গোপন আলোচনা, এই কয়েকটি শব্দের উপর বিশেষ জোর দেয়া আছে। আরেকটি শব্দ রয়েছে, সেটি হচ্ছে ষড়যন্ত্রমূলক। একটা ব্যাপার দেখে মজা না পেয়ে পারা গেল না। মিজানুর রহমানের এই ‘অনুসন্ধানী’ সিরিজের শেষ কিস্তিটির শিরোনাম হচ্ছে, “সেনাছাউনিতে বিএনপির জন্মকে ষড়যন্ত্রমূলক বলেন আইজেনব্রাউন”। অথচ ঐ পুরো কিস্তিটিতে ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র একবার, এবং বলেছেন মার্কিন দূতাবাসের কর্মী আইজেনব্রাউন। অথচ কেন ষড়যন্ত্র, কীভাবে ষড়যন্ত্র এবং কিসের ষড়যন্ত্র, সেটির উল্লেখ আইজেনব্রাউন করেননি, স্পষ্ট ভাবে লেখেননি মিজানুর রহমান খানও। বরং প্রতিবেদনটি পড়ে কেউ যদি অভিযোগ তুলেন যে দুর্বল বা অস্পষ্ট সুত্রের ভিত্তিতে দেয়া তথ্যগুলোর পরিবেশনায় প্রেসিডেন্ট জিয়ার প্রতি কলঙ্ক লেপনের প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে, তবে সেই অভিযোগকারীর দাবীকে নস্যাৎ করার মত খুব জোর হয়তো আমরা পাব না।

এক্ষেত্রে আরেকটি ব্যাপারে আলোকপাত করতে হয়। আইজেনব্রাউন নাকি বলেছেন বিএনপির প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটি ষড়যন্ত্রমূলক ছিল। মিজানুর রহমান খানের মতে (আসলে কেনেডি সাহেবের মারফত আইজেনব্রাউনের মতে) সেই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা নাকি ছিলেন বিএনপির বর্তমান স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। কথা হচ্ছে, মওদুদ আহমেদের সাথে সাক্ষাত করেছেন বলে মিজানুর রহমান খান তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন। শেষ কিস্তিতে একটি কথোপকথনও তুলে ধরেছেন। এই পর্যায়ে, যারা মিজানুর রহমান খানকে ইতমধ্যেই একজন সাহসী সাংবাদিক হিসেবে শনাক্ত করে ফেলেছেন, তাদের মনে এই প্রশ্নের উদয় হতে পারে যে, মিজানুর রহমান খান মওদুদ আহমেদকে ষড়যন্ত্রের হোতা হওয়ার ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করলেন না কেন। হলফ করে বলতে পারি না এই প্রশ্নটি করার সাহস তিনি যুগিয়ে উঠতে পারেন নি। সেক্ষেত্রে প্রশ্নটি যদি করেই থাকেন, তবে প্রতিবেদনে কেন তার উল্লেখ নেই, সেটি ভেবে অনেকেই নিজেকে বঞ্চিত মনে করছেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কোন বর্ণবাদী সংগঠন তো নয়ই, কোন সন্ত্রাসী সংগঠনও নয়। এটি একটি রাজনৈতিক দল, যেটি প্রতিষ্ঠা করার কয়েক বছর পর জিয়ার মৃত্যু হয়েছিল এবং তারও প্রায় এক দশক পর দলটি জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছিল। তো, প্রতিষ্ঠালগ্নে একজন রাষ্ট্রনায়ক এই প্রসঙ্গে নানান দৃষ্টিভঙ্গির রাজনীতিবিদদের সাথে দেখা করেছেন, তাদের সাথে বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকগুলোতে পরিকল্পতি দলটির সম্ভাব্য নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, মিজানুর রহমান খানই তার প্রতিবেদনে সেসব উল্লেখ করেছেন। এক্ষেত্রে সেসব বৈঠকগুলোকে বা বিএনপির প্রতিষ্ঠালাভকে কেন ষড়যন্ত্রমূলক বলা হবে, সে ব্যাপারে মিজানুর রহমান খান স্পষ্ট ভাবে কোন ব্যাখ্যা তো দেনই নি, বরং মার্কিন দূতাবাসের তৎকালীন এক কর্মী, যার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেও তিনি বিস্তারিত কিছু জানতে পারেননি, জানতে হয়েছে তৃতীয় এক ব্যাক্তির মাধ্যমে, এই আইজেনব্রাউনের একটি উক্তির ভিত্তিতেই তিনি তার প্রতিবেদনের শেষ কিস্তির শিরোনাম নির্বাচন করেছেন “সেনাছাউনিতে বিএনপির জন্মকে ষড়যন্ত্রমূলক বলেন আইজেনব্রাউন”। এই নির্বাচন কি ঠিক হয়েছে কিনা তা বিজ্ঞজনেরা বিচার করবেন। তবে প্রশ্ন রাখতে যেহেতু দোষ নেই, আমরা প্রশ্ন রাখছি।

গভীর রাত শব্দটির বহুব্যবহার প্রসঙ্গেও কিছু বলা যেতে পারে। জিয়াউর রহমান ছিলেন রাষ্ট্রনায়ক। যে স্টিফেন আইজেনব্রাউনকে উদ্ধৃত করে মিজানুর রহমান খান বিএনপির প্রতিষ্ঠালাভকে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, সেই স্টিফেন আইজেনব্রাউনের বিবরণেই বলা আছে, জিয়া ছিলেন তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক, যিনি একজন সামরিক কর্মকর্তা থেকে নিজেকে সফল ভাবে রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ মার্কিন কূটনীতিক ক্রেইগ ব্যাক্সটারকে উদ্ধৃত করে এও বলা হয়েছে, রাজনীতিবিদ হিসেবে সক্রিয় হওয়ার পর জিয়া ব্যাপকভাবে দেশসফর করেন এবং খুব সম্ভবত শেখ মুজিবর রহমান ও এ.কে. ফজলুল হকের চেয়েও বেশিমাত্রায় বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল সফর করেছেন। এতে প্রকাশ পায় যে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জিয়া কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে সারাদিনের পরিশ্রম শেষে বিশ্রামের জন্য নির্ধারিত রাতগুলোতেও অনেক সময় তিনি রাজনীতিবিদদের সাথে নীতিনির্ধারণী বৈঠক করছেন, সম্ভাব্য রাজনৈতিক দলের রূপরেখা নির্ধারণ করছেন, এতে জিয়ার একনিষ্ঠতা ও কঠোর পরিশ্রমের দিকটি নির্দেশপূর্বক সেগুলো প্রশংসনীয় না হয়ে কেন পুরো ব্যাপারটাই মিজানুর রহমানের কাছে ষড়যন্ত্রের একটি ইঙ্গিত হয়ে ধরা দিল, তা তিনি তার প্রতিবেদনে সম্ভবত স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন নি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যাদু মিয়ার মৃত্যুটি তার পরিবারের কাছে রহস্যাবৃত। মিজানুর রহমান খান যাদু মিয়ার ভাই মোখলেসুর রহমান ও ছেলে আনোয়ারুল গনির সরাসরি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, এবং ধরে নেয়া যায় তাদের বক্তব্যের অনেকাংশই হুবহু তুলে ধরেছেন। সেসব বক্তব্যের একটিতেও তারা যাদু মিয়ার মৃত্যু প্রসঙ্গে কোন রহস্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে দেখা গেল না। হয়তো তারা মিজানুর রহমান খানকে একান্তে বলেছেন, হয়তো মিজানুর রহমান খান সেটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন নি। কিন্তু তিনি যাদু মিয়ার মৃত্যুর একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনাও তিনি দেননি, দেননি তার মৃত্যুর তারিখ, দেননি কেন সেটিকে ঘিরে রহস্যের অস্তিত্ব থাকতে পারে তার এক লাইন ব্যাখ্যাও। যাদু মিয়ার মৃত্যু প্রসঙ্গে মোখলেসুর রহমানকে একটু বর্ণনা করতে দেখা গেল, সেখানো রহস্যের কোন সন্ধান পাওয়া গেল না। এই প্রসঙ্গে একটা কথাই বলার আছে, যাদু মিয়ার মৃত্যুটি তার পরিবারের কাছে রহস্যাবৃত থাকবার ব্যাপারটি তিনি উল্লেখ যেহেতু করেছেন, তার একটি অতিক্ষুদ্র ব্যাখ্যাও হয়তো তিনি দিতে পারতেন, সেক্ষেত্রে আমরা একটা নূন্যতম ধারণা হলেও পেতে পারতাম। তিনি দেননি।

সেনাবাহিনী, সেনানিবাস ও সেনাছাউনি -এসব শব্দের বহুব্যবহারের প্রেক্ষিতে যেটি বলতে চাই, তা হয়তো শুধুমাত্র মিজানুর রহমান খানের এই প্রতিবেদনের ক্ষেত্রেই প্রাসঙ্গিক নয়, বরং বলা যেতে পারে প্রতিবেদনটির প্রকাশস্থল প্রথম আলো পত্রিকার ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক।

নীতি বিসর্জন দিয়ে বেকায়াদায় পড়ে মাপ চাওয়ার ঘটনা মতিউর রহমানের এই প্রথম নয়।

আমরা জেনেছি গত ৩রা সেপ্টেম্বার, ২০১০ তারিখে পত্রিকা-মালিকদের সংগঠন নোয়াব-এর নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতকালে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ১/১১ শাসনামলে তার পালিত ভূমিকার জন্য কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপের সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক অধ্যায়টি ছিল এই ১/১১, যা ২৯ ডিসেম্বার, ২০০৮ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। অসাংবিধানিক ও অবৈধ এই সরকারটির কার্যক্রম চলাকালীন প্রথম আলো দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে যে বিশেষ নীতি গ্রহণ করেছিল, সেই নীতিটি অনেকাংশেই ছিল সেনাসমর্থিত ও সেনানিবাস থেকে পরিচালিত ঐ অগণতান্ত্রিক সরকারকে সমর্থনের নামান্তর। সেসময় দেশের বিরাজনীতিকরণের যে প্রক্রিয়া একটি বিশেষ গোষ্ঠী শুরু করে তার বাস্তবায়ন করছিল, তার সমর্থনে প্রথম আলো একাধিক মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত প্রতিবেদনটি হচ্ছে ১১ জুন, ২০০৭ সালে প্রকাশিত “দুই নেত্রীকে সরে দাঁড়াতে হবে”। এটি লিখেছিলেন সম্পাদক মতিউর রহমান নিজেই।

প্রতিবেদনটিতে তিনি ১/১১ সরকারের গণধিকৃত মাইনাস-টু ফর্মুলার সমর্থনে বহু শব্দ ব্যায় করেছেন। ঐ সময় প্রথম আলোর পাঠক যারা ছিলেন তারা তো বটেই, পরে আরও অনেকেই সমালোচিত ও বিতর্কিত এই মন্তব্য প্রতিবেদনটি পড়েছেন। মন্তব্য প্রতিবেদনটি পড়ে যে উপলব্ধিটা অনেকের মাঝেই এসেছিল, যেটা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে হয়তো এই মুহুর্তে মতিউর রহমান নিজেও স্বীকার করবেন, যে, মতিউর রহমান ১/১১-এর বিরাজনীতিকরণ চেতনার প্রতি পুরোপুরি সমর্থন জানিয়েই নিজের অবস্থান নির্ধারণ করেছিলেন, সেই সাথে করেছিল প্রথম আলো। বিশেষ প্রতিবেদনটি পড়ে সহজেই এটা মনে হওয়া সম্ভব, তিনি যেন অনেকটা তাড়াহুড়োর মত করে দুই নেত্রীকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য যতটা সম্ভব বিবরণ সেই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছেন।

১/১১-এর সময়ে মতিউর রহমান এবং তার প্রথম আলো যে ভূমিকা পালন করেছিল, সহজেই বোধগম্য হয় যে ১/১১-এর অগণতান্ত্রিক নীতির প্রতি, বিশেষত মাইনাস টু ফর্মুলার প্রতি তাদের তীব্র সমর্থন না থাকলে ঐ ধরণের ভূমিকা নেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হত না। এখন প্রথম আলোর পক্ষে কোন ব্যাক্তি বা স্বয়ং মতিউর রহমান জবাবে বলতে পারেন, তাদের ভূমিকা ঐ সময়ে এমন ছিল না যাতে সে কথা মনে হতে পারে। সেক্ষেত্রে বলতে হয়, তারা তো পত্রিকা চালান, পত্রিকায় মন্তব্য লেখেন, তারা সেগুলো করেন নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। কিন্তু অবশেষে সব মিলিয়ে ব্যাপারটি দেখতে কী রকম হচ্ছে বা তাদের পরিবেশিত সংবাদ ও মন্তব্যের দ্বারা পাঠকদের মাঝে পত্রিকার নীতিমালা প্রসঙ্গে কী ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে, এটা অবশ্যই তাদের চেয়ে আমরা অর্থাৎ পাঠকরা ভালো বলতে পারব। সেক্ষেত্রে ১/১১-এর সময়ে প্রথম আলোর পালিত ভূমিকা যে সৎ সাংবাদিকতার আদর্শবিবর্জিত ছিল এবং বিতর্কিত ছিল, এটি কেউ দাবী করলে সম্ভব তার প্রতি আর রাগ দেখানো চলে না।

নীতিবিসর্জনের জন্য একবার ক্ষমা চাওয়া প্রথম আলো পত্রিকার বিশ্বাসযোগ্যতা ও সাংবাদিক সততা এখন কতটা প্রশ্নাতীত, সে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, মতিউর রহমানের সেই প্রতিবেদনটির একটা মূল ভিত্তিই ছিল তৎকালীন যৌথ বাহিনীর হাতে আটক ও নির্যাতিত রাজনীতি-ব্যবসায়ীদের স্বীকারোক্তি। তাদের স্বীকারোক্তির উপর ভিত্তি করেই যেন বদলে গিয়েছিল প্রথম আলোর শব্দ নির্বাচনের ধরণ, “দূর্নীতিপরায়ন” থেকে এক লাফে তারা চলে গিয়েছিল “দূর্নীতিবাজ”-এ। সেসব স্বীকারোক্তিকে গভীর ভাবে আমলে নিয়েছিল বলেই সেসময়ে প্রথম আলোতে অনেক রাজনৈতিক নেতার (শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া সমেত) বিরুদ্ধে খোলাখুলি ভাবে কলম ধরাধরি চলেছিল।

সে সময়ে সম্পাদিত সবগুলো পাপের ব্যাখ্যস্বরূপ মতিউর রহমান একটি কথাই বলেছেন বলে পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে- চাপে পড়ে তখন তাকে অনেক কিছু করতে হয়েছে। এই চাপে পড়বার ব্যাপারটিই বা কতটা গ্রহণযোগ্য? তিনি কতদিন ধরে চাপে পড়ে ছিলেন? কিসের ভিত্তিতে তাকে চাপে ফেলা হল? তার কী কোন বিশেষ দুর্বলতা ছিল? যদি না-ই থেকে থাকে, তবে তিনি ঐ অতগুলো মাস চাপের মধ্যে থেকেই শুধু যা মনে আসল লিখে গেলেন? কোনটি সত্য?

আর তা যদি মেনে নিতেই হয়, তাহলে আমরা এই জেষ্ঠ্য সাংবাদিকের দৃঢ়তা সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করব? বর্তমানে ও ভবিষ্যতেই বা তার বিশ্বাসযোগ্যতার ব্যাপারে কতটা নিশ্চিন্ত থাকব? সেসময়ে তো বাংলাদেশে এমন কিছু ব্যাক্তিত্বও ছিলেন, যারা দেশে বসবাস করেই একাধিক গণমাধ্যমে ১/১১ সরকারের সাংবিধানিক বৈধতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করতেন, তাদের বেআইনী কর্মকান্ডের একটিরও সমালোচনা করতে ছাড়েন নি। সম্পাদক নুরুল কবীর, আইনজীবি ব্যারিস্টার রফিকুল হক, অবসরপ্রাপ্ত আমলা আসাফউদ্দৌলা প্রমুখ নাম গুলো কি আমরা ভুলে গেছি? তারাই তো দেশে অবস্থান করেও, সরকারের দমনমূলক মনোভাব উপেক্ষা করে তাদের অপকর্মের কথা একের পর এক ফাঁস করে গিয়েছেন। বহুল প্রচারিত দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান তবে কেন পারেন নি? কেন তার পত্রিকাকে কিছু সেনা কর্মকর্তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে হয়েছিল? এরপরও সেনা কর্মকর্তাদের রাজনীতিতে প্রবেশের ঘটনার সমালোচনা প্রকাশ করার কোন নৈতিক অধিকার কি প্রথম আলোর থাকে? সাংবাদিক হিসেবে মতিউর রহমানের ও পত্রিকা হিসেবে প্রথম আলোর সততাই বা এখন কতটা প্রশ্নাতীত?

মহানবী (সঃ)-এর কার্টুন এঁকে তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে প্রথম আলো সম্পাদক জাতীয় মসজিদের খতিব ওবায়দুল হক সাহেবের কাছে করজোরে ক্ষমা চাচ্ছেন। কথিত আছে, ঐ জটিল পরিস্থিতিতে পিঠ বাঁচানোর জন্য প্রথম আলোর ঊর্দ্ধতনেরা সাংবাদিক ইউনিয়নের জাতীয়তাবাদী অংশটির নেতৃবৃন্দের শরণাপন্ন হয়েছিলেন।

যে সরকারের বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত যৌথ বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে মতিউর রহমান অত বড় বড় মন্তব্য প্রতিবেদনগুলো লিখেছিলেন, পরে আতান্তরে পড়ে নিজের সমস্ত কর্মের দোষ তিনি চাপিয়েছেন সেই সরকারের ঘাড়েই। অর্থাৎ এক সময়ে যেসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে প্রথম আলো রাজনীতিবিদদের নিয়ে লম্বা লম্বা প্রতিবেদন ছেপেছিল, তাদের সম্পাদক সেই ভিত্তিগুলোকেই অস্বীকার করে নিলেন। সেই সময়ে অনেক রাজনীতিবিদও যারা শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন, পরে তারা স্বীকার করেছেন তারাও অনেকেই চাপে পড়েই করেছেন সেসব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন একবার বলেওছিলেন, তার দলের নেতাদের তিনি তখনই বলে দিয়েছিলেন যে ১/১১ সরকার নির্যাতন করলে নেতাকর্মীরা যেন নিজেদের বাঁচাতে সরকার যা শুনতে চায় তাই বলে দেয়। মতিউর রহমানের মতে তিনিও নিজেকে বাঁচাতে সেই সরকারের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন। তাহলে আমরা কি ধরে নিব যে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে লেখা প্রথম আলোর প্রতিটি শব্দই ছিল আসলে নিজেদের বাঁচাতে সেনানিবাস থেকে পরিচালিত সেই অগণতান্ত্রিক সরকারের খুশিমতন রচিত গল্প ও উপন্যাস।

১/১১ সরকারের সময়ে পালিত বিশেষ ভূমিকার জন্য গতকালই সংসদ অধিবেশনে প্রথম আলোর উপর দিয়ে এক চোট ঝড়-ঝাপটা বয়ে গেল। একাধিক মন্ত্রী ও এমপি প্রথম আলো পত্রিকার, বিশেষ করে সম্পাদক মতিউর রহমানকে জবাবদিহি করার জন্য স্পিকার কাছে আর্জি জানান। এই প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, বিশেষ বিষয়ে নিয়ে লেখার আগে তার সাথে প্রথম আলো প্রতিবেদকের আলোচনা করা উচিত ছিল, যেটি তাদের কেউ করে নি। স্পিকার আরও বলেন যে পরে সে বিষয়ে প্রতিবাদ জানালেও প্রথম আলোতে তা পুরোপুরি ছাপা হয় নি। এই পর্যায়ে কোন কোন সংসদ সদস্য উঠে দাঁড়িয়ে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার পেছনে মতিউর রহমানকে দায়ী করতে থাকেন ও তার বিচার দাবী করেন। মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী মতিউর রহমানের বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শাহজাহান খান সহ অন্যান্য একাধিক মন্ত্রী প্রথম আলোর বর্তমান ভূমিকাকে আরেকটি ১/১১ ডেকে আনার ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন। এই পর্যায়ে সংসদ সদস্যরা সরব হয়ে দাবীটির প্রতি সমর্থন জানান। অবশ্য মন্ত্রী ও এমপিদের আক্রমণের শিকার শুধু প্রথম আলোকেই নয়, আমাদের সময় ও সমকালকেও হতে হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের সময়ের কোন প্রতিবেদনে ব্যবহৃত শব্দের ব্যাপারে স্পিকার আপত্তি জানিয়েছেন।

ওয়ান ইলেভেন সরকার ও সেসময়কার প্রথম আলোকে নিয়ে এত কথা বলার কারণ নিশ্চয়ই আছে। ‘সেসময়ে’ যে প্রথম আলো একটি অঘোষিত সেনাশাসিত সরকারের সমর্থনে টানা দুটি বছর ভূমিকা পালন করে গিয়েছে, একজন সেনা কর্মকর্তার রাজনীতিবিদে রূপান্তরের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে প্রথম আলোর কতটুকু নৈতিক অধিকার অবশিষ্ট থাকে? আমরা বারবার বলছি প্রথম আলো সেসময়ে বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছিল। ভূমিকাটি কি এখনও বিতর্কিত আছে? মতিউর রহমানের ক্ষমাপ্রার্থনার মধ্য দিয়ে কি এটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়নি যে তার অধীনে প্রথম আলো সেনাসমর্থিত ও অগণতান্ত্রিক সেই সরকারের সমর্থনে কাজ করেছিল? এই প্রতিষ্ঠিত সত্যটিকে একপাশে সরিয়ে রেখে পত্রিকাটির কর্মীরা অন্যান্য সেনা কর্মকর্তাদের রাজনীতিতে প্রবেশের ব্যাপারে বক্র মন্তব্য করবেন, এটি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে? দূরতম অতীতে ঘটে যাওয়া সেনা কর্মকর্তাদের রাজনীতিতে প্রবেশের ঘটনার সমালোচনা করার আগে কি তাদের উচিত হবে না অদূর অতীতে তাদের নিজেদেরই সেটি সমর্থন করার ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া?

এই পর্যায়ে মিজানুর রহমান খান বলতে পারেন, তিনি শুধু সেনা কর্মকর্তার রাজনীতিতে প্রবেশের ঘটনার উল্লেখ করেছেন, একজন সাংবাদিক যেভাবে তথ্য উপস্থাপন করে ঠিক সেভাবে। এটা বলে থাকলে তা ভুল হবে না। পুরো প্রতিবেদনে তিনি একবারও সেনা কর্মকর্তার রাজনীতিতে প্রবেশের কোন সমালোচনা বা প্রশংসা করেননি। প্রাসঙ্গিক যেসব তথ্য তিনি যেখান থেকেই পেয়েছেন, তিনি সেগুলো উল্লেখ করেছেন মাত্র। এই পরিস্থিতিতে সমালোচনার প্রসঙ্গটি আসছে এ কারনে যে, সেনা কর্মকর্তার রাজনীতিতে প্রবেশের ব্যাপারে মিজানুর রহমান খানের উল্লিখিতি বিবরণকে যদি কেউ সমালোচনা হিসেবে নিয়ে থাকেন, তবে তার জেনে রাখা উচিত হবে যে এই বিবরণের প্রকাশস্থল পত্রিকাটি নিজেই দীর্ঘদিন যাবত একটি সেনাসমর্থিত অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক সরকারের সমর্থনে সক্রিয় থেকেছে, এবং পরে এই ব্যাপারে পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারপ্রধানের সরাসরি প্রশ্নের মুখে সেই ভূমিকার জন্য মাপ চেয়ে সেই গণতান্ত্রিক সরকারপ্রধানের উষ্মা থেকে তাৎক্ষণাতের জন্য রক্ষা পেয়েছে।

নোয়াব-এর নেতাদের সামনে প্রধানমন্ত্রী ১/১১-এ প্রথম আলোর বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেয়ার সময় মতিউর রহমানের দিকে আঙ্গুল তুলে ধরেন। হতবুদ্ধি মতিউর রহমান "চাপে পড়ে করেছি" বলে সব পাপ ঝেড়ে ফেলবার প্রচেষ্টা চালান।

এক্ষেত্রে প্রথম আলোর একটি অনন্য বৈশিষ্ট্যের উপর আলোকপাত করতেই হচ্ছে। প্রথম আলোর একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- কখনও বিদেশী লেখক ও সাংবাদিকদের বই ও সাক্ষাৎকার, কখনও মার্কিন সরকারের অবমুক্ত করা কোন গোপন দলিলপত্র ব্যবহার করে কিংবা কোন মৃতব্যাক্তিকে উদ্ধৃত করে চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করা। প্রথম আলোর প্রতিবেদকরা খুব ভালো করেই জানেন- প্রাথমিক উৎস থেকে সংগ্রহ করে সেসব দলিলপত্রে উল্লিখিত তথ্যগুলোর সরবরাহকারীরা প্রধানত হচ্ছেন সংস্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোতে নিযুক্ত কূটনীতিকেরা। সেসব কূটনীতিকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও সরবরাহকৃত তথ্যের ধরণ যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের উপর পুরোপুরি ভাবে নির্ভর করে, এই বাস্তবতাটুকু প্রথম আলোর প্রতিবেদকদের না জানবার কথা না। তো, শেষ পর্যন্ত প্রথম আলোর এই বৈশিষ্ট্যটির হয়তো সমালোচনা করা যেত না। কিন্তু অসুবিধা হচ্ছে, এসব লেখা বা দলিলের বেশীরভাগই একপেশে। আরও দুঃখের ব্যপার হচ্ছে, এরকম ক্ষেত্রে প্রথম আলোর নিজেদের পক্ষ থেকে তদন্তের চেষ্টা করার লক্ষণ খুব সহজে দেখা যায় না।

একটি কথা বলে শেষ করতে চাই। ১/১১-এর সময়ে প্রথম আলোর বিতর্কিত ভূমিকা ও পরে প্রধানমন্ত্রীর সম্মুখে তার জন্য মাপ চাওয়ার ঘটনায় মূলত যে বাস্তবতাটা উপলব্ধি করা যায়, সেটি হচ্ছে- প্রথম আলো ইতমধ্যেই অনেক পাঠকের কাছেই এমন একটি পত্রিকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে যেটি ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর রাজনৈতিক আচরণ মোতাবেক নিজেদের নীতির এদিক সেদিক করে থাকে। এক্ষেত্রে সরকারটি গণতান্ত্রিক না অগণতান্ত্রিক, সরকারের কোন সাংবিধানিক বৈধতা আছে কি নেই, তারা সেসব বিচার করে না, করার কথা না। সেক্ষেত্রে, একজন নিতান্তই সাধারণ ও সাদামাটা পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জানতে চাওয়া যেতে পারে যে, সেই মাপ চাওয়ার ঘটনার পর আবারও কি পত্রিকাটি ক্ষেত্রবিশেষে এমন কোন ভূমিকা পালন করছে যার জন্য পরবর্তী কোন ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শনের অধিকারী সরকারপ্রধানের উষ্মা থেকে বাঁচবার জন্য তাদেরকে তার পূর্ববর্তী সরকারকে দায়ী করে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য মাপ চাইতে হবে?

Click here to get the full resolution.

(This article is a re-post from Bangladesh First)

It’s all about what we get used to and later what we assume the standard to be. You never know which comes first, our assumption or our getting used to. Years ago, say in late 90s or early 2000s, we had an assumption about the standard time it takes to travel certain distances inside Dhaka city. Gradually that standard time has become longer. Now, amazingly, we don’t really get stunned or the it doesn’t occur to us that we are spending the time in Dhaka’s streets nearly twice than what it was a decade ago, until someone comes up and mentions it was half of the today’s a decade ago.

We probably are waiting for some confession from any government official over Dhaka’s unbelievable traffic, like the finance minister A.M.A Muhith did over regulating commodity prices and breaking up syndicate. He simply ended up saying his government has been unable to have control over it. Dhaka’s traffic is almost catastrophically growing higher, offering all annoyances to Dhakaite dwellers, passengers, drivers and traffic police personnel too. And who knows, any responsible government official may show up someday with a confession that all have been done to fix and it was failure which eventually has come.

Isn’t it the time to think something beyond of just getting annoyed or, just regretting or, even coming up with ridiculously short-lived plans?

Rumi Ahmed
18 July, 2010. USA

Updated: Amar Desh online version again available.

Article 39 of the Constitution of Bangladesh:

39. Freedom of thought and conscience, and of speech.
(1) Freedom or thought and conscience is guaranteed.
(2) Subject to any reasonable restrictions imposed by law in the interests of the security of
the State, friendly relations with foreign states, public order, decency or morality, or in relation
to contempt of court, defamation or incitement to an offence-
(a) the right of every citizen of freedom of speech and expression; and freedom of the
press, are guaranteed.

Bangladesh Supreme Court just struck down the Awami League government’s ban on popular newspaper Amar Desh. Amar Desh online version is now available.


Based on precedence of two previous cases concerning Daily Ittefaq and Daily Banglar Bani, this verdict was very straightforward and expected. Accordingly High court verdict came with very clear judgment and an appeal by the government was a very shameful and surprising act. Esp when the government itself declared that Government had nothing to do with the ban, it was done by the district administrator of Dhaka.  And more shameful and less surprising was the act of the chamber judge of Supreme Court, Justice S K Sinha. Without letting any hearing to be allowed, he simply stayed the judgment of High court.

It is shameful because the chamber judge just violated his oath to uphold Bangladesh Constitution by allowing a Newspaper to remain closed illegally. It is not surprising considering the precedences in which  the court of the Chamber Judge is being used more frequently by the government to stall high court verdicts unfavorable to the Government.

More interestingly a case in pending in the Supreme Court in this regard. A contempt of court case was filed against Amar Desh editor Mr. Mahmudur Rahman  because Amar Desh quoted a senior lawyer of the supreme court, suggesting the same allegation against the chamber bench. In the report Daily Amar Desh quoted senior most lawyer of Supreme court and ex justice Mr TH Khan as saying, ” Chamber Judge means a stay of high court order”.

And yet more interesting was the fact that Mr Mahmudur Rahman is now ‘shown arrested’ in a case of anti corruption Commission for not submitting wealth report. In a recent spate of Supreme Court verdicts,  all acts of anti corruption commission were deemed illegal. Persons convicted by ACC are all set free and many of them are in important positions of current government. Even our current prime Minister challenged the wealth submission order of ACC, never submitted her wealth report and fought a lengthy court battle.

Sometimes, acts of the government, its law enforcement apparatus and the attorney General’s office seems bizarre. Yet again, more bizarre is the silence of the collective conscience of the country, our columnists-our editors-our TV anchors, regarding this total mindless acts of our government.


Rumi Ahmed is a Bangladeshi blogger contributing from United States.

Rumi Ahmed
15 July, 2010. USA

Mahmudur Rahman printed stories involving allegations of corruption about the Prime Minister’s family and her cabinet.

He is in prison and his newspaper has been forced to stop publishing.

Shamsher Mobin Chowdhury wrote an article in the Daily Star analyzing BNP’s victory in the Chittagong City Corporation elections.

He is in prison.

Shahiduddin Chowdhury said that Bangabandhu cannot avoid responsibility for the forty thousand people killed during his administration.

He is brutalized, denied medical treatment, and then sent to prison.

The list goes on and on.

Here’s the latest entry:

Mohiuddin Khan Alamgir’s parliamentary membership is cancelled; he is no longer a MP. The seat, Chandpur-1, will be declared vacant by the Election Commission, and a by-election will be held to it.

His BNP opponent, Ehsanul Haque Milon, has been kept in the prison for the last one year, on absurd charges such as stealing wristwatches, solely so that when this moment would come, Alamgir would have some slight edge over his younger, more telegenic opponent.

Here is the Awami League 2008 Election Manifesto, the much-celebrated “Charter for Change:

“Good governance through establishing Rule of Law and avoiding Political Partisanship. Human rights will be established on a strong footing with a view to ensuring rule of law. Independence of the judiciary will be ensured and the Institutions of the State and Administration will be freed from partisan influence.”

What is more partisan than keeping an individual in jail for more than a year just so that he will not be able to mount an effective challenge in an election?

None of this should be news to anyone. Milon’s daughter, Tanzida Nahar Haque, said as much in a recent press conference: “”It is a matter of regret that political enmity can be so ruthless and inhuman.”

It is, indeed.

After Major Jasimuddin in Bhola, Mohiuddin Khan Alamgir is the second Awami League coalition candidate whose nomination has been found illegal: which means he should not have been able to contest the election in the very first place. There are at least two more AL and Jatiyo Party MPs whose nomination will also similarly be cancelled. Then there is Sheikh Helal, the MP from Bagerhat-1, who also won an election under a conviction.

These are five members of parliament who should not have even been eligible to contest the last parliamentary elections. That they still became MPs lends proof of the BNP’s allegation that the last caretaker government under Fakhruddin Ahmed and the Election Commission did everything in their power to help Awami League. If five Awami League coalition candidates were allowed to contest in direct contravention of the laws, how many were made to win by the administration’s covert and overt manipulation on election day?

2008 is past, the string of by-elections is now the future. There is no doubt that Awami League will try their very hardest to win, through coercion and force, if necessary. Even if they win, such victories will do incalculable long-term harm to this government. There are only bad options in front of Sheikh Hasina from now on. One fears, she will stay true to character, and continue to choose only the very worst ones.


Rumi Ahmed is a Bangladeshi blogger contributing from United States.

এই নিবন্ধটি লেখক সংঘে প্রকাশিত হয়েছে।

মুহম্মদ তাওসিফ সালাম
২৩ জানুয়ারি, ২০১০

তিনি বোর্ডের সভাপতি। আমি জানিনা বিসিবি সংবিধানে পদবী অনুযায়ী ঊর্দ্ধতন-নিম্নস্তন অবস্থানের ক্রমটি কি রকম, শীঘ্রই জানতে হবে। কিন্ত আপাতদৃষ্টিতে তিনি বোর্ডের সভাপতি, দীর্ঘকাল যাবৎ তার পরিচয় তিনি একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যাবসায়ী, বর্তমান সরকারী দলের একজন নেতা এবং হয়তোবা একজন দাতাও। বর্তমানে তার পরিচয়ে আরও মাত্রা যুক্ত হয়েছে – তিনি ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী আইন প্রণেতা। অতএব বাইশ তেইশ বছর বয়সী বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্যাপ্টেন, সে যে-ই হোননা কেন, ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির বিচারে অবশ্যই অনেক নীচের সারিতে অবস্থান করছেন।

লক্ষ্য করুন এখানে কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করিনি। উল্লেখ করিনি কেননা উল্লিখিত রাজনৈতিক অবস্থানের ব্যাক্তিবর্গ দেশের উভয় বড় দলেই বিদ্যমান এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গির উল্লেখযোগ্য পার্থক্য এখনও কারও গোচর হয়নি। অতএব এই লেখাটি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত কোন নিবন্ধ হিসেবে চিহ্নিত না হোক, সেটাই চাইছি।

বিসিবির সভাপতি এ.এইচ.এম মোস্তফা কামাল লোটাস সম্প্রতি জনসমক্ষে ন্যাশনাল টিমের বিরুদ্ধে যে উষ্মা প্রকাশ করেছেন, তা অবশ্যই পর্যালোচনার দাবিদার। তিনি কি বলেছেন সেটা ইতমধ্যেই সবার জেনে যাওয়ার কথা। তাও পুরো ঘটনাটা সংক্ষেপে নীচে একটা ছোট প্যারায় তুলে ধরা যাক।

হোটেল সোনারগাঁওয়ে ন্যাশনাল টিমকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্যে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি লোটাস কামাল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কামাল প্লেয়ারদের সম্পর্কে বলেন- তারা দায়িত্মজ্ঞানহীন; তাদের প্রয়োজনীয় কমিটমেন্ট নেই; খেলার মাঝে জেতার ষোলআনা ইচ্ছা নেই; এক রানের জন্য লিড নিতে পারেনা; ড্রেসিং রুম থেকে তাদের উদ্দেশ্যে কোন কাজের মেসেজ যায় বলে মনে হয়না; কোন কমিউনিকেশান নাই। এসব কথা চলতে থাকা অবস্থাতেই হতভম্ব প্লেয়ার, প্রেস ও অন্যান্যরা একে অন্যের দিকে তাকাতে থাকেন। তারা হতভম্ব হতেই পারেন, কারন তারা তো জানতেন এখানে পুরষ্কার, সংবর্ধনা, ফটোসেশন ইত্যাদি সুন্দর সুন্দর জিনিষপত্রের সাথে থাকবে সুন্দর সুন্দর কথা। গোলাগুলির আশংকা তাদের দূরতম কল্পনাতেও ছিল না। প্রতিরক্ষামূলক ব্যাবস্থা নেই উপলব্ধি করে এক পর্যায়ে ন্যাশনাল টিম ক্যাপ্টেন সাকিব আল হাসান প্রতিআক্রমণকে শ্রেয়জ্ঞান করেন, মাইক্রোফোন হাতে বলেন, “আমাদের দায়িত্মবোধ নিয়ে যারা কথা বলেন, আশা করি কথা বলার সময় তারা নিজেদের দায়িত্মজ্ঞান বজায় রাখবেন”। এই মন্তব্য শোনার পর নাকি লোটাস কামালের চেহারা হয়েছিল দেখার মত। বক্তব্যদান শেষ হওয়ার পর সাকিবকে কেউ একজন ডেকে নিয়ে যায় লোটাস সাহেবের কাছে। সম্ভবত অলি গলিতে বড়ভাইরা যেমন ‘চিপা’-এ নিয়ে যায় অনেকটা সেরকম ঘটনা। চিপা অবশ্য কারওরই দৃষ্টির অগোচর ছিলনা, সেখানে সাকিবকে দেখা গিয়েছে নত মস্তকে লোটাস কামালের দাপটাদাপটির সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে। সাকিব সেখানে লোটাস কামালের কাছে দুই হাত জোড় করেছেন, ক্ষমাই চেয়েছেন হয়তো। সেই ফটো আবার দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকায় ছাপাও হয়েছে। তেলেসমাতি আর কাকে বলে!

লোটাস কামাল অবশ্য কিছু ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তিনি বলেছেন তিনি একজন প্রফেশনাল। তিনি চাইবেন পারফর্ম্যান্স। তার দাবি থাকবে জয় এবং তার কাছে প্লেয়ারদের কমিটমেন্টও হতে হবে জয়। ম্যাচ শেষে সেটা জয় না হয়ে যদি জয়ের কাছাকাছিও হয়, সেটা তিনি বিবেচনা করে দেখবেন। কিন্তু প্লেয়াররা খেলার আগে জেতার কথা না বলে বলবে ভালো খেলার জন্য খেলব, ওটি হবে না।

লোটাস কামালকে বাংলাদেশের আপামর ক্রিকেটপ্রেমী ও একনিষ্ঠ দর্শকদের একজন ধরে নিলে তার ক্ষোভের বিষয়বস্তু উপলব্ধি করা সহজ। তার তুলে ধরা বেশিরভাগ পয়েন্টকেই ক্রিকেটের সমঝদার ও না-সমঝদার, সবাই সমর্থন করবেন।

কিন্তু কয়েকটা ব্যাপার মেলানো যাচ্ছেনা। যেমন লোটাস কামালের স্থান-কাল-পাত্র জ্ঞান। তিনি বলেছেন তিনি প্রফেশনাল। সম্ভবত বোঝাতে চেয়েছেন যে তিনি একজন নেতা যিনি প্রতিষ্ঠানের অর্গানগুলোর কাছ থেকে সর্বোচ্চ পারফর্ম্যান্স আশা করবেন, এবং সেটা সম্ভব করার জন্য নরম-গরম কোন পন্থা অবলম্বন করতেই দ্বিধাবোধ করবেন না।

কথা হচ্ছে, একজন প্রফেশনাল কি কখনও বিশ্ববাসীকে জানিয়ে সমস্ত মিডিয়াকে সামনে রেখে তার অধীনস্তদের গুষ্টি উদ্ধার করবেন? এরকম নজির কি আছে কোথাও? একজন প্রফেশনাল যিনি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষে অবস্থান করেন তাকে অবশ্যই তার সাবঅর্ডিনেটদের প্রতি অম্ল ও মধুর দুই আচরণই করতে হবে, নেতৃত্বরক্ষা ও দক্ষতা বাড়ানো, উভয় উদ্দেশ্যেই। কিন্তু তিনি কি সেই প্রতিষ্ঠান আয়োজিত কোন সংবাদ সম্মেলনে কোনদিন তার কর্মীদের এক হাত নিবেন? এতে তার কর্মীদের মনোবল কোথায় যাবে? নেতা হিসেবে এ ধরণের পেটপাতলা লোক কি কখনও নিজেকে প্রফেশনাল দাবি করতে পারে?

একজন ফ্যান হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের প্রতি লোটাস কামালের সমর্থন নিয়ে কোন সন্দেহ নেই, এবং টিম জিততে না পারায় তিনি হতাশ। তো এ ধরণের সমর্থক তো দেশে আরো ১৬ কোটি আছেন। জিততে না পারলে তারাও হতাশ হন। অনেকে প্লেয়ারদের গ্যালারি থেকে দুয়ো দেন, কেউ কেউ মারতেও ধরেছিলেন। তো এদের সাথে আর বিসিবি প্রেসিডেন্ট লোটাস কামালের তফাত কি রইল? তিনি একজন ক্ষমতাবান এমপি, যার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে খোদ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকেই নাকানি চোবানি খেতে হতে পারে। এই অহংকারই কি লোটাস কামালের বোধবুদ্ধিকে হজম করে নিয়েছে? সাকিবকে দুটো কথা শোনালে কেউ কিছু বলার নেই, বরং প্রতিবাদ করলে সাকিবকেই হার মেনে ক্ষমা চেতে হবে, এটা জেনেই কি তিনি বিষ উগরে দিলেন?

মনে পড়ে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের একজন বিশিষ্ট নেতা জয়নাল হাজারী জামিনে মুক্ত হওয়ার পর জানিয়েছিলেন বাকি জীবন ক্রিকেট নিয়ে থাকতে চান, প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রিয় সভানেত্রীর কাছে আবেদন করবেন বিসিবির দায়িত্মটা তার হাতে দেওয়ার জন্যে। তখন আমরা বলেছিলাম, বাহ্! এবার তো আমাদের ব্যাটসম্যানরা আউট হলে আর ড্রেসিং রুমে যাবে না, মাঠ থেকে সোজা আত্মগোপনে যাবেন। প্রাণের ভয় কার নেই? বিশেষ করে টিপু সুলতানকেই বা কে চেনে না। তো সেটা ছিল জয়নাল হাজারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

লোটাস কামালকে যখন বিসিবির প্রেসিডেন্ট বানানো হল, তখন সত্যিই ভেবেছিলাম যে অন্তত এই অ্যাপয়েন্টমেন্টটা অ্যাটর্নি জেনারেল বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মত হয়নি। লোটাস কামাল, আরেফীন সিদ্দিকী বা মাহবুবে আলম এনারা সবাইই রাজনৈতিক লোক ও নিয়োগও পেয়েছেন একান্ত রাজনৈতিক বিবেচনায়, কিন্তু লোটাস কামালের বিসিবির প্রেসিডেন্ট হওয়াতে তেমন নিরাশ হইনি। তাকে একজন সফল ব্যাবসায়ি ও দক্ষ ব্যাবস্থাপনার লোক বলেই জানি। কিন্তু তিনি সম্প্রতি আমাদের নতুন করে ভাবতে বসিয়ে দিলেন।

ঘটনা অতিবাহিত হতে হতেই সাকিব সমর্থন পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রায় সব ক্রিকেটারের পক্ষ থেকেই। এককালের ক্যাপ্টেনগণ যেমন নাইমুর রহমান দূর্জয়, খালেদ মাসুদ পাইলট এবং আমিনুল ইসলাম বুলবুল, এনারা সবাই বোর্ড সভাপতির আচরণকে ঔদ্ধত্য হিসেবে দেখছেন। সভাপতিও যে সমর্থন পাননি তাই বা বলি কি করে। দেশের স্বঘোষিত সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক যারা এই সভাপতির নিয়োগে উদ্বেল হয়ে উঠেছিল, তারা মোটামুটি চেপেই গিয়েছে এই পুরো ঘটনাটা।

তবে এটা ঠিক যে তাৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া দেখানোতে সাকিব আল হাসানেরও কিছুটা ছেলেমানুষি প্রকাশ পেল। লোটাস কামাল বিসিবির প্রেসিডেন্ট, আওয়ামী লীগের ক্ষমতাধর এমপি ও আবাহনী ক্রিকেটের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলে বলছি না। সাকিব আল হাসান জাতীয় দলের ক্যাপ্টেন। এ ধরণের তাৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া দেখানো তার শোভা পায় না নিশ্চয়ই। এ কথা সত্য যে ক্যাপ্টেন হিসেবে তিনি বোর্ডের কাছ থেকে আরও সমর্থন আশা করেন, অন্তত পক্ষে লোটাস কালামের এই লোকসমক্ষে রূঢ় আচরণ আশা করেন না। কিন্তু খেলোয়াড় হিসেবে এসকল পরিস্থিতিতে নিঃশব্দে সামলে ওঠার গুণটা তার থাকা জরুরী। বোঝা গেল এখনও সেই গুণ পরিপক্ক ভাবে রপ্ত হয়নি। তাড়াতাড়ি রপ্ত হওয়া প্রয়োজন। আর লোটাস কামাল সাহেব, বেশ পরিণত বয়স্ক মানুষ, তাকে আর কি শেখার জন্য বলব, শুধু বলা যেতে পারে, স্থান-কাল-পাত্র জ্ঞানটা আরেকটু ঝালিয়ে নিলে সবারই মঙ্গল।

তবে সবশেষে এটা না বলে উপায় নেই, লোটাস কামালের মত মানসিকতার দিক থেকে পিছিয়ে থাকা কর্মকর্তাদের অভিভাবক হিসেবে পেয়ে আমাদের প্লেয়াররা এগিয়ে থেকেও সামগ্রিক ভাবে হয়তোবা পিছিয়েই থাকবেন। এদের কাছ থেকে প্লেয়াররা যখন স্বান্ত্বনা চান তখন পাবেন ধিক্কার, আর যখন সমর্থন চান তখন পাবেন আক্রমন। আর এক সময় যখন এই প্লেয়াররা সব কাটিয়ে উঠে সাফল্য পাবেন, তখন এই কর্মকর্তারাই লজ্জা বিসর্জন দিয়ে সাফল্যের ক্রেডিট তুলে নিবেন নিজের কাঁধে। এনারা কর্মকর্তা হিসেবে নন, বরং গ্যালারিতে বসে হৈচৈ করবার যোগ্য। অতএব এনাদের গ্যালারিতে পাঠিয়ে দেয়া হোক। এনারা বরং হসপিট্যালিটি বক্সে বসে সপরিবারে খেলা দেখুন আর বুঝে না বুঝে যা খুশি মন্তব্য করুন, যেগুলো কেউ শুনবে না। বোর্ড বরং ছেড়ে দেওয়া হোক তাদের হাতে যারা প্লেয়ারদের সাথে ব্যাক্তিগত আলোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে আপত্তির কথা তখন জানাবেন, অন্তত সংবাদ সম্মেলনে উচ্ছৃংখলতার জন্ম দিবেননা, প্লেয়ারদের স্পিরিটের বারোটা বাজাবেননা।

* * * * *

মুহম্মদ তাওসিফ সালাম একজন বাংলাদেশী ব্লগার।

Rumi Ahmed

The recent controversy on Chevron deal and the follow up political rumblings surrounding the PM’s son and her energy advisor on one side and Amar Desh editor on the other side has captivated nation’s attention for the last few weeks. While we debate how freedom of speech is being used to trash political opponents, or how political thuggery is trying to gag free speech, the very important issue of a specific corruption allegation is getting crowded out.

Let’s keep Mr Sajib Wajed or Mr Mahmudur Rahman out of the issue. Mahmudur rahman is making full use of the victimhood, and his showmanship on this issue is ugly. And Mr Wajed is also dragged in this issue unnecessarily or prematurely. It is an unfortunate fact of life for the children of politicians of Bangladesh and beyond that they are always under close scrutiny and often victim of rampant character assassination attempts.

However, leaving these individuals aside, we are still left with a specific corruption allegation that has merit enough to demand further discussion and scrutiny. Amar Desh reports a specific corruption report with copies of leaked official correspondence.

The specifics of the corruption allegation are self revealing. A $52 million job was allocated to Chevron without required transparency that includes a tender process. And while protesting the report, PM’s energy advisor repeatedly misrepresented facts. While he said there was no bid in three tenders, the fact is that the Government cancelled earlier lowest bid from Korean Company Hyundai only to award the job to Chevron. He also lied about his agenda for the US trip.

Instead of relying on Amar Desh, let’s turn to the premiere newspaper of Bangladesh, the Daily Star. The Daily Star printed at least seven reports on this specific issue. (Interestingly, while Amar Desh report is based on government documents, the Daily Star series report, as usual, is based on unnamed sources. But let’s leave this aside, as no one would accuse the Daily Star of partisan hatred of the current government, or Mr Mahfuz Anam, its editor, of ugly showmanship.

On April 11 2009, the Daily Star warned that

a compressor station for gas distribution pipeline was being planned to be awarded to Chevron which would “… unduly give Chevron the authority to control major chunk of the country’s gas distribution system. This will definitely create a number of serious legal complications over the authority and ownership of the compressor station and the distribution pipeline” .

Another follow up report published on June 21 2009 quotes,

a gas transmission expert: “Even if we accept the idea of pumping PSC investment in compressor, I say Muchai gets no priority for a compressor station now. Because of high volume of gas produced by Chevron, the gas pressure at Muchai and onwards is 1024 pressure per inch (PSI). This pressure will stay for a couple of years at this point. But we need a compressor at Ashuganj where the pressure drops to 700-800psi. A number of new plants are being set up close to the Ashuganj pipeline system. Then why prioritise Muchai now?”

The same report also quotes another official: “Petrobangla’s extreme reliance on foreign investment in the gas sector has already created a precarious situation for the national exchequer. The cost of gas is now very high because foreign companies are producing more gas than the national companies which have been denied adequate funds for their healthy growth”.

On August 02 2009, based on undisclosed sources, a piece reports that:

…Petrobangla continues to hammer hurriedly awarding US oil company Chevron the contract for an over-priced gas compressor station project in the Gas Transmission Company Ltd (GTCL) system through a questionable process by totally sidelining a host of technical and financial questions raised by a GTCL consultant.”

The report also quotes a GTCL consultant: “Chevron has not yet submitted its detailed technical and price proposals for Muchai station. An energy ministry approval would actually give Chevron a go-ahead without scrutinising what the GTCL is buying.”

According to Daily Star’s sources the report raised the following important points,

  • The cost-recoverable Chevron’s Muchai station’s actual cost would be much higher than $ 52.7 m because this cost does not include two years’ operation and maintenance cost or that of spare parts.
  • The sources also raised questions whether Petrobangla could bypass the cabinet’s approval for imposing a cost of $ 52.7 m for a GTCL project outside a PSC area just by making an interpretation of a PSC clause in favour of it.
  • GTCL sources questions were also raised in the report “… where is the mechanism to see if it is a fair price? Where is the competition and transparency?”
  • Petrobangla’s move to award the deal to Chevron raises further questions because the GTCL board headed by the Petrobangla chairman in May had cancelled a GTCL tender to award contract to Korean company Hyundai to install three compressors with Asian Development Board (ADB) funding.
  • “Gas supply through this pipeline can be increased by 50- 60 million cubic feet a day (mmcfd) by augmenting production in these fields, even without installing compressor,” says a pipeline expert. “By installing compressor, the pipeline will be able to increase only 9 mmcfd gas.”
  • The above were also stated in the report of an independent consultant hired by the ADB.
  • It was also mentioned that PetroBangla improperly cancelled Hyundai’s initial bid.

Then another report on August 30 announces that: “The PMO sought the project files and explanation following a report in The Daily Star revealing this fact.” The report continues: “As the prime minister sought explanation from Petrobangla chairman why he was so eager to award US company Chevron a $52.7 million contract to install a gas compressor station over the Gas Transmission Company Ltd (GTCL) system by cancelling an open tender, the chairman gave a smoky response last week…..While seeking the energy ministry’s approval late last month for allowing installation of Chevron’s compressor station over GTCL system, Muktadir ( PatroBangla Chairman) concealed the fact that Chevron had not clarified the 16 technical questions. …Petrobangla’s move to award the deal to Chevron poses serious questions because the GTCL board headed by the Petrobangla chairman cancelled in May the GTCL tender to award Korean company Hyundai a contract to install three compressors under an Asian Development Bank (ADB) fund.”

Something must have transpired during the time when the file was in PM’s office. Either PM and her advisors took an executive decision to go for the Chevron contract bypassing the cabinet purchase commitee ( On the ground that it was advance of block 12 PSC money) to expedite the process or Chevron must have made an offer to the advisor which he could not refuse.

The follow up report on this issue on September 09 states that:

“The prime minister yesterday approved a Petrobangla proposal to award a $ 52.7 million contract to US company Chevron to install a gas compressor station to improve gas flow pressure in the Gas Transmission Company Ltd (GTCL) system under a Production Sharing Contract (PSC).”

Even in this report it is suggested that : “The approval was given amid a number of contradictions, including that the GTCL is not a party to the PSC and that earlier the Petrobangla chairman had a GTCL tender for the compressor cancelled to award the deal to Chevron. He has been pursuing Chevron to install the compressor station at Muchai on GTCL’s pipeline. Petrobangla’s move to award the deal to Chevron raises serious questions because the GTCL board headed by the Petrobangla chairman in May had cancelled the GTCL tender to award contract to Korean company Hyundai to install three compressors under the ADB funding.” According to the report, ” This project would also be a unique example where a PSC operator like Chevron would hold a stake in a national gas transmission system without any clear legal framework to support it, experts noted. This is also an unsolicited deal.”

According to another report on 27 October:

”No sooner had the government changed Petrobangla chairman earlier this month than Petrobangla raised questions whether installing a costly gas compressor station for Gas Transmission Company Ltd (GTCL) by US company Chevron has any justification. “

Quoting a PetroBangla official, this report asks: “with the recent increase of gas supply from different gas fields of Chevron, the flow pressure has already reached 1050 PSIG. Therefore, why should Chevron be allowed to install such a costly device and get that money out of gas production and sales from block 12?” .

The report again stresses that: “It is a sharp contrast to Petrobangla’s earlier position. Its past chairman M Muktadir Ali had cancelled an open tender of the GTCL for the same project; and strongly recommended awarding the job to Chevron under a Production Sharing Contract (PSC) for block 12. But the GTCL is not a party to the PSC, thereby leaving a lot of legal issues for the future.”

The report adds that:

“…Chevron’s compressor station project cost is actually $12 million higher than the cost proposed by Hyundai at Muchai point in the GTCL tender that was cancelled… This is also an unsolicited deal that is also the first of its kind in the public sector gas transmission system, which should be a monopoly of the GTCL.

According to Daily Star’s sources, PM’s approval of the Chevron contract made many related official very uncomfortable. It reports: “… following the PM’s approval of Chevron’s project, Petrobangla invited GTCL’s experts several times to attend Petrobangla-Chevron Joint Management Committee (JMC) meeting on setting up the compressor station. But these officials declined saying that they did not want to be part of the controversy.“

Although the same reporter reporting all these loved to connect all the vices that took place during BNP’s 2001-2006 rule to PM’s son Tarique Rahman, this time, suddenly he becomes mum. No further investigation why sudden change in mind of PM office, why so much push for Chevron!

There is enough here to demand an investigation. This is not about Sajeeb Wajed or Mahmudur Rahman. This is much bigger than these individuals. And we do the nation a huge disservice by clouding the message here.

* * * * *

Rumi Ahmed is a Bangladeshi blogger from United Sates.

Also published in In the Middle of Nowhere.

Arbinda Rajkhowa being produced to a court at Guwahati, Asam.

So it appears Bangladesh government handed over Arbinda Rajkhowa without going by any definite extradiation treaty with India? Within hours of Adv. Sahara Khatun, the Minister of Interior strongly denied arrest of any ULFA leader taking place in Dhaka, evidences came out that she gave flawed information to the local media. Arbinda Rajkhowa was produced to a Guwahati court where he told he was held by the Bangladeshi authorities from Dhaka and then handed over to BSF through Tamabil-Daoki border. Later Indian officials told the media thata 10-member ULFA group including Rajkhowa’s wife Kaberi Kachari (42), his two sons Gadadhar (5) and Kamsena (13), Raju Baruah’s wife Nirala Neog (30) and his minor son Hemanta, Sashadhar Chowdhury’s wife Runima Choudhury (41), his 10-month-old daughter Hema and Raja Bora, PSO of Rajkhowa were held by BSF on Bangladesh-Meghalaya border on Friday morning. So according to Rajkhowa’s statements he gave after being produced to the court, all the mentioned were held by Bangladeshi authorities and then handed over to Indian authorities at Tamabil-Daoki border.

Dhananjay Mahapatra of Times of India stated here,

Two facts are significant in Rajkhowa’s arrest. First, India does not have an extradition treaty with Bangladesh. Second, there was no formal request for his extradition through proper channels, which begins with a competent court issuing letter rogatory to its counterpart in the foreign country for extradition of the accused for trial in offences committed in India.

In the absence of these two, the arrest of Rajkhowa and his aides clearly shows that they were detained by Bangladeshi authorities and then pushed across to India at a mutually agreed place for the BSF to take them into custody. This is substantiated by Rajkhowa’s repeated assertions before media prior to being produced before the CJM that he had not surrendered.

Meanwhile Kolkata based The Telegraph reveals the fact that the handover of the ULFA kingpins without even a minimum consideration of proper ways from Bangladeshi side have something more to do than just Sheikh Hasina’s smoothing the ties with India. It says that Delhi is to start the process of handover of two prisoners from Indian custody to Bangladesh. These two prisoners appear to have names Abdul Mudib and Muslimuddin, two of the prime suspects of murder of Bangabandhu and his family on 15 August, 1975.

Nishit Dholabhai of The Telegraph writes here,

Bangladesh’s generosity in handing over leaders of the United Liberation Front of Asam springs from Prime Minister Sheikh Hasina’s eagerness to see Sheikh Mujibur Rahman’s assassins brought to justice, apart from her interest in smoothing relations with India.

Delhi is expected to return the favour to Dhaka by probably sending two persons wanted in the Mujib murder case who are lodged in Tihar jail, sources said. The duo’s identities are being kept under wraps though sources said their aliases could be Abud Mudib and Muslimuddin.

So it appears the Bangladeshi authorities under the present Awami League government has been showing immense generosities to India since their beginning.

  • A group of protesters where beaten mercilessly when they appeared in a procession demanding expel of the former Indian High Commissioner to Bangladesh Pinak Ranjan Chakravarty in September 2009.
  • A pair of Bangladeshi ministers (Dr. Dipu Moni, Minister of Foreign Affairs and Abul Hossain, Minister of Communication) was keeping mum when this Pinak Ranjan Chakravarty added the adjective “so called intellectuals” behind a panel of academics from University of Dhaka, Jagangirnagar University, University of Rajshahi and Shahjalal University of Science and Technology in August 2009.
  • The Minister of Water Resources Ramesh Chandra Sen found it fun to tell in July 2009 Bangladesh as a smaller neighbor can easily accept some damage to maintain a friendship with the bigger neighbor India.
  • The Minister of Foreign Affairs Dr. Dipu Moni was shy to spare a word when an Indian journalist called Bangladesh “a buffer state” in last February.

Now a group of people were handed over to India without the confirmation of their being criminals and even without any mutual extradition treaty just to show how generous the present regime is to India.

Reading the entire pile of emotional stories on the generosity of a 162 million’s nation to a 1200 million’s nation, we can expect the generosity from our Minister of Interior Adv. Sahara Khatun to answer the following question that,

For what on earth she denied that Rajkhowa was arrested in Bangladesh? And if she was telling the truth, why she is this ultra-generous to put not a single protest against any of the Indian medias those apparently made her contend for being provider of the most viciously flawed information?

Rumi Ahmed
20 November, 2009, USA

Take from the altar of the ancients, not the ashes, but the fire.

– Gustav Mahler

The verdict of the Appellate Division regarding the murder of President Sheikh Mujibur Rahman and members of his family is an important milestone in our political and judicial history. The men accused of the murder went through our entire judicial system, from the District Court to the Appellate Division. Some of the individuals initially accused were acquitted. Those who were convicted had the chance to present all suitable defences, and were accorded all the rights which our state gives defendants in criminal prosecutions.

For all those individuals who were affected by the gruesome murders, one hopes that this comes as some salve to the personal wound that will undoubtedly haunt them the rest of their lives. The psychological trauma that comes from the assassination of loved ones, and the dislocation that comes from seeing our elders and guardians lying bloodied and lifeless, is unparalleled. We hope the pain that they carry around every day is a little lighter today.

As a result of the verdict today, at least five individuals will soon die. I hope their families will make peace with that, and be able to continue with normal and productive lives.

However, where justice ends, reflection begins.

Let’s think of sets, and Venn diagrams.

Think about the set of people who had responsibility for the 15th August massacre. Narrow that set to all individuals alive today. Are there only twelve people in that set?

Let’s narrow it still further. Let’s think about all the people against whom there exists tangible evidence regarding dereliction of duty or involvement in conspiracy. Are there only twelve people in that set?

Let’s narrow the set still further. Only include the people who were at Dhanmondi Road 32 that fateful night and morning, with weapons in their hand and murder in their heart. Have we gotten all of them?

Here’s the funny thing, just as there were people there that night and early morning who were not supposed to be there, there are a lot of people that morning who should have been there, but were not.

One think about police guards and the army units guarding the President. But where was the Rakkhi Bahini, the President’s hand-created paramilitary unit? Where were the leaders of Awami League? At least some of them had fought in the war four years past, they could have potentially held off the attackers until help arrived.

“Shafiullah, your units are attacking me.”

“Sir, I am seeing what to do. Can you leave your residence?”

A response worthy of all the commanders of the Army of Bengal who stood idle at Plassey.

“Tofael, send the Rakkhi Bahini.”

“We are under attack by Army tanks, sir.”

Only, it later turned out, the tank was disarmed, it did not have any shells in it.

In a sense, it is of lesser importance to pinpoint those who pumped all those bullets in Sheilh Mujib, Begum Mujib, and their family members. Army units started surrounding their home and taking positions to shell Dhanmondi from the evening of 14th August, at least twelve hours before the massacre. How could the entire machinery of the state remain inert for twelve hours? Consultation and conspiracy regarding this started at least months ago. Apparently Indian intelligence warned Sheikh Mujib of the attack. So did at least one civilian intelligence agency. Then Deputy Army Chief of Staff Maj. Gen. Ziaur Rahman visited the President and warned him regarding grumblings of unrest in the Army.

Who then, were the individuals who negated all these warnings? The individuals who said, “Mujib Bhai, nothing will happen?”

Of course, whom would President Sheikh Mujib trust, a superseded officer such as Ziaur Rahman, who was never a part of the AL inner circle? Or Khandkar Mushtaque Ahmed, the “Ukil baba” in the marriages of both Sheikh Jamal and Sheikh Kamal?

Zia? Or Dalim, a close personal friend of the Sheikh family who could take personal grievances directly to the President?

Bangladesh started rejecting the perpetrators of the massacre soon after, as evidenced by the flight of the guilty to various countries within two months of the massacre. Make no mistake about it, history would have been different today if they had all stayed in Bangladesh. It is no accident that the most prominent of those convicted to death is Lt. Col. Syed Faruq Rehman, a former Presidential candidate in 1988 and former chief of Freedom Party. It is not a coincidence that he never fled Bangladesh, but instead chose to stay and attempt to shape Bangladesh’s political climate in his favor.

Part of the reason Sheikh Shaheb never paid heed to any warnings about uprising because he blinded himself to the most egregious fault in our collective nature. We love to over-exult when the times are good. However, when the chips are down, and it is time for action: we are hesitant, doubtful, and faltering. Today, Dhaka is full of people claiming that they have borne a burden in their heart for 34 years. In addition to being a grievous insult to those who have actually borne a burden for 34 years, it is also a lie. It is easy for people to stand in Bangladesh in 2009, with a ten-month AL government with a nine-tenth majority in the Parliament and Sheikh Mujib’s daughter as Prime Minister and his close associate as President, and claim that this is the single greatest moment in their lives. It was, likewise, extremely easy to tell the President of Bangladesh, and the dictator of our state (not in the sense we understand it, but in the actual sense of the word), that there was no way that a couple of army punks would dare to against Sheikh Mujib. And boy, if they did, they would soon see “koto dhane koto chaal.”

Except, when it really matters, action trumps words. And there was only one side in 15th August 1975 that took action. Something our current Prime Minister, and all future prime ministers, would do well to remember and internalize.

It is our nation’s sincerest hope that such a circumstance as 15th August 1975 never occurs again. That force never substitutes political discourse again. Let us go forward to better times.

* * * * *

Rumi Ahmed is a Bangladeshi blogger from United States.

Rumi Ahmed

I hear… of your recent saying that both the Army and the Government needed a Dictator. Only those generals who gain success can set up military dictatorships. What I now ask of you is military success, and I will risk the dictatorship.”

– Abraham Lincoln, message to General Joseph Hooker, Army of the Potomac

May 30 is the 28th anniversary of President Ziaur Rahman’s death. It came approximately 10 years and 2 months after he gave a radio announcement, from Chittagong, declaring the Independence of Bangladesh on behalf of Sheikh Mujibur Rahman, then in the custody of the Pakistani Army.

During our Independence War, he was Sector Commander over much of today’s Chittagong Division, and commander of Bangladesh Army’s ‘Z” brigade. At the end of the war, with Pakistani forces crumbling before the assault of joint Indo-Bangladeshi forces and surrendering on 16 December 1971, he was awarded the Bir Uttom.

At the onset of independence, Zia became one of the senior-most officers of the Bangladesh Army. His performance during the nine-month war and his radio announcement at the onset of the war marked him as different from his fellow officers. He was made Brigade Commander of Comilla, close to where his force had done most of the fighting during the war.

The Government brought him to Dhaka in June 1972 and made him Deputy Chief of Staff, under Major General Shafiullah, who commanded the “S” Brigade during the Independence War. It is as Deputy CoS that he moved into the 6 Shahid Moinul Road residence, where he would live the rest of his life. It is from this post that he observed the imposition of one-party dictatorship in Bangladesh when Sheikh Mujib, by a constitutional amendment, made Bangladesh a one-party state, banned all other political parties, all but four newspapers, and named himself President.

After the brutal assassination of Sheikh Mujib and most of the members of his family by a group of army officers, Zia was elevated to Chief of Staff but placed under Major General Khalilur Rahman, who was made Chief of Defense Staff. The regime, after killing Mujib’s four most-trusted political lieutenants, heroes in their own right, planned to send Zia abroad, as it sent Shafiullah. However, before that could transpire, the murderers were toppled by a counter-coup led by Brig. Khaled Musharraf, Chief of General Staff, one the most valiant leaders in our Independence War. Zia was placed under house-arrest. He was then freed by a counter-counter-coup by Col. (rt) Abu Taher, fellow Sector Commander, and leader of the banned Jatiyo Samajtrantik Dal (National Socialist Party). The counter-coup also tragically resulted in Brig. Mosharraf’s death.

Shafiullah, Zia, Mosharraf, and Taher were all awarded the Bir Uttom, the highest gallantry decoration awarded to living participants. Under normal circumstances, they should, by all right, have been able to look forward to long careers in our defense forces, promotions to command rank, and eventual retirement with the whole-hearted blessings of a grateful nation. Instead, Shafiullah was abroad, Mosharraf was dead, and Taher advoced a left-leaning revolutionary state. With the adoption of one-party statehood by the Parliament, the Awami League, until then Bangladesh’s pre-eminent political party, had also been disbanded. Zia found himself with no credible political establishment to hand over power to, a faction-ridden armed forces that was more dangerous to Bangladeshis than to foreign enemies, and an economy on the brink of collapse.

His subsequent actions, becoming Chief Martial Law Administrator, founding BNP (Bangladesh Nationalist Party), introducing multi-party democracy, allowing the publication of newspapers, holding parliamentary elections (in which Awami League became the largest opposition party in parliament), trying to revitalize the country’s industrial sector, and adopting a muscular foreign policy, were the attempts of an imperfect man to try and make the best of an imperfect situation. He survived eighteen coup attempts, before being killed by the nineteenth one, in his beloved Chittagong, the scene of his life’s greatest hour, where he had come to resolve inter-party factions in his young BNP. Bangladehis from all walks of life poured into his funeral prayer service, making it the single largest such gathering in Bangladesh’s history.

I cannot know, but I imagine he must have been a little tired by the end of his life. If the last thought that flashed through his mind was his young widow and the two little boys he left behind; maybe, after death, he found the peace he had been denied in life. The generation which should have together led Bangladesh, together turn old and hale and watched their children grow up in a free country as free men and women, and in the twilight of their lives accepted our accolades as Bangladesh’s greatest generation, had together torn each other apart. His would be the last life to be lost in that decade-long bloodbath, but by the sacrifice of his own life, he would bring the killing to an end; all subsequent transfers of power in our country would be bloodless, if not voluntary.

Testimony is paid to Zia, throughout the year, by Awami League leaders who slander and villify him every chance they get. They try to tear down the man who allowed them to re-form, and graciously accepted their leader’s return from exile in India. His statues are broken down, and bridges leading to his memorial in Dhaka, beside the National Parliament, are mysteriously removed under the cover of night. All debates about the fate of Sheikh Mujibur Rahman, his great predecessor, inevitably contain someone viciously belittling him.

Yet, the idea of Zia remains. Our only head of state to have actively fought the Pakistanis in a field of battle, today he sleeps the well-deserved sleep of those who have fought the good fight. It remains to us to do our best in the imperfect world he left for us.


Rumi Ahmed is a blogger from United States.

The Writer’s Club in Bangla

দ্যা রাইটার্স ক্লাবের বাংলা ভার্সন লেখক সংঘ ব্লগ খোলা হয়েছে।

The Writer's Club is now available in Bangla.

RSS South Asia

  • An error has occurred; the feed is probably down. Try again later.

RSS Unheard Voices

  • An error has occurred; the feed is probably down. Try again later.
April 2018
« Nov