Rumi Ahmed
30 Nov, 2010, USA

So, Zafar Sobhan thinks BNP is mafia.  This made me laugh.  You see, that’s the thing with Bangladeshi politics — you have to laugh at it, because the alternative is to howl in despair.

Let’s be fair to Zafar.  It’s not just him who thinks this way.  I’ve heard it from many AL leaning folks over the years: the last BNP government was like the mafia, Tarique ran Bangladesh like a crime lord, the corruption and violence all pointed to mob rule.  So let’s lay off Zafar.  He is just more articulate than the most.

Instead, let’s look at the message.  So, the BNP government was like the mafia.  What does that mean?

Well, how does the mafia work?  There is a system of patronage, whereby the Don confers favours on those under his protection, and they in turn does the Don’s bidding.  Then there is extortion.  You want to do business in a mob neighbourhood, you pay a protection fee.  And finally, anyone stepping out of line has to be disciplined — made to sleep with the fishes.

BNP was all of these we are told.  Hawa Bhaban cronies ran the country like a private fiefdom.  There were rampant extortion, from the top to bottom.  And there were killings like the 21 August.

The 21 August was a crucial turning point.  After that event, many people said ‘we used to follow Zia’s ideals, not this Khaleda-Falu politic’.   For many who had no love of AL shunned BNP because of its mafia-type transformation.

That was then.  What do we see now?

We see that minister’s brother’s company is given lucrative contracts for electricity generation without any tender process.  And then we see that act being indemnified through legislation.

We see prime ministerial advisors openly declaring that only the ruling party members will be appointed for government job.  We see the public servants humiliated because they wanted to follow the law, and not the party diktat.

We see dissenting voices shut down and thrown into jail by partisan judges.

What was that about patronage, favor, and extortion?

Not as bad as BNP, you say?  Not like AL is killing opposition politicians, like the BNP did on 21 August.

Never mind that no one has actually produced any evidence of BNP being involved with 21 August (as opposed to covering up afterwards).  For the partisan AL mind, it’s a given that BNP did it.  And AL is not as bad.

Except for the inconvenient fact that AL is, of course, as bad if not worse.  In Natore, an upazilla chairman was killed in broad daylight a few weeks ago.  The entire thing is available in youtube.  And Sheikh Hasina personally saved the killers by saying ‘this was BNP’s internal conflict’.

We don’t need Julifikar Ali Manik’s complicated conspiracy theories.  All this happened in public media.  Sheikh Hasina intervened to save killers.

As I said, after 21 August, many BNP supporters abandoned their party.  I don’t know a single AL-er who owns up to Hasina’s action after the Natore killing.  None.

You know why?

Because AL is a cult.  It’s a cult whose members believe that their party can do no wrong.  It’s a cult whose members believe their leader can do no wrong.  It’s a cult whose members simply refuse to face the reality, and would prefer to believe in conspiracy theories where everything is someone else’s fault.  It’s a cult whose members, otherwise perfectly fine people, lock away parts of their reason, compassion, and conscience.

The 21 August assassinations will hang over BNP until it unconditionally apologises for it, and the real killers are convicted and punished.  Until that happens, the charge of ‘BNP is mafia’ will bite.

BNP may be mafia.  But so is AL.  And AL is also a cult.  No matter what happens to BNP, until the AL-ers free themselves from their mental slavery, Bangladesh will remain doomed with a plague on both houses.


Originally published here in Bangladesh First, 22 September, 2010.

বিএনপির প্রতিষ্ঠা লাভের প্রক্রিয়াটিকে নিয়ে ভেবে প্রথম আলোর মিজানুর রহমান খান যে অনেক মূল্যবান সময় ব্যয় করেছেন, সেটা প্রথম আলোয় প্রকাশিত তার “বিএনপির জন্ম যেভাবে সেনানিবাসে” সিরিজটি পড়ে বোঝা যায়। অবশ্য গবেষণা ছাড়া আকস্মিক ভাবে কিছু সূত্রের সন্ধান বা কোন নির্দেশনা পেলেও বহু আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে ব্যাখ্যা করার উদ্যোগ কেউ কেউ নিতে পারেন। মিজানুর রহমান খান কোনটি করেছেন জানি না।

মিজানুর রহমান খানের প্রতিবেদনটিতে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ কিছু শব্দের উপর বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। আমি জানি না সেগুলো কি মিজানুর রহমান খানের কি-ওয়র্ড ছিল কিনা। তবে এটা হলফ করে বলা যায়, পাঠকরা সেসব কি-ওয়র্ড নিমেষেই শনাক্ত করবেন। কি-ওয়র্ড-এর প্রসঙ্গে একটু পরে আসি। প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা তথ্যগুলোর সূত্র প্রসঙ্গে কিছু বলার ছিল, সেগুলো আগে বলে নেই।

স্টিফেন আইজেনব্রাউন

প্রতিবেদনটি পড়ে জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠা লাভের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে উল্লিখিত তথ্যাবলীর উৎসগুলো হচ্ছে মূলত- ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তৎকালীন এক কর্মী (পলিটিকাল কাউন্সেলর), প্রয়াত ন্যাপ নেতা মশিউর রহমানের ভাই ও ছেলে এবং বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। প্রতিবেদনের দুটি মুখ্য অংশের তথ্যের উৎস হচ্ছেন মার্কিন দূতাবাসের সেই কর্মী স্টিফেন আইজেনব্রাউন এবং ন্যাপ নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ভাই মোখলেসুর রহমান। এদের মধ্যে আইজেনব্রাউনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো মিজানুর রহমান সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সংগ্রহ করেননি। সেগুলো সংগৃহীত হয়েছে ২০০৪ সালে আইজেনব্রাউনের সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী এক তৃতীয় ব্যাক্তির কাছ থেকে, ইমেইল বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে।

চার্লস স্টুয়ার্ট কেনেডির নেয়া আইজেনব্রাউনের ঐ সাক্ষাৎকারের সূত্র ধরে বেশ কিছু ব্যাক্তির সাথে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কথোপকথনের বিশদ বিবরণ প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলো পড়ে অনেকেরই ভ্রম হতে পারে সেগুলো কোন ভিডিও ক্লিপ দেখে বা অডিও ক্লিপ শুনে লেখা হয়েছে। ভ্রম হওয়ার ব্যাপারটি প্রাসঙ্গিক নাও হতে পারে, কেননা সেসব ভিডিও বা অডিও ক্লিপ মিজানুর রহমানের কাছে থেকে থাকতে পারে, কিংবা থাকতে পারে জিয়ার সাথে একান্ত আলোচনায় অংশ নেয়া সেই ব্যাক্তিদের কারও না কারও স্বীকারোক্তি। মিজানুর রহমান খান প্রতিবেদনে বলেননি যে সেগুলো তার কাছে নেই। তবে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, মিজানুর রহমান এটাও বলেননি যে নির্ভরযোগ্য সেই উৎসগুলোর কোনটি তার কাছে আছে। বললে আমরা পাঠকরা একটু নিশ্চিন্ত মনে তথ্যগুলো গলধঃকরণ করতে পারতাম।

প্রতিবেদন পড়ে জানা যায়, জিয়ার সাথে একান্তে হওয়া আলোচনার বিষয়ে যেসব তথ্য মিজানুর রহমান দিয়েছেন, সেসব তথ্যর মূল উৎস হচ্ছে ন্যাপ নেতা মোখলেসুর রহমান যাদু মিয়া।  এটা বোধগম্য যে ১৯৭৯ সালে মৃত্যুবরণ করা যাদু মিয়া এসব তথ্য সরাসরি মিজানুর রহমানকে দেননি, কেননা দিলে প্রতিবেদনে তার উল্লেখ থাকত। যাদু মিয়া সেসব কথা বলেছিলেন আইজেনব্রাউনকে (একান্তই আইজেনব্রাউনের ভাষ্য মতে)। এই আইজেনব্রাউনও তথ্যগুলো মিজানুর রহমানকে (সরাসরি যোগাযোগ করা সত্তেও) দেননি, দিয়েছিলেন চার্লস স্টুয়ার্ট কেনেডিকে, ২০০৪ সালে দেয়া এক সাক্ষাতকারে। শেষ পর্যন্ত ১৯৭৬-৭৮ সালে ঘটা সেসব ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তিনবার হাত বদল হয়ে মিজানুর রহমান খানের কাছে এসে পৌঁছেছে কেনেডি সাহেবের মারফত, গত ৩০শে আগস্টে পাঠানো এক ইমেইলের মাধ্যমে। সেই মতে, মিজানুর রহমান খানের প্রায় ছয় হাজার শব্দবিশিষ্ট ঐ প্রতিবেদনটির একটা উল্লেখযোগ্য অংশেরই সূত্র হচ্ছে কেনেডি সাহেবের কাছ থেকে তিন সপ্তাহ আগে পাওয়া সেই ইমেইলটি।

কথোপকথন আর তার সূত্রের ব্যাপারে যা বলছিলাম- তো, প্রতিবেদনটিতে জিয়াউর রহমানের সাথে এরশাদ, জেনারেল মঞ্জুর, যাদু মিয়া ও তৎকালীন এনএসআই প্রধানের কথোপকথন রীতিমত ইনভার্টেড কমা সহকারে যোগ করা হয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে লঘু মেজাজে বলা (অন্তত পড়ে তাই মনে হল) কথাও যোগ করা হয়েছে গুরুত্বের সাথে। তো, বক্তাদের একজনের সাথেও সরাসরি যোগাযোগ না করে, দ্বিতীয়ও তো নয়ই, তৃতীয়ও নয় বরং চতুর্থ পর্যায়ের একটি সূত্রের ভিত্তিতে পাওয়া বর্ণনাগুলোকে একেবারে ইনভার্টেড কমা সহকারে উল্লেখ করা হলে তার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু হবে, এই প্রশ্ন বিজ্ঞজনদের কাছে রাখলে আশা করি দোষের কিছু হবে না। বিশেষ করে প্রতিবেদনে একাধিক বার “নাকি” শব্দের ব্যবহার (“তিনি নাকি বলেছিলেন”, “এরশাদ প্রথমেই নাকি বলেছেন” ইত্যাদি) সম্ভবত এই গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নটিকে জোরদার করবে।

আইজেনব্রাউনের সাথে মিজানুর রহমানের কোন তথ্য আদান-প্রদান না হলেও ন্যাপ নেতা মশিউর রহমানের ভাই মোখলেসুর রহমান আর ছেলে আনোয়ারুল গনির সাথে তিনি নিজেই কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। মওদুদ আহমেদের সাথেও কথাবার্তা হয়েছে সরাসরি ভাবে।

ভাবছেন উৎসের লম্বা ফিরিস্তি টেনে এখন সেগুলোর নির্ভরযোগ্যতা, কিংবা সেগুলোর ভিত্তিতে এত বড় একটি বিষয় নিয়ে একেবারে ‘অনুসন্ধানী প্রতিবেদন’ লিখে সেরে ফেলার যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা করব? না, তা নয়। উৎস গুলো উল্লেখ করলাম আসলে অনেকটা নিজের সাথে কথোপকথনের মত করে। কেননা পুরো সিরিজটা পড়ে সবগুলো তথ্যসূত্রের স্পষ্ট পরিচয় পেতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে।

এইবার কি-ওয়র্ডের প্রসঙ্গে আসা যেতে পারে। কি-ওয়র্ডগুলো কী কী? প্রতিবেদনটিতে এমনকি চোখ বোলালেও শনাক্ত করা যায়- সেনানিবাস, সেনাছাউনি, সেনানিবাসের বাড়ি, গভীর রাত, গোপন বৈঠক এবং গোপন আলোচনা, এই কয়েকটি শব্দের উপর বিশেষ জোর দেয়া আছে। আরেকটি শব্দ রয়েছে, সেটি হচ্ছে ষড়যন্ত্রমূলক। একটা ব্যাপার দেখে মজা না পেয়ে পারা গেল না। মিজানুর রহমানের এই ‘অনুসন্ধানী’ সিরিজের শেষ কিস্তিটির শিরোনাম হচ্ছে, “সেনাছাউনিতে বিএনপির জন্মকে ষড়যন্ত্রমূলক বলেন আইজেনব্রাউন”। অথচ ঐ পুরো কিস্তিটিতে ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র একবার, এবং বলেছেন মার্কিন দূতাবাসের কর্মী আইজেনব্রাউন। অথচ কেন ষড়যন্ত্র, কীভাবে ষড়যন্ত্র এবং কিসের ষড়যন্ত্র, সেটির উল্লেখ আইজেনব্রাউন করেননি, স্পষ্ট ভাবে লেখেননি মিজানুর রহমান খানও। বরং প্রতিবেদনটি পড়ে কেউ যদি অভিযোগ তুলেন যে দুর্বল বা অস্পষ্ট সুত্রের ভিত্তিতে দেয়া তথ্যগুলোর পরিবেশনায় প্রেসিডেন্ট জিয়ার প্রতি কলঙ্ক লেপনের প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে, তবে সেই অভিযোগকারীর দাবীকে নস্যাৎ করার মত খুব জোর হয়তো আমরা পাব না।

এক্ষেত্রে আরেকটি ব্যাপারে আলোকপাত করতে হয়। আইজেনব্রাউন নাকি বলেছেন বিএনপির প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটি ষড়যন্ত্রমূলক ছিল। মিজানুর রহমান খানের মতে (আসলে কেনেডি সাহেবের মারফত আইজেনব্রাউনের মতে) সেই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা নাকি ছিলেন বিএনপির বর্তমান স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। কথা হচ্ছে, মওদুদ আহমেদের সাথে সাক্ষাত করেছেন বলে মিজানুর রহমান খান তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন। শেষ কিস্তিতে একটি কথোপকথনও তুলে ধরেছেন। এই পর্যায়ে, যারা মিজানুর রহমান খানকে ইতমধ্যেই একজন সাহসী সাংবাদিক হিসেবে শনাক্ত করে ফেলেছেন, তাদের মনে এই প্রশ্নের উদয় হতে পারে যে, মিজানুর রহমান খান মওদুদ আহমেদকে ষড়যন্ত্রের হোতা হওয়ার ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করলেন না কেন। হলফ করে বলতে পারি না এই প্রশ্নটি করার সাহস তিনি যুগিয়ে উঠতে পারেন নি। সেক্ষেত্রে প্রশ্নটি যদি করেই থাকেন, তবে প্রতিবেদনে কেন তার উল্লেখ নেই, সেটি ভেবে অনেকেই নিজেকে বঞ্চিত মনে করছেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কোন বর্ণবাদী সংগঠন তো নয়ই, কোন সন্ত্রাসী সংগঠনও নয়। এটি একটি রাজনৈতিক দল, যেটি প্রতিষ্ঠা করার কয়েক বছর পর জিয়ার মৃত্যু হয়েছিল এবং তারও প্রায় এক দশক পর দলটি জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছিল। তো, প্রতিষ্ঠালগ্নে একজন রাষ্ট্রনায়ক এই প্রসঙ্গে নানান দৃষ্টিভঙ্গির রাজনীতিবিদদের সাথে দেখা করেছেন, তাদের সাথে বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকগুলোতে পরিকল্পতি দলটির সম্ভাব্য নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, মিজানুর রহমান খানই তার প্রতিবেদনে সেসব উল্লেখ করেছেন। এক্ষেত্রে সেসব বৈঠকগুলোকে বা বিএনপির প্রতিষ্ঠালাভকে কেন ষড়যন্ত্রমূলক বলা হবে, সে ব্যাপারে মিজানুর রহমান খান স্পষ্ট ভাবে কোন ব্যাখ্যা তো দেনই নি, বরং মার্কিন দূতাবাসের তৎকালীন এক কর্মী, যার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেও তিনি বিস্তারিত কিছু জানতে পারেননি, জানতে হয়েছে তৃতীয় এক ব্যাক্তির মাধ্যমে, এই আইজেনব্রাউনের একটি উক্তির ভিত্তিতেই তিনি তার প্রতিবেদনের শেষ কিস্তির শিরোনাম নির্বাচন করেছেন “সেনাছাউনিতে বিএনপির জন্মকে ষড়যন্ত্রমূলক বলেন আইজেনব্রাউন”। এই নির্বাচন কি ঠিক হয়েছে কিনা তা বিজ্ঞজনেরা বিচার করবেন। তবে প্রশ্ন রাখতে যেহেতু দোষ নেই, আমরা প্রশ্ন রাখছি।

গভীর রাত শব্দটির বহুব্যবহার প্রসঙ্গেও কিছু বলা যেতে পারে। জিয়াউর রহমান ছিলেন রাষ্ট্রনায়ক। যে স্টিফেন আইজেনব্রাউনকে উদ্ধৃত করে মিজানুর রহমান খান বিএনপির প্রতিষ্ঠালাভকে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, সেই স্টিফেন আইজেনব্রাউনের বিবরণেই বলা আছে, জিয়া ছিলেন তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক, যিনি একজন সামরিক কর্মকর্তা থেকে নিজেকে সফল ভাবে রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ মার্কিন কূটনীতিক ক্রেইগ ব্যাক্সটারকে উদ্ধৃত করে এও বলা হয়েছে, রাজনীতিবিদ হিসেবে সক্রিয় হওয়ার পর জিয়া ব্যাপকভাবে দেশসফর করেন এবং খুব সম্ভবত শেখ মুজিবর রহমান ও এ.কে. ফজলুল হকের চেয়েও বেশিমাত্রায় বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল সফর করেছেন। এতে প্রকাশ পায় যে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জিয়া কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে সারাদিনের পরিশ্রম শেষে বিশ্রামের জন্য নির্ধারিত রাতগুলোতেও অনেক সময় তিনি রাজনীতিবিদদের সাথে নীতিনির্ধারণী বৈঠক করছেন, সম্ভাব্য রাজনৈতিক দলের রূপরেখা নির্ধারণ করছেন, এতে জিয়ার একনিষ্ঠতা ও কঠোর পরিশ্রমের দিকটি নির্দেশপূর্বক সেগুলো প্রশংসনীয় না হয়ে কেন পুরো ব্যাপারটাই মিজানুর রহমানের কাছে ষড়যন্ত্রের একটি ইঙ্গিত হয়ে ধরা দিল, তা তিনি তার প্রতিবেদনে সম্ভবত স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন নি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যাদু মিয়ার মৃত্যুটি তার পরিবারের কাছে রহস্যাবৃত। মিজানুর রহমান খান যাদু মিয়ার ভাই মোখলেসুর রহমান ও ছেলে আনোয়ারুল গনির সরাসরি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, এবং ধরে নেয়া যায় তাদের বক্তব্যের অনেকাংশই হুবহু তুলে ধরেছেন। সেসব বক্তব্যের একটিতেও তারা যাদু মিয়ার মৃত্যু প্রসঙ্গে কোন রহস্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে দেখা গেল না। হয়তো তারা মিজানুর রহমান খানকে একান্তে বলেছেন, হয়তো মিজানুর রহমান খান সেটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন নি। কিন্তু তিনি যাদু মিয়ার মৃত্যুর একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনাও তিনি দেননি, দেননি তার মৃত্যুর তারিখ, দেননি কেন সেটিকে ঘিরে রহস্যের অস্তিত্ব থাকতে পারে তার এক লাইন ব্যাখ্যাও। যাদু মিয়ার মৃত্যু প্রসঙ্গে মোখলেসুর রহমানকে একটু বর্ণনা করতে দেখা গেল, সেখানো রহস্যের কোন সন্ধান পাওয়া গেল না। এই প্রসঙ্গে একটা কথাই বলার আছে, যাদু মিয়ার মৃত্যুটি তার পরিবারের কাছে রহস্যাবৃত থাকবার ব্যাপারটি তিনি উল্লেখ যেহেতু করেছেন, তার একটি অতিক্ষুদ্র ব্যাখ্যাও হয়তো তিনি দিতে পারতেন, সেক্ষেত্রে আমরা একটা নূন্যতম ধারণা হলেও পেতে পারতাম। তিনি দেননি।

সেনাবাহিনী, সেনানিবাস ও সেনাছাউনি -এসব শব্দের বহুব্যবহারের প্রেক্ষিতে যেটি বলতে চাই, তা হয়তো শুধুমাত্র মিজানুর রহমান খানের এই প্রতিবেদনের ক্ষেত্রেই প্রাসঙ্গিক নয়, বরং বলা যেতে পারে প্রতিবেদনটির প্রকাশস্থল প্রথম আলো পত্রিকার ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক।

নীতি বিসর্জন দিয়ে বেকায়াদায় পড়ে মাপ চাওয়ার ঘটনা মতিউর রহমানের এই প্রথম নয়।

আমরা জেনেছি গত ৩রা সেপ্টেম্বার, ২০১০ তারিখে পত্রিকা-মালিকদের সংগঠন নোয়াব-এর নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতকালে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ১/১১ শাসনামলে তার পালিত ভূমিকার জন্য কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপের সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক অধ্যায়টি ছিল এই ১/১১, যা ২৯ ডিসেম্বার, ২০০৮ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। অসাংবিধানিক ও অবৈধ এই সরকারটির কার্যক্রম চলাকালীন প্রথম আলো দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে যে বিশেষ নীতি গ্রহণ করেছিল, সেই নীতিটি অনেকাংশেই ছিল সেনাসমর্থিত ও সেনানিবাস থেকে পরিচালিত ঐ অগণতান্ত্রিক সরকারকে সমর্থনের নামান্তর। সেসময় দেশের বিরাজনীতিকরণের যে প্রক্রিয়া একটি বিশেষ গোষ্ঠী শুরু করে তার বাস্তবায়ন করছিল, তার সমর্থনে প্রথম আলো একাধিক মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত প্রতিবেদনটি হচ্ছে ১১ জুন, ২০০৭ সালে প্রকাশিত “দুই নেত্রীকে সরে দাঁড়াতে হবে”। এটি লিখেছিলেন সম্পাদক মতিউর রহমান নিজেই।

প্রতিবেদনটিতে তিনি ১/১১ সরকারের গণধিকৃত মাইনাস-টু ফর্মুলার সমর্থনে বহু শব্দ ব্যায় করেছেন। ঐ সময় প্রথম আলোর পাঠক যারা ছিলেন তারা তো বটেই, পরে আরও অনেকেই সমালোচিত ও বিতর্কিত এই মন্তব্য প্রতিবেদনটি পড়েছেন। মন্তব্য প্রতিবেদনটি পড়ে যে উপলব্ধিটা অনেকের মাঝেই এসেছিল, যেটা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে হয়তো এই মুহুর্তে মতিউর রহমান নিজেও স্বীকার করবেন, যে, মতিউর রহমান ১/১১-এর বিরাজনীতিকরণ চেতনার প্রতি পুরোপুরি সমর্থন জানিয়েই নিজের অবস্থান নির্ধারণ করেছিলেন, সেই সাথে করেছিল প্রথম আলো। বিশেষ প্রতিবেদনটি পড়ে সহজেই এটা মনে হওয়া সম্ভব, তিনি যেন অনেকটা তাড়াহুড়োর মত করে দুই নেত্রীকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য যতটা সম্ভব বিবরণ সেই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছেন।

১/১১-এর সময়ে মতিউর রহমান এবং তার প্রথম আলো যে ভূমিকা পালন করেছিল, সহজেই বোধগম্য হয় যে ১/১১-এর অগণতান্ত্রিক নীতির প্রতি, বিশেষত মাইনাস টু ফর্মুলার প্রতি তাদের তীব্র সমর্থন না থাকলে ঐ ধরণের ভূমিকা নেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হত না। এখন প্রথম আলোর পক্ষে কোন ব্যাক্তি বা স্বয়ং মতিউর রহমান জবাবে বলতে পারেন, তাদের ভূমিকা ঐ সময়ে এমন ছিল না যাতে সে কথা মনে হতে পারে। সেক্ষেত্রে বলতে হয়, তারা তো পত্রিকা চালান, পত্রিকায় মন্তব্য লেখেন, তারা সেগুলো করেন নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। কিন্তু অবশেষে সব মিলিয়ে ব্যাপারটি দেখতে কী রকম হচ্ছে বা তাদের পরিবেশিত সংবাদ ও মন্তব্যের দ্বারা পাঠকদের মাঝে পত্রিকার নীতিমালা প্রসঙ্গে কী ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে, এটা অবশ্যই তাদের চেয়ে আমরা অর্থাৎ পাঠকরা ভালো বলতে পারব। সেক্ষেত্রে ১/১১-এর সময়ে প্রথম আলোর পালিত ভূমিকা যে সৎ সাংবাদিকতার আদর্শবিবর্জিত ছিল এবং বিতর্কিত ছিল, এটি কেউ দাবী করলে সম্ভব তার প্রতি আর রাগ দেখানো চলে না।

নীতিবিসর্জনের জন্য একবার ক্ষমা চাওয়া প্রথম আলো পত্রিকার বিশ্বাসযোগ্যতা ও সাংবাদিক সততা এখন কতটা প্রশ্নাতীত, সে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, মতিউর রহমানের সেই প্রতিবেদনটির একটা মূল ভিত্তিই ছিল তৎকালীন যৌথ বাহিনীর হাতে আটক ও নির্যাতিত রাজনীতি-ব্যবসায়ীদের স্বীকারোক্তি। তাদের স্বীকারোক্তির উপর ভিত্তি করেই যেন বদলে গিয়েছিল প্রথম আলোর শব্দ নির্বাচনের ধরণ, “দূর্নীতিপরায়ন” থেকে এক লাফে তারা চলে গিয়েছিল “দূর্নীতিবাজ”-এ। সেসব স্বীকারোক্তিকে গভীর ভাবে আমলে নিয়েছিল বলেই সেসময়ে প্রথম আলোতে অনেক রাজনৈতিক নেতার (শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া সমেত) বিরুদ্ধে খোলাখুলি ভাবে কলম ধরাধরি চলেছিল।

সে সময়ে সম্পাদিত সবগুলো পাপের ব্যাখ্যস্বরূপ মতিউর রহমান একটি কথাই বলেছেন বলে পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে- চাপে পড়ে তখন তাকে অনেক কিছু করতে হয়েছে। এই চাপে পড়বার ব্যাপারটিই বা কতটা গ্রহণযোগ্য? তিনি কতদিন ধরে চাপে পড়ে ছিলেন? কিসের ভিত্তিতে তাকে চাপে ফেলা হল? তার কী কোন বিশেষ দুর্বলতা ছিল? যদি না-ই থেকে থাকে, তবে তিনি ঐ অতগুলো মাস চাপের মধ্যে থেকেই শুধু যা মনে আসল লিখে গেলেন? কোনটি সত্য?

আর তা যদি মেনে নিতেই হয়, তাহলে আমরা এই জেষ্ঠ্য সাংবাদিকের দৃঢ়তা সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করব? বর্তমানে ও ভবিষ্যতেই বা তার বিশ্বাসযোগ্যতার ব্যাপারে কতটা নিশ্চিন্ত থাকব? সেসময়ে তো বাংলাদেশে এমন কিছু ব্যাক্তিত্বও ছিলেন, যারা দেশে বসবাস করেই একাধিক গণমাধ্যমে ১/১১ সরকারের সাংবিধানিক বৈধতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করতেন, তাদের বেআইনী কর্মকান্ডের একটিরও সমালোচনা করতে ছাড়েন নি। সম্পাদক নুরুল কবীর, আইনজীবি ব্যারিস্টার রফিকুল হক, অবসরপ্রাপ্ত আমলা আসাফউদ্দৌলা প্রমুখ নাম গুলো কি আমরা ভুলে গেছি? তারাই তো দেশে অবস্থান করেও, সরকারের দমনমূলক মনোভাব উপেক্ষা করে তাদের অপকর্মের কথা একের পর এক ফাঁস করে গিয়েছেন। বহুল প্রচারিত দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান তবে কেন পারেন নি? কেন তার পত্রিকাকে কিছু সেনা কর্মকর্তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে হয়েছিল? এরপরও সেনা কর্মকর্তাদের রাজনীতিতে প্রবেশের ঘটনার সমালোচনা প্রকাশ করার কোন নৈতিক অধিকার কি প্রথম আলোর থাকে? সাংবাদিক হিসেবে মতিউর রহমানের ও পত্রিকা হিসেবে প্রথম আলোর সততাই বা এখন কতটা প্রশ্নাতীত?

মহানবী (সঃ)-এর কার্টুন এঁকে তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে প্রথম আলো সম্পাদক জাতীয় মসজিদের খতিব ওবায়দুল হক সাহেবের কাছে করজোরে ক্ষমা চাচ্ছেন। কথিত আছে, ঐ জটিল পরিস্থিতিতে পিঠ বাঁচানোর জন্য প্রথম আলোর ঊর্দ্ধতনেরা সাংবাদিক ইউনিয়নের জাতীয়তাবাদী অংশটির নেতৃবৃন্দের শরণাপন্ন হয়েছিলেন।

যে সরকারের বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত যৌথ বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে মতিউর রহমান অত বড় বড় মন্তব্য প্রতিবেদনগুলো লিখেছিলেন, পরে আতান্তরে পড়ে নিজের সমস্ত কর্মের দোষ তিনি চাপিয়েছেন সেই সরকারের ঘাড়েই। অর্থাৎ এক সময়ে যেসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে প্রথম আলো রাজনীতিবিদদের নিয়ে লম্বা লম্বা প্রতিবেদন ছেপেছিল, তাদের সম্পাদক সেই ভিত্তিগুলোকেই অস্বীকার করে নিলেন। সেই সময়ে অনেক রাজনীতিবিদও যারা শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন, পরে তারা স্বীকার করেছেন তারাও অনেকেই চাপে পড়েই করেছেন সেসব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন একবার বলেওছিলেন, তার দলের নেতাদের তিনি তখনই বলে দিয়েছিলেন যে ১/১১ সরকার নির্যাতন করলে নেতাকর্মীরা যেন নিজেদের বাঁচাতে সরকার যা শুনতে চায় তাই বলে দেয়। মতিউর রহমানের মতে তিনিও নিজেকে বাঁচাতে সেই সরকারের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন। তাহলে আমরা কি ধরে নিব যে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে লেখা প্রথম আলোর প্রতিটি শব্দই ছিল আসলে নিজেদের বাঁচাতে সেনানিবাস থেকে পরিচালিত সেই অগণতান্ত্রিক সরকারের খুশিমতন রচিত গল্প ও উপন্যাস।

১/১১ সরকারের সময়ে পালিত বিশেষ ভূমিকার জন্য গতকালই সংসদ অধিবেশনে প্রথম আলোর উপর দিয়ে এক চোট ঝড়-ঝাপটা বয়ে গেল। একাধিক মন্ত্রী ও এমপি প্রথম আলো পত্রিকার, বিশেষ করে সম্পাদক মতিউর রহমানকে জবাবদিহি করার জন্য স্পিকার কাছে আর্জি জানান। এই প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, বিশেষ বিষয়ে নিয়ে লেখার আগে তার সাথে প্রথম আলো প্রতিবেদকের আলোচনা করা উচিত ছিল, যেটি তাদের কেউ করে নি। স্পিকার আরও বলেন যে পরে সে বিষয়ে প্রতিবাদ জানালেও প্রথম আলোতে তা পুরোপুরি ছাপা হয় নি। এই পর্যায়ে কোন কোন সংসদ সদস্য উঠে দাঁড়িয়ে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার পেছনে মতিউর রহমানকে দায়ী করতে থাকেন ও তার বিচার দাবী করেন। মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী মতিউর রহমানের বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শাহজাহান খান সহ অন্যান্য একাধিক মন্ত্রী প্রথম আলোর বর্তমান ভূমিকাকে আরেকটি ১/১১ ডেকে আনার ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন। এই পর্যায়ে সংসদ সদস্যরা সরব হয়ে দাবীটির প্রতি সমর্থন জানান। অবশ্য মন্ত্রী ও এমপিদের আক্রমণের শিকার শুধু প্রথম আলোকেই নয়, আমাদের সময় ও সমকালকেও হতে হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের সময়ের কোন প্রতিবেদনে ব্যবহৃত শব্দের ব্যাপারে স্পিকার আপত্তি জানিয়েছেন।

ওয়ান ইলেভেন সরকার ও সেসময়কার প্রথম আলোকে নিয়ে এত কথা বলার কারণ নিশ্চয়ই আছে। ‘সেসময়ে’ যে প্রথম আলো একটি অঘোষিত সেনাশাসিত সরকারের সমর্থনে টানা দুটি বছর ভূমিকা পালন করে গিয়েছে, একজন সেনা কর্মকর্তার রাজনীতিবিদে রূপান্তরের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে প্রথম আলোর কতটুকু নৈতিক অধিকার অবশিষ্ট থাকে? আমরা বারবার বলছি প্রথম আলো সেসময়ে বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছিল। ভূমিকাটি কি এখনও বিতর্কিত আছে? মতিউর রহমানের ক্ষমাপ্রার্থনার মধ্য দিয়ে কি এটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়নি যে তার অধীনে প্রথম আলো সেনাসমর্থিত ও অগণতান্ত্রিক সেই সরকারের সমর্থনে কাজ করেছিল? এই প্রতিষ্ঠিত সত্যটিকে একপাশে সরিয়ে রেখে পত্রিকাটির কর্মীরা অন্যান্য সেনা কর্মকর্তাদের রাজনীতিতে প্রবেশের ব্যাপারে বক্র মন্তব্য করবেন, এটি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে? দূরতম অতীতে ঘটে যাওয়া সেনা কর্মকর্তাদের রাজনীতিতে প্রবেশের ঘটনার সমালোচনা করার আগে কি তাদের উচিত হবে না অদূর অতীতে তাদের নিজেদেরই সেটি সমর্থন করার ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া?

এই পর্যায়ে মিজানুর রহমান খান বলতে পারেন, তিনি শুধু সেনা কর্মকর্তার রাজনীতিতে প্রবেশের ঘটনার উল্লেখ করেছেন, একজন সাংবাদিক যেভাবে তথ্য উপস্থাপন করে ঠিক সেভাবে। এটা বলে থাকলে তা ভুল হবে না। পুরো প্রতিবেদনে তিনি একবারও সেনা কর্মকর্তার রাজনীতিতে প্রবেশের কোন সমালোচনা বা প্রশংসা করেননি। প্রাসঙ্গিক যেসব তথ্য তিনি যেখান থেকেই পেয়েছেন, তিনি সেগুলো উল্লেখ করেছেন মাত্র। এই পরিস্থিতিতে সমালোচনার প্রসঙ্গটি আসছে এ কারনে যে, সেনা কর্মকর্তার রাজনীতিতে প্রবেশের ব্যাপারে মিজানুর রহমান খানের উল্লিখিতি বিবরণকে যদি কেউ সমালোচনা হিসেবে নিয়ে থাকেন, তবে তার জেনে রাখা উচিত হবে যে এই বিবরণের প্রকাশস্থল পত্রিকাটি নিজেই দীর্ঘদিন যাবত একটি সেনাসমর্থিত অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক সরকারের সমর্থনে সক্রিয় থেকেছে, এবং পরে এই ব্যাপারে পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারপ্রধানের সরাসরি প্রশ্নের মুখে সেই ভূমিকার জন্য মাপ চেয়ে সেই গণতান্ত্রিক সরকারপ্রধানের উষ্মা থেকে তাৎক্ষণাতের জন্য রক্ষা পেয়েছে।

নোয়াব-এর নেতাদের সামনে প্রধানমন্ত্রী ১/১১-এ প্রথম আলোর বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেয়ার সময় মতিউর রহমানের দিকে আঙ্গুল তুলে ধরেন। হতবুদ্ধি মতিউর রহমান "চাপে পড়ে করেছি" বলে সব পাপ ঝেড়ে ফেলবার প্রচেষ্টা চালান।

এক্ষেত্রে প্রথম আলোর একটি অনন্য বৈশিষ্ট্যের উপর আলোকপাত করতেই হচ্ছে। প্রথম আলোর একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- কখনও বিদেশী লেখক ও সাংবাদিকদের বই ও সাক্ষাৎকার, কখনও মার্কিন সরকারের অবমুক্ত করা কোন গোপন দলিলপত্র ব্যবহার করে কিংবা কোন মৃতব্যাক্তিকে উদ্ধৃত করে চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করা। প্রথম আলোর প্রতিবেদকরা খুব ভালো করেই জানেন- প্রাথমিক উৎস থেকে সংগ্রহ করে সেসব দলিলপত্রে উল্লিখিত তথ্যগুলোর সরবরাহকারীরা প্রধানত হচ্ছেন সংস্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোতে নিযুক্ত কূটনীতিকেরা। সেসব কূটনীতিকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও সরবরাহকৃত তথ্যের ধরণ যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের উপর পুরোপুরি ভাবে নির্ভর করে, এই বাস্তবতাটুকু প্রথম আলোর প্রতিবেদকদের না জানবার কথা না। তো, শেষ পর্যন্ত প্রথম আলোর এই বৈশিষ্ট্যটির হয়তো সমালোচনা করা যেত না। কিন্তু অসুবিধা হচ্ছে, এসব লেখা বা দলিলের বেশীরভাগই একপেশে। আরও দুঃখের ব্যপার হচ্ছে, এরকম ক্ষেত্রে প্রথম আলোর নিজেদের পক্ষ থেকে তদন্তের চেষ্টা করার লক্ষণ খুব সহজে দেখা যায় না।

একটি কথা বলে শেষ করতে চাই। ১/১১-এর সময়ে প্রথম আলোর বিতর্কিত ভূমিকা ও পরে প্রধানমন্ত্রীর সম্মুখে তার জন্য মাপ চাওয়ার ঘটনায় মূলত যে বাস্তবতাটা উপলব্ধি করা যায়, সেটি হচ্ছে- প্রথম আলো ইতমধ্যেই অনেক পাঠকের কাছেই এমন একটি পত্রিকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে যেটি ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর রাজনৈতিক আচরণ মোতাবেক নিজেদের নীতির এদিক সেদিক করে থাকে। এক্ষেত্রে সরকারটি গণতান্ত্রিক না অগণতান্ত্রিক, সরকারের কোন সাংবিধানিক বৈধতা আছে কি নেই, তারা সেসব বিচার করে না, করার কথা না। সেক্ষেত্রে, একজন নিতান্তই সাধারণ ও সাদামাটা পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জানতে চাওয়া যেতে পারে যে, সেই মাপ চাওয়ার ঘটনার পর আবারও কি পত্রিকাটি ক্ষেত্রবিশেষে এমন কোন ভূমিকা পালন করছে যার জন্য পরবর্তী কোন ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শনের অধিকারী সরকারপ্রধানের উষ্মা থেকে বাঁচবার জন্য তাদেরকে তার পূর্ববর্তী সরকারকে দায়ী করে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য মাপ চাইতে হবে?

দুই অর্থনীতির প্রস্তাব করছেন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে পুর্ব পাকিস্তানকে পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণের হাত থেকে রক্ষা করার একমাত্র উপায় হচ্ছে এটি।

বাংলাদেশের স্থপতি ও প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান। মাত্র ২০ বছর বয়সে সর্বভারতীয় মুসলিম ছাত্র ফেডারেশানে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ ঘটেছিল। তারপর থেকে আমৃত্যু এই রাজনীতিতেই জড়িয়ে ছিলেন। ৩৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে যেখানেই তিনি অন্যায় ও বৈষম্য দেখেছেন, তিনি তার প্রতিবাদ করেছেন, পরিবর্তনের দাবী করেছেন। প্রতিবাদের প্রতিক্রিয়া কী হবে, রাষ্ট্র কী ধরণের নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করবে, এসব ভেবে কখনও পিছপা হননি। এই প্রতিবাদী চরিত্রের জন্য তৎকালীন অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রায় প্রত্যেকটি সরকার শেখ মুজিবুর রহমানকে কোন না কোন রাজনৈতিক কারণে বন্দী করেছে। এবং প্রত্যেকবারই রাজনৈতিক সহকর্মীদের নেতৃত্বে মানুষের তীব্র আন্দোলন তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য করেছে।
শেখ মুজিবুর রহমানের বন্দী হওয়ার প্রেক্ষাপটগুলো সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাসহ নীচে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৪৮: পুর্ব পাকিস্তানের মানুষ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নিবে, মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীনের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে মানুষ বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। পুর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগের প্রতিষ্ঠাতা নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলা ভাষার প্রতি রাষ্ট্রে ঐ নীতির প্রতিবাদে আন্দোলনের সূচনা করেন এবং একাধিক কর্মসূচীর ডাক দেন। ১১ মার্চ তারিখে শেখ মুজিবুর রহমানকে সহ আরও আটক করা হয় শামসুল হক, অলি আহাদ, আব্দুল ওয়াহেদ, গোলাম আযম সহ মোট ১২ জন ছাত্রনেতাকে। এই আটকের তীব্র প্রতিবাদে আন্দোলন আরও বড় আকার ধারণ করতে শুরু করলে ১২ আটক নেতার সবাইকে মুক্তি দেয়া হয়।
এ বছরই শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অধ্যয়নরত অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের অধিকারের দাবীতে আন্দোলন শুরু করেন এবং ১৭ মার্চ দেশব্যাপী ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়ে গ্রেপ্তার হন। এই আন্দোলনের ফলস্বরূপ কর্মচারীদের উত্তেজিত করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে শেখ মুজিবুর রহমানকে বন্দী অবস্থাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়, সম্প্রতি যে বহিষ্কারাদেশটি দীর্ঘ ৬১ বছর পর তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ বছরের শেষ ভাগে শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী মুসলিম লীগের একটি সভায় মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনের পদত্যাগ দাবী করেন। এই দাবীর প্রেক্ষিতে অক্টোবারে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীসহ শেখ মুজিবুর রহমানকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়।
১৯৫০: প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের পুর্ব পাকিস্তান সফরের পরিপ্রেক্ষিতে শেখ মুজিবুর রহমান দেশে খাদ্যাভাবের প্রতিবাদের সভা-সমাবেশ করেন এবং আটক হন।
১৯৫২: ২৭ জানুরারি তারিখে গভর্নর জেনারেল খাজা নাজিমুদ্দীন ঘোষণা দেন যে উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। এর প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার লাইব্রেরি হলে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মী পরিষদের সভায় বৃহত্তর আন্দোলনের সিদ্ধান্ত হয় ও ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখের কর্মসূচী ঘোষিত হয়। ২১ ফেব্রুয়ারির বর্বোরচিত গণহত্যার প্রতিবাদে যখন পুরো পুর্ব পাকিস্তান ফুঁসে উঠেছিল, তখন বন্দী অবস্থাতেও শেখ মুজিবুর রহমান দলের আন্দোলন কর্মসূচী ও সভা-সমাবেশ সংগঠনের পেছনে ভূমিকা রাখছিলেন। ছাত্রহত্যার প্রতিবাদে তিনি অনশন শুরু করেন। ঢাকার আন্দোলনকারীদের সাথে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফরিদপুর কারাগারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিলাভ করেন।

১৯৫৪ সালের নির্বাচনের আগে যুক্তফ্রন্টের সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন শেখ মুজিবুর রহমান

১৯৫৪ সালের নির্বাচনের আগে যুক্তফ্রন্টের সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন শেখ মুজিবুর রহমান

১৯৫৪: ৫৪-র নির্বাচনে পুর্ব পাকিস্তানে যুক্তফ্রন্ট বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে। শেখ মুজিবুর রহমান তার নিজের গোপালগঞ্জ আসনে মুসলিম লীগ নেতা ওয়াহিদুজ্জামানকে ১৩,০০০ ভোটে পরাজিত করেন। ১৫ মে তারিখে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠিত হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি ও বন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ম পান। এ মাসেই ২৯ মে তারিখে কেন্দ্রীয় সরকার আকস্মিক ভাবে যুক্তফ্রন্ট সরকার বাতিল করে দেয়। এদিনই পাকিস্তান থেকে ফেরার পথে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হন। তিনি প্রায় ৭ মাস বন্দী ছিলেন।
১৯৫৮: ৭ অক্টোবার তারিখে পাকিস্তানের শেষ গভর্নর জেনারেল ইস্কান্দর মির্জা সামরিক শাসন জারি করে সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এর ঠিক চারদিন পর ১১ অক্টবার তারিখে শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং একের পর মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। যেকোন ধরণের রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে শেখ মুজিবুর রহমানকে এবার প্রায় চৌদ্দ মাস যাবৎ আটক রাখা হয়। এ বছরেরই ২৭ অক্টোবর তারিখে আইয়্যুব খান সেনা অভ্যুত্থান করে ক্ষমতা দখল করলেও রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি পাননি। বরং চৌদ্দমাস পর তিনি যেদিন মুক্তি পান, সেদিনই জেলগেট থেকে পৃথক একটি মামলায় তাকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়।
১৯৬৩-৬৪: ১৯৬৪ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রয়াত মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্‌র বোন ফাতেমা জিন্নাহ অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাষ্ট্রক্ষমতা ইতমধ্যেই আইয়্যুব খানের হাতে থাকলেও প্রশ্নাতীত জনপ্রিয়তার অধিকারী কায়েদ-এ-আজমের বোন হিসেবে ফাতেমা জিন্নাহ্‌ আইয়্যুবের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভুত হন। যেহেতু শেখ মুজিবুর রহমান স্বৈরশাসক আইয়্যুবের মৌলিক গণতন্ত্র প্রস্তাবের বিরোধী ছিলেন, তিনি ২ জানুয়ারি, ১৯৬৪-তে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনটিতে ফাতেমা জিন্নাহ্‌কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেন। নির্বাচনের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে, ১৯৬৩-র ১৮ ডিসেম্বার তারিখে শেখ মুজিবুর রহমানকে পাবলিক সিকিউরিটি অ্যাক্ট-এর আওতায় রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৯৬৫: পাবলিক সিকিউরিটি অ্যাক্টের আওতায় শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার হয় এবং সরকারবিরোধী বক্তব্য দেয়ার কারণে তাকে ১ বছরের সাজা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দেয়া হয়।

৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬-তে শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার একটি জনসভায় ছয় দফা উত্থাপন করছেন

১৯৬৬: ঐতিহাসিক ছয় দফা উত্থাপনের বছর। এ বছরই ৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে ঢাকার এক জনসভার মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। এ বছরের মার্চের শুরুর দিকে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি ছয়দফা দাবীর প্রতি জনসমর্থন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে তিনি দেশব্যাপী ভ্রমণ করে জনসংযোগ করতে থাকেন। এই জনসংযোগ কর্মসূচীর বিভিন্ন পর্যায়ে ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহে তাকে একাধিক বার গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হয়। ১৯৬৬ সালের প্রথম ভাগেই ছয়দফার প্রচার করতে গিয়ে তিনি আটবার আটক হন। ৮ মে তারিখে নারায়ণগঞ্জের একটি পাট কলে শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্যের ফলে তিনি আবার আটক হন। এবার দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষের বিক্ষোভ প্রদর্শিত হল এবং টঙ্গি, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে গুলি ছোঁড়া হয়েছিল।
১৯৬৮: এ বছর শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট ৩৫ ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়। বলা হয়, ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)-এর কর্মকর্তা লেঃকর্নেল শামসুল আলমের দেয়া গোয়েন্দা রিপোর্টে ঐ ৩৫ জন, যাদের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানসহ ছিলেন রাজনীতিবিদ, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনের বাংলাভাষী সদস্য, এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক ষড়যন্ত্রে অংশ নেয়ার ব্যাপারে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এই মামলার অধীনে উল্লিখিত ৩৫ জনকে সেনাবাহিনী গ্রেপ্তার করে। ১৯ জুন তারিখে ঢাকা সেনানিবাসে এই মামলার বিচার কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয়।

আগরতলা ষড়যন্ত্রমামলার আসামী শেখ মুজিবুর রহমান।

আগরতলা ষড়যন্ত্রমামলার আসামী শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৬৯ সালে মামলাটির বিচারাধীন অবস্থায় এর ১৭নং আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হক আটকাবস্থায় নিহত হন। তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি সেখানে মারা যান। এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তার পরিণতিতেই আইয়্যুব খানের সরকারের পতন ঘটে। এ বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি তারিখে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাটি তুলে নেয়া হয়।
১৯৭১: বলা হয়ে থাকে যে ১৯৭১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসের বিশাল আয়োজন এবং পরে স্বাধীনতার দাবীর ফলেই পাকিস্তানের জঙ্গী শাসকগোষ্ঠী কুখ্যাত অপারেশান সার্চলাইটের পরিকল্পনা করেছিল, যার আওতায় যত বেশি সম্ভব বাংলাভাষাভাষী বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হবে। ২৫ মার্চ ছিল অপারেশান সার্চলাইটের নির্ধারিত দিন। এ সময়ে পুর্ব পাকিস্তানে সামরিক কর্মকান্ডের দায়িত্ম মূলত টিক্কা খান থাকলেও গণহত্যাটির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করেছিল জেনারেল রাও ফরমান আলী। ২৫ মার্চ তারিখে দিনের আলো নিভতেই ঢাকা ও চট্টগ্রামের রাস্তায় সামরিক বাহিনী অবস্থান নিতে শুরু করে। এক সময়ে শুরু হয় গণহত্যা। রাত যত গভীর হতে থাকে নিষ্ঠুরতার মাত্রাও তত চড়তে থাকে।

এসএসজি কর্তৃক গ্রেপ্তারের পর শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশেষ সামরিক বিমানে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় করাচিতে। করাচি বিমানবন্দরে দুই এসএসজি সদস্যে পাহাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমান।

এ রাতেই শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাসায় পাকিস্তান আর্মির বিশেষ বাহিনী স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ (এসএসজি)-র একটি দল হানা দেয়। বাসার বাইরে অপেক্ষমান কর্মী, পথচারী সহ বাসার ভেতরের কয়েকজনকে হত্যা করা হয় এবং সেখান থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে আটক করা হয়। শেখ মুজিবুর রহমানকে আটক করার পর ঢাকা সেনানিবাসের কন্ট্রোল রুম, যেখানে বসে টিক্কা খান শহরের পরিস্থিতি ও সেনাবাহিনীর কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করছিলেন, তাকে মেসেজ দেয়া হয়- “দ্য বিগ বার্ড ইন কেজ!”।

শেখ মুজিবুর রহমানের এবারের আটক হওয়া ও মুক্ত হওয়ার মধ্যে রচিত আছে ধর্ম-বর্ণ-ভাষা নির্বিশেষে প্রত্যেকটি বাংলাদেশীর গর্বের ইতিহাস।

৮ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান এবং সেদিনই একটি বিশেষ বিমানে লন্ডন পৌছান। লন্ডনের মেফেয়ারে অবস্থিত হোটেল ক্ল্যারিজেস-এ শেখ মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন, এবং মানবিকতার খাতিরে নবজাতক বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য বিশ্বের সচ্ছল দেশগুলোর প্রতি আবেদন জানান। লন্ডনে তিনি বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ও কনজারভেটিভ পার্টির নেতা এডওয়ার্ড হিথের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি লন্ডনের একটি হাসপাতালে তার শারীরিক পরীক্ষা-নীরিক্ষাও করান। ১০ জানুয়ারি তারিখে তিনি বৃটিশ রয়েল এয়ার ফোর্স (আরএএফ)-এর একটি বিশেষ বিমানে করে দিল্লী হয়ে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে বহুপ্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন করেন। দিল্লীতেও তাকে রাষ্ট্রপতি ভেঙ্কটগিরি ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিশেষ সংবর্ধনা দেন, এবং শেখ মুজিবুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করার জন্য ভারতকে ধন্যবাদ দেন।

Click here to get the full resolution.

(This article is a re-post from Bangladesh First)

It’s all about what we get used to and later what we assume the standard to be. You never know which comes first, our assumption or our getting used to. Years ago, say in late 90s or early 2000s, we had an assumption about the standard time it takes to travel certain distances inside Dhaka city. Gradually that standard time has become longer. Now, amazingly, we don’t really get stunned or the it doesn’t occur to us that we are spending the time in Dhaka’s streets nearly twice than what it was a decade ago, until someone comes up and mentions it was half of the today’s a decade ago.

We probably are waiting for some confession from any government official over Dhaka’s unbelievable traffic, like the finance minister A.M.A Muhith did over regulating commodity prices and breaking up syndicate. He simply ended up saying his government has been unable to have control over it. Dhaka’s traffic is almost catastrophically growing higher, offering all annoyances to Dhakaite dwellers, passengers, drivers and traffic police personnel too. And who knows, any responsible government official may show up someday with a confession that all have been done to fix and it was failure which eventually has come.

Isn’t it the time to think something beyond of just getting annoyed or, just regretting or, even coming up with ridiculously short-lived plans?

Rumi Ahmed
18 July, 2010. USA

Updated: Amar Desh online version again available.

Article 39 of the Constitution of Bangladesh:

39. Freedom of thought and conscience, and of speech.
(1) Freedom or thought and conscience is guaranteed.
(2) Subject to any reasonable restrictions imposed by law in the interests of the security of
the State, friendly relations with foreign states, public order, decency or morality, or in relation
to contempt of court, defamation or incitement to an offence-
(a) the right of every citizen of freedom of speech and expression; and freedom of the
press, are guaranteed.

Bangladesh Supreme Court just struck down the Awami League government’s ban on popular newspaper Amar Desh. Amar Desh online version is now available.


Based on precedence of two previous cases concerning Daily Ittefaq and Daily Banglar Bani, this verdict was very straightforward and expected. Accordingly High court verdict came with very clear judgment and an appeal by the government was a very shameful and surprising act. Esp when the government itself declared that Government had nothing to do with the ban, it was done by the district administrator of Dhaka.  And more shameful and less surprising was the act of the chamber judge of Supreme Court, Justice S K Sinha. Without letting any hearing to be allowed, he simply stayed the judgment of High court.

It is shameful because the chamber judge just violated his oath to uphold Bangladesh Constitution by allowing a Newspaper to remain closed illegally. It is not surprising considering the precedences in which  the court of the Chamber Judge is being used more frequently by the government to stall high court verdicts unfavorable to the Government.

More interestingly a case in pending in the Supreme Court in this regard. A contempt of court case was filed against Amar Desh editor Mr. Mahmudur Rahman  because Amar Desh quoted a senior lawyer of the supreme court, suggesting the same allegation against the chamber bench. In the report Daily Amar Desh quoted senior most lawyer of Supreme court and ex justice Mr TH Khan as saying, ” Chamber Judge means a stay of high court order”.

And yet more interesting was the fact that Mr Mahmudur Rahman is now ‘shown arrested’ in a case of anti corruption Commission for not submitting wealth report. In a recent spate of Supreme Court verdicts,  all acts of anti corruption commission were deemed illegal. Persons convicted by ACC are all set free and many of them are in important positions of current government. Even our current prime Minister challenged the wealth submission order of ACC, never submitted her wealth report and fought a lengthy court battle.

Sometimes, acts of the government, its law enforcement apparatus and the attorney General’s office seems bizarre. Yet again, more bizarre is the silence of the collective conscience of the country, our columnists-our editors-our TV anchors, regarding this total mindless acts of our government.


Rumi Ahmed is a Bangladeshi blogger contributing from United States.

Rumi Ahmed
15 July, 2010. USA

Mahmudur Rahman printed stories involving allegations of corruption about the Prime Minister’s family and her cabinet.

He is in prison and his newspaper has been forced to stop publishing.

Shamsher Mobin Chowdhury wrote an article in the Daily Star analyzing BNP’s victory in the Chittagong City Corporation elections.

He is in prison.

Shahiduddin Chowdhury said that Bangabandhu cannot avoid responsibility for the forty thousand people killed during his administration.

He is brutalized, denied medical treatment, and then sent to prison.

The list goes on and on.

Here’s the latest entry:

Mohiuddin Khan Alamgir’s parliamentary membership is cancelled; he is no longer a MP. The seat, Chandpur-1, will be declared vacant by the Election Commission, and a by-election will be held to it.

His BNP opponent, Ehsanul Haque Milon, has been kept in the prison for the last one year, on absurd charges such as stealing wristwatches, solely so that when this moment would come, Alamgir would have some slight edge over his younger, more telegenic opponent.

Here is the Awami League 2008 Election Manifesto, the much-celebrated “Charter for Change:

“Good governance through establishing Rule of Law and avoiding Political Partisanship. Human rights will be established on a strong footing with a view to ensuring rule of law. Independence of the judiciary will be ensured and the Institutions of the State and Administration will be freed from partisan influence.”

What is more partisan than keeping an individual in jail for more than a year just so that he will not be able to mount an effective challenge in an election?

None of this should be news to anyone. Milon’s daughter, Tanzida Nahar Haque, said as much in a recent press conference: “”It is a matter of regret that political enmity can be so ruthless and inhuman.”

It is, indeed.

After Major Jasimuddin in Bhola, Mohiuddin Khan Alamgir is the second Awami League coalition candidate whose nomination has been found illegal: which means he should not have been able to contest the election in the very first place. There are at least two more AL and Jatiyo Party MPs whose nomination will also similarly be cancelled. Then there is Sheikh Helal, the MP from Bagerhat-1, who also won an election under a conviction.

These are five members of parliament who should not have even been eligible to contest the last parliamentary elections. That they still became MPs lends proof of the BNP’s allegation that the last caretaker government under Fakhruddin Ahmed and the Election Commission did everything in their power to help Awami League. If five Awami League coalition candidates were allowed to contest in direct contravention of the laws, how many were made to win by the administration’s covert and overt manipulation on election day?

2008 is past, the string of by-elections is now the future. There is no doubt that Awami League will try their very hardest to win, through coercion and force, if necessary. Even if they win, such victories will do incalculable long-term harm to this government. There are only bad options in front of Sheikh Hasina from now on. One fears, she will stay true to character, and continue to choose only the very worst ones.


Rumi Ahmed is a Bangladeshi blogger contributing from United States.

Talks took place about the imposed friendship. How a friendship can be imposed? Several events can make the ground. There can be a campaign carried out where significant part of the media will exasperatedly not let you forget about that friendship. Again, the same campaign can take care of the other task, that, all of not-so-friendly-acts of that ceremonial friend will be well covered and obstructed while reaching the people. The whole effort becomes even more illustrious if the regime is found to have the same exasperation.

“…India’s foreign policy toward Bangladesh for these years got the fame of harshness, and it doesn’t appear to get better even after Sheikh Hasina became the Prime Minister….”

It ain’t really our fault to get anxious when a minister of the current regime Ramesh Chandra Sen places his statement like Newton placed his laws of motion, saying, the Farakka Barrage in fact never had anything to do with floods and other related difficulties in Bangladesh; it was all about the problem we have been having in ourselves. So this is another way you can help impose a friendship, or at least can help abate the bitterness about that particular ‘friend’, unnoticed of the fact that the bitterness is getting to a hike.

But it becomes hard if the friend doesn’t cooperate. You know, you are teaching me that ‘Rahim is your friend! Rahim is your friend!’, and suddenly Rahim categorizes me that I will need this and that specific clearances from him to even seek permission to enter his home, this means Rahim is giving you a real hard time. It’s just like a physics tutor is teaching Newton’s 1st book while Newton is writing a 2nd book contradicting the 1st one.

India’s foreign policy toward Bangladesh for these years got the fame of harshness, and it doesn’t appear to get better even after Sheikh Hasina became the Prime Minister. Before 5 weeks passed after Prime Minister Sheikh Hasina returned home ending this January 2010 India trip, hailing immense success of her visit and hailing the reinstating of ‘strong’ Bangladesh-India ties, the Indian authority enlisted Bangladesh as one of the few countries whose citizens will need to have special security clearances from the Indian Home Ministry to join a seminar in India.

The PIB press release upon the decision.

A press release by the Press Information Bureau (PIB) of Indian government, published at 4:12pm Indian standard time on 18 February, 2010 describes an announcement from the Home Ministry of India that says, “As per the revised procedure, while the Ministry of Home Affairs (Foreigners Division) grants in-principle approval for holding the event, security clearance for grant of Conference Visa is required from this Ministry only in respect of participants from Afghanistan, Bangladesh, China, Iran, Iraq, Pakistan, Sri Lanka & Sudan and in respect of foreigners of Pak origin and Stateless persons.”

Well, it’s their land and it’s in fact their choice that who they will permit in what purpose and how. India as a sovereign state does have the right to design its own foreign policies, and even the minimum count of realism allows them to categorize the nationals and types of the entries they will like to approve or not.

Including Bangladesh in the list containing China, Pakistan, Sri Lanka, Sudan, Iran etc. however came as a surprise. India’s relationship with other 7 nations have certain attributes which to some extent can justify such Indian sanctions to them for granting conference visas.

India has been having several military tensions turned to conflicts with China and Pakistan since 1960s, so sanctions for them are not bolts from the blue. Sri Lanka’s annihilating of RAW aided LTTE has stressed the India-Sri Lanka relationship. So sanctions for Sri Lanka too ain’t a surprise. Rather the Sri Lankan Army’s 2008 offensive was financially, diplomatically and militarily supported by China, so the China-India relationship was further stressed. Iran’s relation with presently India’s closest ally United States is sourest of all time, same applies to Sudan, so sanctions for Sudan and Iran are not bolts from the blue too.

But according to our Prime Minister Sheikh Hasina including the entire of her cabinet, the tie between India and Bangladesh is unbreakable, right?

According to the Prime Minister Sheikh Hasina, whatever measure India takes in whatever consideration, it won’t show any aggression by any mean to any concern of Bangladesh, right?

According to the Prime Minister Sheikh Hasina and many others inside or not inside her government, regimes of the past few years largely contributed in deterioration of Bangladesh-India ties, which Sheikh Hasina has been 100% successful to fix, 100% successful! Right?

The most recent Indian aggression toward Bangladesh was BSF intrusion in Jaintapur frontier of Sylhet, where a BSF unit allegedly raided to occupy a water body. Photo shows an argument between BDR and BSF personnel at Jaintapur, taking place inside Bangladesh territory.

And still the Bangladeshis are to be through the security filter to join conferences in India, rather accompanied by those who have longstanding or presently stressed ties with India.

After Sheikh Hasina returned Bangladesh from India last month, number of Bangladeshi political analysts came to the decision that any presentation of a stressed Bangladesh-India ties presently and any presentation showing India’s not-friendly-acts to Bangladesh are just insubstantial, old-fashioned and malicious propaganda to hamper the our ‘progressive tie’ with India. Now, if we ask them that why Bangladesh, having a ‘progressive’ and ‘mutually beneficiary’ tie with India as they have said, will have to be through the Indian filter of suppressing the public thoughts and freedom of expression, what the answers will be?

Indian political analysts and experts have already responded to the announcement and several pieces have been so far published criticizing such tendency of policing the free expression of opinions.

After the 2009 Awami League regime took office, tensions arose about the Tipaimukh barrage. With freshest memories about the damages Bangladesh conceded by the Farakka accord, the outcry emerged in Bangladesh against the Indian attempts at Tipaimukh. The unleashed group of intellectuals who wrote or spoke in support of the Tipaimukh barrage or kept mum shamelessly, were all turned down.

A certain manner that activism against India’s Tipaimukh efforts showed is, it associated activists both from Bangladesh and India where they worked with unity to an extent. Moreover their promotion with joint efforts and joint expressions were taking place both in Bangladesh and India. The recent decision of Indian Home Ministry hints at the Indian stance of policing public thoughts.

Special scrutiny for conference visa seekers hints at the effort by Indian analysts where the several attributes of a visa seeker like literary or activism contribution records, pattern of expression in previous seminars or conferences etc. will be scrutinized. This means, a conference about Tipaimukh Barrage in India will be participated by only those Bangladeshis who to the date haven’t even imagined about denouncing the aggressive Indian effort. Those who strongly protested the effort, in fact are the people for whom the filter in name of special security checkup has been set.

So, what about the friendship our honorable Prime Minister Sheikh Hasina was talking about?

Rumi Ahmed
25 February, 2010. USA

Exactly one year ago today, a group of violent soldiers belonging to Bangladesh border security force called BDR revolted, started murdering their officers, occupied a part of capital Dhaka and held hundreds of military officers, general soldiers and civilians hostage. During this time of occupation of nearly two days, the marauding soldiers committed one of the worst massacres in the history of Bangladesh. During these two days, they searched and killed 57 seven senior officers of Bangladesh Armed forces trapped inside the compound.

During this occupation, rather than a bold decisive response against the soldiers in killing spree, the one-month old government of Awami League opted to negotiate with the mutineers, thus indirectly giving those soldiers enough time to hunt and kill all the military officers trapped inside occupied Pilkhana campus and commit an array of other crimes including loot, arson, rape etc.
Immediately after the incident, considering the sensitivity of the issue or out of political indecisiveness, while the main opposition party refrained from being overtly critical of governments stand, the media gave the government a free ride by not critically discussing government handling of the mutiny.

The media spin that was most widely used during the immediate aftermath was that by sacrificing 57 senior army officers, government prevented an even bigger civlian casualty in the heart of Dhaka. This logic is based on a hypothetical scenerio that a group of paramilitary soldiers without heavy weapons will fight a fierce artillery gunfight and war with a combined force of the army and the air force and thus would endanger the safety of residents living in nearby areas.

Although government’s decision got a free ride at the time of the incidence, it is imperative that we discuss the decision in a critical point of view. This kind of discussion is very important in formulating a national strategy in any such problem in future.

First basic flaw in the civilian casualty spin is the hypothetical nature of the consequences. It is very difficult to believe that a group of BDR soldiers will be able to fight such a fierce war with armed forces. This sort of situation is not unprecedented in Bangladesh. Since independence there are instances where similar occupation/ hostage situation in the heart of Dhaka or other parts of the country were dealt with decisive military counter offensives. Examples can be cited are 1977 occupation of Dhaka Airport at Tejgaon, 1994 occupation of Ansar HQ in Khilgaon, 1977 revolt in Bogra cantonment.

Second logic was that it was a hostage situation and government had no option but to give in to the demands of the killers. Examples of Pakistan Lal Mosque, Aircraft hijacking, and lately Taj hotel etc were shown. But one has to understand that Pilkhana is not an aircraft or a mosque or a hotel. It is a part of BD, double the size of Vatican city. It has two graduate level colleges, three schools, several mosques, botanical garden with rose/ orchid garden, paddy fields, markets, shops, zoo with the walled boundary. In addition there are residential quarter, lush green fields and sports complex. It was not a hostage situation, it was occupation of a part of Bangladesh. A war was declared. A soldier was shot and killed on 25th morning and another soldier was wounded who later died. Civilians were also shot at indiscriminately and killed.

Although heavily armed military units were deployed within 30 minutes of the first shot at Pilkhana, the forces were kept idle and later was withdrawn. While supreme commander and the army chief is expected to be in secure war room in Army HQ, our army chief was seen sitting all day at the unsecured civilian residence of the PM that was also withing firing distance from Pilkhana.

The rest of the story is more pathetic. Mysteriously, after two days of permissive killing, all the mutineers fled the campus under cover of darkness. Frantic SOS calls from the brightest officers stopped one after one.

Two days later when mas graves, charred bodies were being discovered, most of the killers were out of reach with an unknown amount of weapons and ammunition.

In the coming years, there will be more discussion on handling of Pilkhana massacre. This would look like a big failure of PM and will keep haunting her.

When PM Hasina’s father was being surrounded by the killers, his frantic phone calls did not bring any help from the Army high command or paramilitary Rakhkhi bahini. This has always been an issue of pain for Sheikh Hasina. But when a similar SOS came to her, although her initial gut feeling supported sending in army, she later failed. A 15th August style massacre was replicated under her watch. Children of Major General Shakil or Colonel Mujib lost both of their parents and hundreds of others lost either their parents, husbands, brothers, sister, sons or daughters. Even teen age maid/ helping boys were also killed.

The reason of this command failure from civilian and military leadership was not PM Hasina’s Hasina sole failure. There was inherent problem in her advisers. In Pilkhana type situation, it was the job of the military chief to set up command center, device a strategy, design specific plans and present the PM with the defence/military perspective in dealing with such scenario. In this regard, the person who failed most miserably is Army Chief. Post 1/11 role of this Army Chief created an uneasy relationship between civilian leadership and army chief. PM could not trust army chief. Plus govt was new. It was the job of Chief of Army Staff to advise and convince PM for prompt action and present her the strategy and the plans. But this chief’s post 1/11 activities handicapped his ability to perform his job with authority. This COS had no moral or legal right to remain as Army chief after his failed coup of 1/11. In ideal world, there must not be any lack of trust between the head of the government and the Army chief. If that develops, any patriotic army chief, who cares more for his forces and the country than his own job, should resign. COS Moeen U Ahmed was so eager to keep his own job, he totally failed in his job to defend the country as well as protect his officers. He failed his army as well as the nation.

We must learn from our experience of 25th February. As a nation we must know what we will do if Myanmar send 500 mercenary to occupy Cox’sbazaar, or JMB takes over Bholarhat Upazilla and impose strict Islamic law or Maldives send troops to capture Mongla port? Would we send the local MP with white flag?

We always talk about the spirit of 1971. On 25th March night of 1971, EPR jawans/officers were attacked in a similar way in the same garrison in Pilkhana. Those soldiers did not raise white flag citing neighborhood civilian. As a war was declared, EPR jawans of Pilkhana fought back.This is the spirit of 1971. A war was imposed on us on 25th Feb 2009. We raised white flag without fighting. This was not in line with spirit of 1971. May be our Supreme court Justice Mr ABM Khairul Haq, citing ‘71 er chetona’ as the principle of of constitution, would write another 400 page verdict someday declaring governments BDR handling was illegal.
Jokes aside, seriously speaking, if we have to send local MPs with white flags to deal with occupation and mutiny and make army retreat with their dead soldiers, Why we build and keep the army then?

A battle was fought on 25th February 2009. We failed to respond appropriately, thus losing 57 of our brightest military officers.

It is a shame. And it was a command failure of the civilian and military leadership.

* * * * *

Rumi Ahmed is a Bangladeshi blogger from United Sates.

The Day We
Learnt We will be
the Bangladeshis

M. Tawsif Salam

A school goer in Bangladesh won’t end up without knowing the name of Jabbar, Salam, Rafiq and Barkat. Thanks to the education system we have, which according to the experts has a bunch of flaws, but explains the 21 February of 1952 in a way that we take this as a something we have to respect as part of our lives, as part of our being the Bangladeshis.

The language movement was a series of events that started immediately after Pakistan’s independence from the British Raj. Here is a very short description of the events starting from 1947 which eventually resulted at the martyrdom of 8 people in February 1952 and the triumphant conclusions for the Bangladeshis both in 1952 and 1971.


A rally taking place inside Dhaka University.

On 14 August of 1947, 69 million people got the new entity as ‘the Pakistanis’ and among them 44 million were living in the east who solely spoke in Bangla. An education summit held in Karachi in 1947 for the first time called for exclusive use of Urdu in education, media and offices.

The organization or outfit to make an immediate protest of the initiative was Tamaddun Majlish, an Islamic cultural organization based in the then East Pakistan. Abul Kashem, better known as Principal Abul Kashem, a Dhaka University physics professor, was founder and the key person behind this organization, which in fact advocated the movement to establish Bangla instead of Urdu as the state language of Pakistan.

Dhirendranath Datta

East Pakistan, especially the capital Dhaka didn’t stop staying vibrant on the issue. Dhaka University, the heart of the language movement, in 1948 started being accompanied by some major politicians of East Pakistan. Nurul Haque Bhuiyan, another professor of Dhaka University, convened a movement of Tamaddun Majlish and simultaneously Shamsul Haque, a Bengali lawmaker, formed a committee with some other politicians to strengthen the voice.

As Bangla was not allowed to use in the assembly, Dhirendranath Datta, a senior lawmaker from Comilla and the veteran Indian National Congress leader who refused migration to India after 1947 partition, proposed a legislation to allow Bangla as an usable language in the assembly. The proposition was firmly turned down.

Abul Kashem


A mass movement mostly by the students in Dhaka took place on 11 March, 1948 where the regime became the most aggressive to the date. This protest was basically due to the dramatic removal of Bangla from coins, federal stamps, some other key official uses and especially from the recruitment exam of Pakistan Navy which was taking place during the timeline. That day a number of political and student leaders were arrested including Shamsul Haque, Ali Ahad, Abdul Wahed, Sheikh Mujibur Rahman, Golam Azam and 12 others. Other key persons of the procession were Abdul Malek Ukil, Mohammad Toaha and Abdul Matin. As a response to the assaulting law enforcers, Mohammad Toaha snatched a riffle from a police. Later Toaha was detained and tortured by the police, which resulted at his few weeks of stay in hospital.

Another part of this same rally on 11 March, 1952 marched toward the secretariat building where police was waiting to open attack on the students. Several students, leaders including Sher-e-Bangla A.K. Fazlul Haque was injured.

On 27 November, 1948, Golam Azam, General Secretary of DUCSU and later the Amir of Jama’at-e-Islam, presented a memorandum to Pakistan’s Prime Minister Liakat Ali Khan at Gymnasium Ground, Dhaka University, demanding Bangla to be the state language of Pakistan. But it got nothing but the denouncement of the Prime Minister representing the central administration.

Police formation to curb the 11 March, 1948 procession in Dhaka

It’s actually for those of the learners who at the schools have been largely taught that the movement started after Jinnah’s 1948 speech at Dhaka University convocation. Yes, the near final stage of the movement was triggered to start after Jinnah presentation of his Urdu-only policy at Dhaka University on 19 March, 1948. But the structure was very well formed before the Jinnah speech. This same structure was the spirit for our gallant freedom fighters to liberate Bangladesh.


On 27 January, 1952, Khwaja Nazimuddin, the Urdu-speaking Bengali from Dhaka’s Nawab family and the Governor-General of Pakistan, defended Jinnah’s policy of using Urdu exclusively in entire Pakistan. This in fact was not taken as an act of betrayal by a Bangali because Khwaja Nazimuddin with some other East Pakistanis holding higher positions in the central administration didn’t stood by us to protect Bangla as the major language.

Procession at Dhaka University on the fateful 21 February, 1952

As a response to Nazimuddin, a meeting at the banner of Shorbodolio Kendriyo Rashtrobhasha Kormi Porishod took place at the Bar Library Hall of Dhaka University on 31 January, 1952, chaired by Maulana Abdul Hamid Khan Bhashani. The meeting decided 21 February as the date to go for a greater action. As a preparation of 21 February, students and people gathered at Dhaka University campus on 4 February and issued a final warning to the regime to come by their proposal.

21 February

As planned, students started gathering at Dhaka University premises at 21 February morning at 9am. The entire compound was cordoned by the police and amid the cordon students with the Vice Chancellor and other teachers were preparing to disobey the section 144 that police enforced earlier. At around 11am, a rally of students marched toward the Dhaka University gate.

Police waiting at the cordon shot tear shell fires to the students. This resulted the expected disarray in the rally and a group of students ran toward the Medical College. The Vice-chancellor requested the Police to stop firing. At this point police arrested a number of students due to violation of section 144.

Enraged by the arrests, a group of students gathered around the East Bengal Legislative Assembly to show anger and to present their demand to the assembly. As the students blocked the legislator’s way toward the building, Police opened fire. Rafiquddin Ahmed, a Dhaka resident who took part in the procession, was shot in the head and died instantly, being the first martyr of Bangla language movement. Others who succumbed the bullet injuries were Abdus Salam, Abul Barkat and Abdul Jabbar.

22 February

Killings took place on 22 February too, particularly on two locations. One was in front of High Court, where a military truck was deliberately driven over a procession mourning the killings of 21 February. It took the lives of Abdul Awal, a rickshawpuller, and an unidentified teenager. Dead body of the teenager was snatched by the police and his death later was never acknowledged.

A condolence rally inside Dhaka University on 22 February, mourning the killings of the previous day

Another condolence procession was in progress near Rathkhola of Nawabpur, Dhaka. Without any provocation and at all of a sudden, police opened fire on a rally. Shafiur Rahman, a Dhaka University law student and also a High Court Accounts section employee, who was in a rally beside the Khoshmahal Restaurant near Rathkhola, was martyred. The shootings also took life of a teenager named Ohi Ullah. But his body was taken by the police and later never found. Death of Ohi Ullah was later never acknowledged by the authority.

Rafiquddin Ahmed

Rafiquddin Ahmed

Probably the first martyr of Bangla language movement, Rafiquddin Ahmed was born to Abdul Latif Miah and Rafiza Khatun on 30 October, 1926 in the Paril village at Singair Upazila, Manikganj. Rafiq’s father has been employee of Manikganj Commercial College. Rafiq completed his matriculation from Baira School in 1949 and kept his intermediate incomplete being a student at Devendra College.

Discontinuing studies, Rafiquddin was sent to Dhaka to work in his father’s printing business. After the date 21 February was fixed for a greater action by Shorbodolio Kendriyo Rashtrobhasha Kormi Porishod, Rafiq responded and joined the movement. He was shot exactly in the position the present Shaheed Minar is situated in, in front of the then Dhaka Medical College.

Abul Barkat

Abul Barkat

Barkat’s family migrated to East Pakistan when he was 21-year old. He was born on 16 January, 1927 in the village Babla at Bharatpur, Murshidabad, West Bengal. He completed his matriculation in Talibpur High School in 1945. Completion of intermediate was in 1947 from Behrampore College, later known as the Krishnath College. His family migrated to East Pakistan in 1948.

In 1948 Barkat admitted in Dhaka University for his undergrad. His concentration was Political Science and he completed his honours in 1951 standing 4th in second class. Following the honours, he started masters in the same subject in Dhaka University.

Though there was no involvement in any student or political organization, Abul Barkat was a student with political consciousness and he couldn’t evade the call of greater gathering by Shorbodolio Kendriyo Rashtrobhasha Kormi Porishod. On 21 February, 1952, Barkat joined the fateful rally at Dhaka University and became shot at the very initial stage of police aggression. Rushed to Dhaka Medical College Hospital with other injured, he fought for the whole day. Abul Barkat was pronounced dead at 8pm on that day at Dhaka Medical College Hospital. He was buried at Azimpur Graveyard.

Abdul Jabbar

Abdul Jabbar

Abdul Jabbar was born to Hasan Ali and Safatun Nesa on 11 October, 1919 in the village Panchua at Gaffargaon Upazila, Mymensingh. He discontinued his education being a student of Dhopaghat Krishibazar Primary School, mostly due to poverty and the fact that he had to help his father in farming.

In order to seek better fortune, Jabbar travelled by train to Narayanganj, then an important place with commerce, naval communication etc. In Narayanganj Jabbar got in touch with a British national who found a job for him in Myanmar, the then Burma. Jabbar returned home after working for 12 years in Burma. Upon his return, Jabbar organized few youngsters of his village and formed a village defense group under his command.

In 1949 Jabbar married Amina Khatun, his friend’s sister. In one and half year, they were blessed with a boy, who was named Nurul Islam Badal.

The night before the decisive 21 February, Jabbar came to Dhaka to take his mother-in-law home. Jabbar’s mother-in-law, suffering from cancer, was being treated in Dhaka Medical College Hospital. The following day, seeing a procession onward beside the hospital, Jabbar went ahead and joined a rally. Jabbar’s rally was one of the those on which police opened fire. Jabbar was shot and was rushed to Dhaka Medical College Hospital where he fought for a day. Jabbar succumbed his wounds on 22 February, 1952.

Abdus Salam

Abdus Salam

Abdus Salam was an employee of Directorate of Industries Dhaka. He was born to Mohammed Fajil Miah in 1925 in the village Lakshmipur of Feni. Being a peon of the Directorate of Industries, he lived at 36B Nilkhet Barrack, the place that was allotted to him for his being a government employee.

Salam attended the pre-planned procession at Dhaka University premises on 21 February, 1952, and later became part of the action to violate section 144. As the police responded with tear shell shots, a group of protesters including Abdus Salam ran toward the assembly building where they tried to make the legislators convey their insistence to the house. As the group tried to bar the way of the legislators, police opened fire and Salam got injured with several other protesters. In the same wave of fire, Rafiquddin received a lethal head shot and died on the spot.

Abdus Salam was rushed to Dhaka Medical College Hospital where doctors started fighting with his blood loss. Salam’s injuries were severe and appeared to take time to recover. After nearly a two weeks fight, 27-year old Abdus Salam succumbed his wounds on 7 April, 1952 under treatment at Dhaka Medical College Hospital.

Shafiur Rahman

Shafiur Rahman

Shafiur Rahman was born in 1918 in the village Konnagar at Hooghly, West Bengal, where in fact his family lived before the 1947 partition. His father Maulvi Mujibur Rahman migrated to East Pakistan in 1948 and got employed as a superintendent at the Post and Telegraph Office. Shafiur was employed at the Accounts section of High Court in Dhaka and simultaneously studied law in Dhaka University as an evening student. He was married.

The entire region turned stunned after police opened fire on the protesters on 21 February, 1952 and instantly killed at least 4 of them. A large crowd gathered for further protests and mourning in Dhaka on 22 February. In such a demonstration taking place at Rathkhola, Nawabpur, Dhaka, police again opened fire. Shafiur Rahman, who joined the mourning of the deaths of 21 February, was shot beside the Khoshmahal Restaurant near Rathkhola and died on the spot. He was 34-year old.

Abdul Awal

Abdul Awal died after a military truck was driven over a condolence procession on 22 February, 1952 taking place in front of today’s High Court. Awal was a rickshawpuller and was 26-year old.

Ohi Ullah

Ohi Ullah was a teenager who died on 22 February shootings at Rathkhola, Nawabpur, Dhaka condolence rally and his death was never officially acknowledged by the government. His father Habibur Rahman was a construction worker.

Unidentified Teenager

Abdul Awal was not the only victim of the 22 February killings in front of the High Court. As a condolence rally was deliberately ran over by a military truck, a teenager too died who was later never identified because police snatched his corpses and later never acknowledged the killing.


  • Asiatic Society of Bangladesh
  • South Asia Analysis Group
  • Encyclopaedia of World’s Languages
  • Richard D. Lambert (Far Eastern Survey at April 1959)
  • Bangla Academy
  • Amar Ekushe (
  • The Azad
  • Asia-Pacific Centre for Security Studies

Hussain Imam
31 January, 2010, Dhaka

When BNP chairperson Begum Khaleda Zia criticises Sheikh Hasina or her government on any matter, (or vice versa), it can be in most cases assumed that the latter must have done something good. The more severe the criticism, the higher is the chance of such assumption turning out to be true.

If we go by this theory, the way BNP chairperson Begum Khaleda Zia has reacted to Prime Minister Sheikh Hasina’s recent visit to India is a clear indication that Sheikh Hasina’s trip has been a tremendous success.

Sheikh Hasina has during her visit signed three treaties, one memorandum of understanding (MoU), one protocol, and a joint communiqué. While the treaties related mostly to ensure security of the region through united action against terrorism, religious jingoism, political insurgency and women and drug trafficking, the other agreements including the joint declaration aimed at resolving all other bilateral and multi-lateral issues through mutual discussion based on good friendly relations between the two countries.

Sheikh Hasina thinks that her visit has been a complete success. She thinks that the visit has opened a new horizon of bilateral and regional cooperation between the two countries. Why should she not?

As reported by an Indian journalist, when Sheikh Hasina, during her summit meeting with Prime Minister Manmohan Singh, took out her list of demands, Manmohan Singh told her that she did not have to ask anything. Whatever was the need of Bangladesh, India would go to the furthest extent to meet those demands.

Begum Khaleda Zia

Regarding Tipaimukh Dam, the most sensitive issue for Bangladesh, Manmohan Singh has categorically told Hasina that India will not do anything that will harm Bangladesh. About sharing water of Teesta and other common rivers, both the countries have agreed to a ministerial level JRC meeting on urgent basis.

India is our big neighbour, bordering us on three sides — east, west and north. It is a vast country, seven times bigger than our country by population alone. It is the largest democracy and one of the fastest growing economies in the world, poised to be the third biggest economic superpower in a decade or so.

When the prime minister of such a country, and if the prime minister is Manmohan Singh, one of the finest men at the helm of affairs anywhere, gives such assurance, why should not Sheikh Hasina, as prime minister of Bangladesh, feel confident of her success in the mission?

Given the nature of the politics BNP has been pursuing ever since it came into existence, it is not surprising that the chairperson of the party will oppose every move Sheikh Hasina makes, and if it is anything related to India, she will use her anti-Indian trump card and go to any extent to spoil the broth.

Begum Zia has tried to do exactly that. She has, through a hurried press conference, termed the visit not only a total failure but also harmful to the nation. She has accused Sheikh Hasina of giving everything to India and getting nothing for Bangladesh in return. She did not stop there. She has, as she did when the AL government signed the historic peace treaty of Chittagong Hill Tracts in 1997, accused Sheikh Hasina of selling the country to India.

In 1997, it was up to Feni that Khaleda Zia accused Shekh Hasina of selling to India. This time it is the whole country. No wonder, Sheikh Hasina was quick enough to ask Begum Zia if she needed an Indian visa to visit her hometown in Feni.

Sheikh Hasina’s visit to India and the agreements or understandings arrived at during the visit have, as many a political analysts, academics and economists across the region agree, turned over a new leaf of relation between the two countries, and if the treaties and the agreements see the light of the day, both the countries, indeed the whole South Asian region will be immensely benefited. The whole region will usher in a new era of peace and prosperity. Why not wait and see?

Bangladesh has allowed India, along with Nepal and Bhutan, to facilitate transit of their cargo to their hinterlands through Chittagong, Mongla and Ashuganj port and, in return, Bangladesh will also be able to transit its cargo to and from Nepal and Bhutan using Indian territory. This will not only bolster economic activities of our ports and earn huge revenue but also help develop trade and business activities between the countries. This is a practice not uncommon elsewhere. Singapore and Rotterdam are glaring examples in front of us.

It is unfortunate that Begum Zia or for that matter her think tanks and advisers do not realise that their anti-Indian card has gone all blunt. The present generation is not prepared to buy it any longer. They want to go ahead with the others. They know very well that in the face of imminent threat of climate change and terrorist activities across the region there is no alternative to active cooperation and friendly relation among all the neighbouring countries of the region.

* * * * *

Hussain Imam, a former merchant navy officer, is a regular contributor to The New Age, the Daily Star and Daily Sangbad.

The Writer’s Club in Bangla

দ্যা রাইটার্স ক্লাবের বাংলা ভার্সন লেখক সংঘ ব্লগ খোলা হয়েছে।

The Writer's Club is now available in Bangla.

RSS South Asia

  • An error has occurred; the feed is probably down. Try again later.

RSS Unheard Voices

  • An error has occurred; the feed is probably down. Try again later.
September 2019
« Nov