You are currently browsing the category archive for the ‘Uncategorized’ category.

Originally published here in Bangladesh First, 22 September, 2010.

বিএনপির প্রতিষ্ঠা লাভের প্রক্রিয়াটিকে নিয়ে ভেবে প্রথম আলোর মিজানুর রহমান খান যে অনেক মূল্যবান সময় ব্যয় করেছেন, সেটা প্রথম আলোয় প্রকাশিত তার “বিএনপির জন্ম যেভাবে সেনানিবাসে” সিরিজটি পড়ে বোঝা যায়। অবশ্য গবেষণা ছাড়া আকস্মিক ভাবে কিছু সূত্রের সন্ধান বা কোন নির্দেশনা পেলেও বহু আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে ব্যাখ্যা করার উদ্যোগ কেউ কেউ নিতে পারেন। মিজানুর রহমান খান কোনটি করেছেন জানি না।

মিজানুর রহমান খানের প্রতিবেদনটিতে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ কিছু শব্দের উপর বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। আমি জানি না সেগুলো কি মিজানুর রহমান খানের কি-ওয়র্ড ছিল কিনা। তবে এটা হলফ করে বলা যায়, পাঠকরা সেসব কি-ওয়র্ড নিমেষেই শনাক্ত করবেন। কি-ওয়র্ড-এর প্রসঙ্গে একটু পরে আসি। প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা তথ্যগুলোর সূত্র প্রসঙ্গে কিছু বলার ছিল, সেগুলো আগে বলে নেই।

http://firstcache.files.wordpress.com/2010/09/stephen-eisenbraun.jpg

স্টিফেন আইজেনব্রাউন

প্রতিবেদনটি পড়ে জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠা লাভের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে উল্লিখিত তথ্যাবলীর উৎসগুলো হচ্ছে মূলত- ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তৎকালীন এক কর্মী (পলিটিকাল কাউন্সেলর), প্রয়াত ন্যাপ নেতা মশিউর রহমানের ভাই ও ছেলে এবং বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। প্রতিবেদনের দুটি মুখ্য অংশের তথ্যের উৎস হচ্ছেন মার্কিন দূতাবাসের সেই কর্মী স্টিফেন আইজেনব্রাউন এবং ন্যাপ নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ভাই মোখলেসুর রহমান। এদের মধ্যে আইজেনব্রাউনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো মিজানুর রহমান সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সংগ্রহ করেননি। সেগুলো সংগৃহীত হয়েছে ২০০৪ সালে আইজেনব্রাউনের সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী এক তৃতীয় ব্যাক্তির কাছ থেকে, ইমেইল বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে।

চার্লস স্টুয়ার্ট কেনেডির নেয়া আইজেনব্রাউনের ঐ সাক্ষাৎকারের সূত্র ধরে বেশ কিছু ব্যাক্তির সাথে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কথোপকথনের বিশদ বিবরণ প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলো পড়ে অনেকেরই ভ্রম হতে পারে সেগুলো কোন ভিডিও ক্লিপ দেখে বা অডিও ক্লিপ শুনে লেখা হয়েছে। ভ্রম হওয়ার ব্যাপারটি প্রাসঙ্গিক নাও হতে পারে, কেননা সেসব ভিডিও বা অডিও ক্লিপ মিজানুর রহমানের কাছে থেকে থাকতে পারে, কিংবা থাকতে পারে জিয়ার সাথে একান্ত আলোচনায় অংশ নেয়া সেই ব্যাক্তিদের কারও না কারও স্বীকারোক্তি। মিজানুর রহমান খান প্রতিবেদনে বলেননি যে সেগুলো তার কাছে নেই। তবে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, মিজানুর রহমান এটাও বলেননি যে নির্ভরযোগ্য সেই উৎসগুলোর কোনটি তার কাছে আছে। বললে আমরা পাঠকরা একটু নিশ্চিন্ত মনে তথ্যগুলো গলধঃকরণ করতে পারতাম।

প্রতিবেদন পড়ে জানা যায়, জিয়ার সাথে একান্তে হওয়া আলোচনার বিষয়ে যেসব তথ্য মিজানুর রহমান দিয়েছেন, সেসব তথ্যর মূল উৎস হচ্ছে ন্যাপ নেতা মোখলেসুর রহমান যাদু মিয়া।  এটা বোধগম্য যে ১৯৭৯ সালে মৃত্যুবরণ করা যাদু মিয়া এসব তথ্য সরাসরি মিজানুর রহমানকে দেননি, কেননা দিলে প্রতিবেদনে তার উল্লেখ থাকত। যাদু মিয়া সেসব কথা বলেছিলেন আইজেনব্রাউনকে (একান্তই আইজেনব্রাউনের ভাষ্য মতে)। এই আইজেনব্রাউনও তথ্যগুলো মিজানুর রহমানকে (সরাসরি যোগাযোগ করা সত্তেও) দেননি, দিয়েছিলেন চার্লস স্টুয়ার্ট কেনেডিকে, ২০০৪ সালে দেয়া এক সাক্ষাতকারে। শেষ পর্যন্ত ১৯৭৬-৭৮ সালে ঘটা সেসব ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তিনবার হাত বদল হয়ে মিজানুর রহমান খানের কাছে এসে পৌঁছেছে কেনেডি সাহেবের মারফত, গত ৩০শে আগস্টে পাঠানো এক ইমেইলের মাধ্যমে। সেই মতে, মিজানুর রহমান খানের প্রায় ছয় হাজার শব্দবিশিষ্ট ঐ প্রতিবেদনটির একটা উল্লেখযোগ্য অংশেরই সূত্র হচ্ছে কেনেডি সাহেবের কাছ থেকে তিন সপ্তাহ আগে পাওয়া সেই ইমেইলটি।

কথোপকথন আর তার সূত্রের ব্যাপারে যা বলছিলাম- তো, প্রতিবেদনটিতে জিয়াউর রহমানের সাথে এরশাদ, জেনারেল মঞ্জুর, যাদু মিয়া ও তৎকালীন এনএসআই প্রধানের কথোপকথন রীতিমত ইনভার্টেড কমা সহকারে যোগ করা হয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে লঘু মেজাজে বলা (অন্তত পড়ে তাই মনে হল) কথাও যোগ করা হয়েছে গুরুত্বের সাথে। তো, বক্তাদের একজনের সাথেও সরাসরি যোগাযোগ না করে, দ্বিতীয়ও তো নয়ই, তৃতীয়ও নয় বরং চতুর্থ পর্যায়ের একটি সূত্রের ভিত্তিতে পাওয়া বর্ণনাগুলোকে একেবারে ইনভার্টেড কমা সহকারে উল্লেখ করা হলে তার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু হবে, এই প্রশ্ন বিজ্ঞজনদের কাছে রাখলে আশা করি দোষের কিছু হবে না। বিশেষ করে প্রতিবেদনে একাধিক বার “নাকি” শব্দের ব্যবহার (“তিনি নাকি বলেছিলেন”, “এরশাদ প্রথমেই নাকি বলেছেন” ইত্যাদি) সম্ভবত এই গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নটিকে জোরদার করবে।

আইজেনব্রাউনের সাথে মিজানুর রহমানের কোন তথ্য আদান-প্রদান না হলেও ন্যাপ নেতা মশিউর রহমানের ভাই মোখলেসুর রহমান আর ছেলে আনোয়ারুল গনির সাথে তিনি নিজেই কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। মওদুদ আহমেদের সাথেও কথাবার্তা হয়েছে সরাসরি ভাবে।

ভাবছেন উৎসের লম্বা ফিরিস্তি টেনে এখন সেগুলোর নির্ভরযোগ্যতা, কিংবা সেগুলোর ভিত্তিতে এত বড় একটি বিষয় নিয়ে একেবারে ‘অনুসন্ধানী প্রতিবেদন’ লিখে সেরে ফেলার যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা করব? না, তা নয়। উৎস গুলো উল্লেখ করলাম আসলে অনেকটা নিজের সাথে কথোপকথনের মত করে। কেননা পুরো সিরিজটা পড়ে সবগুলো তথ্যসূত্রের স্পষ্ট পরিচয় পেতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে।

এইবার কি-ওয়র্ডের প্রসঙ্গে আসা যেতে পারে। কি-ওয়র্ডগুলো কী কী? প্রতিবেদনটিতে এমনকি চোখ বোলালেও শনাক্ত করা যায়- সেনানিবাস, সেনাছাউনি, সেনানিবাসের বাড়ি, গভীর রাত, গোপন বৈঠক এবং গোপন আলোচনা, এই কয়েকটি শব্দের উপর বিশেষ জোর দেয়া আছে। আরেকটি শব্দ রয়েছে, সেটি হচ্ছে ষড়যন্ত্রমূলক। একটা ব্যাপার দেখে মজা না পেয়ে পারা গেল না। মিজানুর রহমানের এই ‘অনুসন্ধানী’ সিরিজের শেষ কিস্তিটির শিরোনাম হচ্ছে, “সেনাছাউনিতে বিএনপির জন্মকে ষড়যন্ত্রমূলক বলেন আইজেনব্রাউন”। অথচ ঐ পুরো কিস্তিটিতে ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র একবার, এবং বলেছেন মার্কিন দূতাবাসের কর্মী আইজেনব্রাউন। অথচ কেন ষড়যন্ত্র, কীভাবে ষড়যন্ত্র এবং কিসের ষড়যন্ত্র, সেটির উল্লেখ আইজেনব্রাউন করেননি, স্পষ্ট ভাবে লেখেননি মিজানুর রহমান খানও। বরং প্রতিবেদনটি পড়ে কেউ যদি অভিযোগ তুলেন যে দুর্বল বা অস্পষ্ট সুত্রের ভিত্তিতে দেয়া তথ্যগুলোর পরিবেশনায় প্রেসিডেন্ট জিয়ার প্রতি কলঙ্ক লেপনের প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে, তবে সেই অভিযোগকারীর দাবীকে নস্যাৎ করার মত খুব জোর হয়তো আমরা পাব না।

এক্ষেত্রে আরেকটি ব্যাপারে আলোকপাত করতে হয়। আইজেনব্রাউন নাকি বলেছেন বিএনপির প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটি ষড়যন্ত্রমূলক ছিল। মিজানুর রহমান খানের মতে (আসলে কেনেডি সাহেবের মারফত আইজেনব্রাউনের মতে) সেই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা নাকি ছিলেন বিএনপির বর্তমান স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। কথা হচ্ছে, মওদুদ আহমেদের সাথে সাক্ষাত করেছেন বলে মিজানুর রহমান খান তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন। শেষ কিস্তিতে একটি কথোপকথনও তুলে ধরেছেন। এই পর্যায়ে, যারা মিজানুর রহমান খানকে ইতমধ্যেই একজন সাহসী সাংবাদিক হিসেবে শনাক্ত করে ফেলেছেন, তাদের মনে এই প্রশ্নের উদয় হতে পারে যে, মিজানুর রহমান খান মওদুদ আহমেদকে ষড়যন্ত্রের হোতা হওয়ার ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করলেন না কেন। হলফ করে বলতে পারি না এই প্রশ্নটি করার সাহস তিনি যুগিয়ে উঠতে পারেন নি। সেক্ষেত্রে প্রশ্নটি যদি করেই থাকেন, তবে প্রতিবেদনে কেন তার উল্লেখ নেই, সেটি ভেবে অনেকেই নিজেকে বঞ্চিত মনে করছেন।

http://firstcache.files.wordpress.com/2010/09/president-zia-630px.jpg

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কোন বর্ণবাদী সংগঠন তো নয়ই, কোন সন্ত্রাসী সংগঠনও নয়। এটি একটি রাজনৈতিক দল, যেটি প্রতিষ্ঠা করার কয়েক বছর পর জিয়ার মৃত্যু হয়েছিল এবং তারও প্রায় এক দশক পর দলটি জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছিল। তো, প্রতিষ্ঠালগ্নে একজন রাষ্ট্রনায়ক এই প্রসঙ্গে নানান দৃষ্টিভঙ্গির রাজনীতিবিদদের সাথে দেখা করেছেন, তাদের সাথে বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকগুলোতে পরিকল্পতি দলটির সম্ভাব্য নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, মিজানুর রহমান খানই তার প্রতিবেদনে সেসব উল্লেখ করেছেন। এক্ষেত্রে সেসব বৈঠকগুলোকে বা বিএনপির প্রতিষ্ঠালাভকে কেন ষড়যন্ত্রমূলক বলা হবে, সে ব্যাপারে মিজানুর রহমান খান স্পষ্ট ভাবে কোন ব্যাখ্যা তো দেনই নি, বরং মার্কিন দূতাবাসের তৎকালীন এক কর্মী, যার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেও তিনি বিস্তারিত কিছু জানতে পারেননি, জানতে হয়েছে তৃতীয় এক ব্যাক্তির মাধ্যমে, এই আইজেনব্রাউনের একটি উক্তির ভিত্তিতেই তিনি তার প্রতিবেদনের শেষ কিস্তির শিরোনাম নির্বাচন করেছেন “সেনাছাউনিতে বিএনপির জন্মকে ষড়যন্ত্রমূলক বলেন আইজেনব্রাউন”। এই নির্বাচন কি ঠিক হয়েছে কিনা তা বিজ্ঞজনেরা বিচার করবেন। তবে প্রশ্ন রাখতে যেহেতু দোষ নেই, আমরা প্রশ্ন রাখছি।

গভীর রাত শব্দটির বহুব্যবহার প্রসঙ্গেও কিছু বলা যেতে পারে। জিয়াউর রহমান ছিলেন রাষ্ট্রনায়ক। যে স্টিফেন আইজেনব্রাউনকে উদ্ধৃত করে মিজানুর রহমান খান বিএনপির প্রতিষ্ঠালাভকে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, সেই স্টিফেন আইজেনব্রাউনের বিবরণেই বলা আছে, জিয়া ছিলেন তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক, যিনি একজন সামরিক কর্মকর্তা থেকে নিজেকে সফল ভাবে রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ মার্কিন কূটনীতিক ক্রেইগ ব্যাক্সটারকে উদ্ধৃত করে এও বলা হয়েছে, রাজনীতিবিদ হিসেবে সক্রিয় হওয়ার পর জিয়া ব্যাপকভাবে দেশসফর করেন এবং খুব সম্ভবত শেখ মুজিবর রহমান ও এ.কে. ফজলুল হকের চেয়েও বেশিমাত্রায় বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল সফর করেছেন। এতে প্রকাশ পায় যে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জিয়া কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে সারাদিনের পরিশ্রম শেষে বিশ্রামের জন্য নির্ধারিত রাতগুলোতেও অনেক সময় তিনি রাজনীতিবিদদের সাথে নীতিনির্ধারণী বৈঠক করছেন, সম্ভাব্য রাজনৈতিক দলের রূপরেখা নির্ধারণ করছেন, এতে জিয়ার একনিষ্ঠতা ও কঠোর পরিশ্রমের দিকটি নির্দেশপূর্বক সেগুলো প্রশংসনীয় না হয়ে কেন পুরো ব্যাপারটাই মিজানুর রহমানের কাছে ষড়যন্ত্রের একটি ইঙ্গিত হয়ে ধরা দিল, তা তিনি তার প্রতিবেদনে সম্ভবত স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন নি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যাদু মিয়ার মৃত্যুটি তার পরিবারের কাছে রহস্যাবৃত। মিজানুর রহমান খান যাদু মিয়ার ভাই মোখলেসুর রহমান ও ছেলে আনোয়ারুল গনির সরাসরি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, এবং ধরে নেয়া যায় তাদের বক্তব্যের অনেকাংশই হুবহু তুলে ধরেছেন। সেসব বক্তব্যের একটিতেও তারা যাদু মিয়ার মৃত্যু প্রসঙ্গে কোন রহস্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে দেখা গেল না। হয়তো তারা মিজানুর রহমান খানকে একান্তে বলেছেন, হয়তো মিজানুর রহমান খান সেটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন নি। কিন্তু তিনি যাদু মিয়ার মৃত্যুর একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনাও তিনি দেননি, দেননি তার মৃত্যুর তারিখ, দেননি কেন সেটিকে ঘিরে রহস্যের অস্তিত্ব থাকতে পারে তার এক লাইন ব্যাখ্যাও। যাদু মিয়ার মৃত্যু প্রসঙ্গে মোখলেসুর রহমানকে একটু বর্ণনা করতে দেখা গেল, সেখানো রহস্যের কোন সন্ধান পাওয়া গেল না। এই প্রসঙ্গে একটা কথাই বলার আছে, যাদু মিয়ার মৃত্যুটি তার পরিবারের কাছে রহস্যাবৃত থাকবার ব্যাপারটি তিনি উল্লেখ যেহেতু করেছেন, তার একটি অতিক্ষুদ্র ব্যাখ্যাও হয়তো তিনি দিতে পারতেন, সেক্ষেত্রে আমরা একটা নূন্যতম ধারণা হলেও পেতে পারতাম। তিনি দেননি।

সেনাবাহিনী, সেনানিবাস ও সেনাছাউনি -এসব শব্দের বহুব্যবহারের প্রেক্ষিতে যেটি বলতে চাই, তা হয়তো শুধুমাত্র মিজানুর রহমান খানের এই প্রতিবেদনের ক্ষেত্রেই প্রাসঙ্গিক নয়, বরং বলা যেতে পারে প্রতিবেদনটির প্রকাশস্থল প্রথম আলো পত্রিকার ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক।

http://firstcache.files.wordpress.com/2010/09/matiur-rahman1.jpg

নীতি বিসর্জন দিয়ে বেকায়াদায় পড়ে মাপ চাওয়ার ঘটনা মতিউর রহমানের এই প্রথম নয়।

আমরা জেনেছি গত ৩রা সেপ্টেম্বার, ২০১০ তারিখে পত্রিকা-মালিকদের সংগঠন নোয়াব-এর নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতকালে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ১/১১ শাসনামলে তার পালিত ভূমিকার জন্য কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপের সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক অধ্যায়টি ছিল এই ১/১১, যা ২৯ ডিসেম্বার, ২০০৮ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। অসাংবিধানিক ও অবৈধ এই সরকারটির কার্যক্রম চলাকালীন প্রথম আলো দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে যে বিশেষ নীতি গ্রহণ করেছিল, সেই নীতিটি অনেকাংশেই ছিল সেনাসমর্থিত ও সেনানিবাস থেকে পরিচালিত ঐ অগণতান্ত্রিক সরকারকে সমর্থনের নামান্তর। সেসময় দেশের বিরাজনীতিকরণের যে প্রক্রিয়া একটি বিশেষ গোষ্ঠী শুরু করে তার বাস্তবায়ন করছিল, তার সমর্থনে প্রথম আলো একাধিক মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত প্রতিবেদনটি হচ্ছে ১১ জুন, ২০০৭ সালে প্রকাশিত “দুই নেত্রীকে সরে দাঁড়াতে হবে”। এটি লিখেছিলেন সম্পাদক মতিউর রহমান নিজেই।

প্রতিবেদনটিতে তিনি ১/১১ সরকারের গণধিকৃত মাইনাস-টু ফর্মুলার সমর্থনে বহু শব্দ ব্যায় করেছেন। ঐ সময় প্রথম আলোর পাঠক যারা ছিলেন তারা তো বটেই, পরে আরও অনেকেই সমালোচিত ও বিতর্কিত এই মন্তব্য প্রতিবেদনটি পড়েছেন। মন্তব্য প্রতিবেদনটি পড়ে যে উপলব্ধিটা অনেকের মাঝেই এসেছিল, যেটা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে হয়তো এই মুহুর্তে মতিউর রহমান নিজেও স্বীকার করবেন, যে, মতিউর রহমান ১/১১-এর বিরাজনীতিকরণ চেতনার প্রতি পুরোপুরি সমর্থন জানিয়েই নিজের অবস্থান নির্ধারণ করেছিলেন, সেই সাথে করেছিল প্রথম আলো। বিশেষ প্রতিবেদনটি পড়ে সহজেই এটা মনে হওয়া সম্ভব, তিনি যেন অনেকটা তাড়াহুড়োর মত করে দুই নেত্রীকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য যতটা সম্ভব বিবরণ সেই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছেন।

১/১১-এর সময়ে মতিউর রহমান এবং তার প্রথম আলো যে ভূমিকা পালন করেছিল, সহজেই বোধগম্য হয় যে ১/১১-এর অগণতান্ত্রিক নীতির প্রতি, বিশেষত মাইনাস টু ফর্মুলার প্রতি তাদের তীব্র সমর্থন না থাকলে ঐ ধরণের ভূমিকা নেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হত না। এখন প্রথম আলোর পক্ষে কোন ব্যাক্তি বা স্বয়ং মতিউর রহমান জবাবে বলতে পারেন, তাদের ভূমিকা ঐ সময়ে এমন ছিল না যাতে সে কথা মনে হতে পারে। সেক্ষেত্রে বলতে হয়, তারা তো পত্রিকা চালান, পত্রিকায় মন্তব্য লেখেন, তারা সেগুলো করেন নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। কিন্তু অবশেষে সব মিলিয়ে ব্যাপারটি দেখতে কী রকম হচ্ছে বা তাদের পরিবেশিত সংবাদ ও মন্তব্যের দ্বারা পাঠকদের মাঝে পত্রিকার নীতিমালা প্রসঙ্গে কী ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে, এটা অবশ্যই তাদের চেয়ে আমরা অর্থাৎ পাঠকরা ভালো বলতে পারব। সেক্ষেত্রে ১/১১-এর সময়ে প্রথম আলোর পালিত ভূমিকা যে সৎ সাংবাদিকতার আদর্শবিবর্জিত ছিল এবং বিতর্কিত ছিল, এটি কেউ দাবী করলে সম্ভব তার প্রতি আর রাগ দেখানো চলে না।

http://firstcache.files.wordpress.com/2010/09/prothom-alo.jpg

নীতিবিসর্জনের জন্য একবার ক্ষমা চাওয়া প্রথম আলো পত্রিকার বিশ্বাসযোগ্যতা ও সাংবাদিক সততা এখন কতটা প্রশ্নাতীত, সে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, মতিউর রহমানের সেই প্রতিবেদনটির একটা মূল ভিত্তিই ছিল তৎকালীন যৌথ বাহিনীর হাতে আটক ও নির্যাতিত রাজনীতি-ব্যবসায়ীদের স্বীকারোক্তি। তাদের স্বীকারোক্তির উপর ভিত্তি করেই যেন বদলে গিয়েছিল প্রথম আলোর শব্দ নির্বাচনের ধরণ, “দূর্নীতিপরায়ন” থেকে এক লাফে তারা চলে গিয়েছিল “দূর্নীতিবাজ”-এ। সেসব স্বীকারোক্তিকে গভীর ভাবে আমলে নিয়েছিল বলেই সেসময়ে প্রথম আলোতে অনেক রাজনৈতিক নেতার (শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া সমেত) বিরুদ্ধে খোলাখুলি ভাবে কলম ধরাধরি চলেছিল।

সে সময়ে সম্পাদিত সবগুলো পাপের ব্যাখ্যস্বরূপ মতিউর রহমান একটি কথাই বলেছেন বলে পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে- চাপে পড়ে তখন তাকে অনেক কিছু করতে হয়েছে। এই চাপে পড়বার ব্যাপারটিই বা কতটা গ্রহণযোগ্য? তিনি কতদিন ধরে চাপে পড়ে ছিলেন? কিসের ভিত্তিতে তাকে চাপে ফেলা হল? তার কী কোন বিশেষ দুর্বলতা ছিল? যদি না-ই থেকে থাকে, তবে তিনি ঐ অতগুলো মাস চাপের মধ্যে থেকেই শুধু যা মনে আসল লিখে গেলেন? কোনটি সত্য?

আর তা যদি মেনে নিতেই হয়, তাহলে আমরা এই জেষ্ঠ্য সাংবাদিকের দৃঢ়তা সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করব? বর্তমানে ও ভবিষ্যতেই বা তার বিশ্বাসযোগ্যতার ব্যাপারে কতটা নিশ্চিন্ত থাকব? সেসময়ে তো বাংলাদেশে এমন কিছু ব্যাক্তিত্বও ছিলেন, যারা দেশে বসবাস করেই একাধিক গণমাধ্যমে ১/১১ সরকারের সাংবিধানিক বৈধতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করতেন, তাদের বেআইনী কর্মকান্ডের একটিরও সমালোচনা করতে ছাড়েন নি। সম্পাদক নুরুল কবীর, আইনজীবি ব্যারিস্টার রফিকুল হক, অবসরপ্রাপ্ত আমলা আসাফউদ্দৌলা প্রমুখ নাম গুলো কি আমরা ভুলে গেছি? তারাই তো দেশে অবস্থান করেও, সরকারের দমনমূলক মনোভাব উপেক্ষা করে তাদের অপকর্মের কথা একের পর এক ফাঁস করে গিয়েছেন। বহুল প্রচারিত দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান তবে কেন পারেন নি? কেন তার পত্রিকাকে কিছু সেনা কর্মকর্তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে হয়েছিল? এরপরও সেনা কর্মকর্তাদের রাজনীতিতে প্রবেশের ঘটনার সমালোচনা প্রকাশ করার কোন নৈতিক অধিকার কি প্রথম আলোর থাকে? সাংবাদিক হিসেবে মতিউর রহমানের ও পত্রিকা হিসেবে প্রথম আলোর সততাই বা এখন কতটা প্রশ্নাতীত?

http://firstcache.files.wordpress.com/2010/09/paapology.jpg

মহানবী (সঃ)-এর কার্টুন এঁকে তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে প্রথম আলো সম্পাদক জাতীয় মসজিদের খতিব ওবায়দুল হক সাহেবের কাছে করজোরে ক্ষমা চাচ্ছেন। কথিত আছে, ঐ জটিল পরিস্থিতিতে পিঠ বাঁচানোর জন্য প্রথম আলোর ঊর্দ্ধতনেরা সাংবাদিক ইউনিয়নের জাতীয়তাবাদী অংশটির নেতৃবৃন্দের শরণাপন্ন হয়েছিলেন।

যে সরকারের বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত যৌথ বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে মতিউর রহমান অত বড় বড় মন্তব্য প্রতিবেদনগুলো লিখেছিলেন, পরে আতান্তরে পড়ে নিজের সমস্ত কর্মের দোষ তিনি চাপিয়েছেন সেই সরকারের ঘাড়েই। অর্থাৎ এক সময়ে যেসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে প্রথম আলো রাজনীতিবিদদের নিয়ে লম্বা লম্বা প্রতিবেদন ছেপেছিল, তাদের সম্পাদক সেই ভিত্তিগুলোকেই অস্বীকার করে নিলেন। সেই সময়ে অনেক রাজনীতিবিদও যারা শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন, পরে তারা স্বীকার করেছেন তারাও অনেকেই চাপে পড়েই করেছেন সেসব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন একবার বলেওছিলেন, তার দলের নেতাদের তিনি তখনই বলে দিয়েছিলেন যে ১/১১ সরকার নির্যাতন করলে নেতাকর্মীরা যেন নিজেদের বাঁচাতে সরকার যা শুনতে চায় তাই বলে দেয়। মতিউর রহমানের মতে তিনিও নিজেকে বাঁচাতে সেই সরকারের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন। তাহলে আমরা কি ধরে নিব যে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে লেখা প্রথম আলোর প্রতিটি শব্দই ছিল আসলে নিজেদের বাঁচাতে সেনানিবাস থেকে পরিচালিত সেই অগণতান্ত্রিক সরকারের খুশিমতন রচিত গল্প ও উপন্যাস।

১/১১ সরকারের সময়ে পালিত বিশেষ ভূমিকার জন্য গতকালই সংসদ অধিবেশনে প্রথম আলোর উপর দিয়ে এক চোট ঝড়-ঝাপটা বয়ে গেল। একাধিক মন্ত্রী ও এমপি প্রথম আলো পত্রিকার, বিশেষ করে সম্পাদক মতিউর রহমানকে জবাবদিহি করার জন্য স্পিকার কাছে আর্জি জানান। এই প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, বিশেষ বিষয়ে নিয়ে লেখার আগে তার সাথে প্রথম আলো প্রতিবেদকের আলোচনা করা উচিত ছিল, যেটি তাদের কেউ করে নি। স্পিকার আরও বলেন যে পরে সে বিষয়ে প্রতিবাদ জানালেও প্রথম আলোতে তা পুরোপুরি ছাপা হয় নি। এই পর্যায়ে কোন কোন সংসদ সদস্য উঠে দাঁড়িয়ে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার পেছনে মতিউর রহমানকে দায়ী করতে থাকেন ও তার বিচার দাবী করেন। মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী মতিউর রহমানের বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শাহজাহান খান সহ অন্যান্য একাধিক মন্ত্রী প্রথম আলোর বর্তমান ভূমিকাকে আরেকটি ১/১১ ডেকে আনার ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন। এই পর্যায়ে সংসদ সদস্যরা সরব হয়ে দাবীটির প্রতি সমর্থন জানান। অবশ্য মন্ত্রী ও এমপিদের আক্রমণের শিকার শুধু প্রথম আলোকেই নয়, আমাদের সময় ও সমকালকেও হতে হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের সময়ের কোন প্রতিবেদনে ব্যবহৃত শব্দের ব্যাপারে স্পিকার আপত্তি জানিয়েছেন।

ওয়ান ইলেভেন সরকার ও সেসময়কার প্রথম আলোকে নিয়ে এত কথা বলার কারণ নিশ্চয়ই আছে। ‘সেসময়ে’ যে প্রথম আলো একটি অঘোষিত সেনাশাসিত সরকারের সমর্থনে টানা দুটি বছর ভূমিকা পালন করে গিয়েছে, একজন সেনা কর্মকর্তার রাজনীতিবিদে রূপান্তরের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে প্রথম আলোর কতটুকু নৈতিক অধিকার অবশিষ্ট থাকে? আমরা বারবার বলছি প্রথম আলো সেসময়ে বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছিল। ভূমিকাটি কি এখনও বিতর্কিত আছে? মতিউর রহমানের ক্ষমাপ্রার্থনার মধ্য দিয়ে কি এটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়নি যে তার অধীনে প্রথম আলো সেনাসমর্থিত ও অগণতান্ত্রিক সেই সরকারের সমর্থনে কাজ করেছিল? এই প্রতিষ্ঠিত সত্যটিকে একপাশে সরিয়ে রেখে পত্রিকাটির কর্মীরা অন্যান্য সেনা কর্মকর্তাদের রাজনীতিতে প্রবেশের ব্যাপারে বক্র মন্তব্য করবেন, এটি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে? দূরতম অতীতে ঘটে যাওয়া সেনা কর্মকর্তাদের রাজনীতিতে প্রবেশের ঘটনার সমালোচনা করার আগে কি তাদের উচিত হবে না অদূর অতীতে তাদের নিজেদেরই সেটি সমর্থন করার ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া?

এই পর্যায়ে মিজানুর রহমান খান বলতে পারেন, তিনি শুধু সেনা কর্মকর্তার রাজনীতিতে প্রবেশের ঘটনার উল্লেখ করেছেন, একজন সাংবাদিক যেভাবে তথ্য উপস্থাপন করে ঠিক সেভাবে। এটা বলে থাকলে তা ভুল হবে না। পুরো প্রতিবেদনে তিনি একবারও সেনা কর্মকর্তার রাজনীতিতে প্রবেশের কোন সমালোচনা বা প্রশংসা করেননি। প্রাসঙ্গিক যেসব তথ্য তিনি যেখান থেকেই পেয়েছেন, তিনি সেগুলো উল্লেখ করেছেন মাত্র। এই পরিস্থিতিতে সমালোচনার প্রসঙ্গটি আসছে এ কারনে যে, সেনা কর্মকর্তার রাজনীতিতে প্রবেশের ব্যাপারে মিজানুর রহমান খানের উল্লিখিতি বিবরণকে যদি কেউ সমালোচনা হিসেবে নিয়ে থাকেন, তবে তার জেনে রাখা উচিত হবে যে এই বিবরণের প্রকাশস্থল পত্রিকাটি নিজেই দীর্ঘদিন যাবত একটি সেনাসমর্থিত অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক সরকারের সমর্থনে সক্রিয় থেকেছে, এবং পরে এই ব্যাপারে পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারপ্রধানের সরাসরি প্রশ্নের মুখে সেই ভূমিকার জন্য মাপ চেয়ে সেই গণতান্ত্রিক সরকারপ্রধানের উষ্মা থেকে তাৎক্ষণাতের জন্য রক্ষা পেয়েছে।

http://firstcache.files.wordpress.com/2010/09/matiur-rahman-apologised-to-pm-for-dishonest-role-amid-1-11.jpg

নোয়াব-এর নেতাদের সামনে প্রধানমন্ত্রী ১/১১-এ প্রথম আলোর বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেয়ার সময় মতিউর রহমানের দিকে আঙ্গুল তুলে ধরেন। হতবুদ্ধি মতিউর রহমান "চাপে পড়ে করেছি" বলে সব পাপ ঝেড়ে ফেলবার প্রচেষ্টা চালান।

এক্ষেত্রে প্রথম আলোর একটি অনন্য বৈশিষ্ট্যের উপর আলোকপাত করতেই হচ্ছে। প্রথম আলোর একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- কখনও বিদেশী লেখক ও সাংবাদিকদের বই ও সাক্ষাৎকার, কখনও মার্কিন সরকারের অবমুক্ত করা কোন গোপন দলিলপত্র ব্যবহার করে কিংবা কোন মৃতব্যাক্তিকে উদ্ধৃত করে চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করা। প্রথম আলোর প্রতিবেদকরা খুব ভালো করেই জানেন- প্রাথমিক উৎস থেকে সংগ্রহ করে সেসব দলিলপত্রে উল্লিখিত তথ্যগুলোর সরবরাহকারীরা প্রধানত হচ্ছেন সংস্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোতে নিযুক্ত কূটনীতিকেরা। সেসব কূটনীতিকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও সরবরাহকৃত তথ্যের ধরণ যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের উপর পুরোপুরি ভাবে নির্ভর করে, এই বাস্তবতাটুকু প্রথম আলোর প্রতিবেদকদের না জানবার কথা না। তো, শেষ পর্যন্ত প্রথম আলোর এই বৈশিষ্ট্যটির হয়তো সমালোচনা করা যেত না। কিন্তু অসুবিধা হচ্ছে, এসব লেখা বা দলিলের বেশীরভাগই একপেশে। আরও দুঃখের ব্যপার হচ্ছে, এরকম ক্ষেত্রে প্রথম আলোর নিজেদের পক্ষ থেকে তদন্তের চেষ্টা করার লক্ষণ খুব সহজে দেখা যায় না।

একটি কথা বলে শেষ করতে চাই। ১/১১-এর সময়ে প্রথম আলোর বিতর্কিত ভূমিকা ও পরে প্রধানমন্ত্রীর সম্মুখে তার জন্য মাপ চাওয়ার ঘটনায় মূলত যে বাস্তবতাটা উপলব্ধি করা যায়, সেটি হচ্ছে- প্রথম আলো ইতমধ্যেই অনেক পাঠকের কাছেই এমন একটি পত্রিকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে যেটি ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর রাজনৈতিক আচরণ মোতাবেক নিজেদের নীতির এদিক সেদিক করে থাকে। এক্ষেত্রে সরকারটি গণতান্ত্রিক না অগণতান্ত্রিক, সরকারের কোন সাংবিধানিক বৈধতা আছে কি নেই, তারা সেসব বিচার করে না, করার কথা না। সেক্ষেত্রে, একজন নিতান্তই সাধারণ ও সাদামাটা পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জানতে চাওয়া যেতে পারে যে, সেই মাপ চাওয়ার ঘটনার পর আবারও কি পত্রিকাটি ক্ষেত্রবিশেষে এমন কোন ভূমিকা পালন করছে যার জন্য পরবর্তী কোন ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শনের অধিকারী সরকারপ্রধানের উষ্মা থেকে বাঁচবার জন্য তাদেরকে তার পূর্ববর্তী সরকারকে দায়ী করে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য মাপ চাইতে হবে?

Advertisements

দুই অর্থনীতির প্রস্তাব করছেন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে পুর্ব পাকিস্তানকে পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণের হাত থেকে রক্ষা করার একমাত্র উপায় হচ্ছে এটি।

বাংলাদেশের স্থপতি ও প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান। মাত্র ২০ বছর বয়সে সর্বভারতীয় মুসলিম ছাত্র ফেডারেশানে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ ঘটেছিল। তারপর থেকে আমৃত্যু এই রাজনীতিতেই জড়িয়ে ছিলেন। ৩৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে যেখানেই তিনি অন্যায় ও বৈষম্য দেখেছেন, তিনি তার প্রতিবাদ করেছেন, পরিবর্তনের দাবী করেছেন। প্রতিবাদের প্রতিক্রিয়া কী হবে, রাষ্ট্র কী ধরণের নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করবে, এসব ভেবে কখনও পিছপা হননি। এই প্রতিবাদী চরিত্রের জন্য তৎকালীন অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রায় প্রত্যেকটি সরকার শেখ মুজিবুর রহমানকে কোন না কোন রাজনৈতিক কারণে বন্দী করেছে। এবং প্রত্যেকবারই রাজনৈতিক সহকর্মীদের নেতৃত্বে মানুষের তীব্র আন্দোলন তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য করেছে।
শেখ মুজিবুর রহমানের বন্দী হওয়ার প্রেক্ষাপটগুলো সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাসহ নীচে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৪৮: পুর্ব পাকিস্তানের মানুষ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নিবে, মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীনের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে মানুষ বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। পুর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগের প্রতিষ্ঠাতা নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলা ভাষার প্রতি রাষ্ট্রে ঐ নীতির প্রতিবাদে আন্দোলনের সূচনা করেন এবং একাধিক কর্মসূচীর ডাক দেন। ১১ মার্চ তারিখে শেখ মুজিবুর রহমানকে সহ আরও আটক করা হয় শামসুল হক, অলি আহাদ, আব্দুল ওয়াহেদ, গোলাম আযম সহ মোট ১২ জন ছাত্রনেতাকে। এই আটকের তীব্র প্রতিবাদে আন্দোলন আরও বড় আকার ধারণ করতে শুরু করলে ১২ আটক নেতার সবাইকে মুক্তি দেয়া হয়।
এ বছরই শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অধ্যয়নরত অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের অধিকারের দাবীতে আন্দোলন শুরু করেন এবং ১৭ মার্চ দেশব্যাপী ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়ে গ্রেপ্তার হন। এই আন্দোলনের ফলস্বরূপ কর্মচারীদের উত্তেজিত করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে শেখ মুজিবুর রহমানকে বন্দী অবস্থাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়, সম্প্রতি যে বহিষ্কারাদেশটি দীর্ঘ ৬১ বছর পর তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ বছরের শেষ ভাগে শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী মুসলিম লীগের একটি সভায় মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনের পদত্যাগ দাবী করেন। এই দাবীর প্রেক্ষিতে অক্টোবারে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীসহ শেখ মুজিবুর রহমানকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়।
১৯৫০: প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের পুর্ব পাকিস্তান সফরের পরিপ্রেক্ষিতে শেখ মুজিবুর রহমান দেশে খাদ্যাভাবের প্রতিবাদের সভা-সমাবেশ করেন এবং আটক হন।
১৯৫২: ২৭ জানুরারি তারিখে গভর্নর জেনারেল খাজা নাজিমুদ্দীন ঘোষণা দেন যে উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। এর প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার লাইব্রেরি হলে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মী পরিষদের সভায় বৃহত্তর আন্দোলনের সিদ্ধান্ত হয় ও ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখের কর্মসূচী ঘোষিত হয়। ২১ ফেব্রুয়ারির বর্বোরচিত গণহত্যার প্রতিবাদে যখন পুরো পুর্ব পাকিস্তান ফুঁসে উঠেছিল, তখন বন্দী অবস্থাতেও শেখ মুজিবুর রহমান দলের আন্দোলন কর্মসূচী ও সভা-সমাবেশ সংগঠনের পেছনে ভূমিকা রাখছিলেন। ছাত্রহত্যার প্রতিবাদে তিনি অনশন শুরু করেন। ঢাকার আন্দোলনকারীদের সাথে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফরিদপুর কারাগারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিলাভ করেন।

১৯৫৪ সালের নির্বাচনের আগে যুক্তফ্রন্টের সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন শেখ মুজিবুর রহমান

১৯৫৪ সালের নির্বাচনের আগে যুক্তফ্রন্টের সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন শেখ মুজিবুর রহমান

১৯৫৪: ৫৪-র নির্বাচনে পুর্ব পাকিস্তানে যুক্তফ্রন্ট বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে। শেখ মুজিবুর রহমান তার নিজের গোপালগঞ্জ আসনে মুসলিম লীগ নেতা ওয়াহিদুজ্জামানকে ১৩,০০০ ভোটে পরাজিত করেন। ১৫ মে তারিখে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠিত হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি ও বন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ম পান। এ মাসেই ২৯ মে তারিখে কেন্দ্রীয় সরকার আকস্মিক ভাবে যুক্তফ্রন্ট সরকার বাতিল করে দেয়। এদিনই পাকিস্তান থেকে ফেরার পথে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হন। তিনি প্রায় ৭ মাস বন্দী ছিলেন।
১৯৫৮: ৭ অক্টোবার তারিখে পাকিস্তানের শেষ গভর্নর জেনারেল ইস্কান্দর মির্জা সামরিক শাসন জারি করে সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এর ঠিক চারদিন পর ১১ অক্টবার তারিখে শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং একের পর মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। যেকোন ধরণের রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে শেখ মুজিবুর রহমানকে এবার প্রায় চৌদ্দ মাস যাবৎ আটক রাখা হয়। এ বছরেরই ২৭ অক্টোবর তারিখে আইয়্যুব খান সেনা অভ্যুত্থান করে ক্ষমতা দখল করলেও রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি পাননি। বরং চৌদ্দমাস পর তিনি যেদিন মুক্তি পান, সেদিনই জেলগেট থেকে পৃথক একটি মামলায় তাকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়।
১৯৬৩-৬৪: ১৯৬৪ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রয়াত মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্‌র বোন ফাতেমা জিন্নাহ অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাষ্ট্রক্ষমতা ইতমধ্যেই আইয়্যুব খানের হাতে থাকলেও প্রশ্নাতীত জনপ্রিয়তার অধিকারী কায়েদ-এ-আজমের বোন হিসেবে ফাতেমা জিন্নাহ্‌ আইয়্যুবের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভুত হন। যেহেতু শেখ মুজিবুর রহমান স্বৈরশাসক আইয়্যুবের মৌলিক গণতন্ত্র প্রস্তাবের বিরোধী ছিলেন, তিনি ২ জানুয়ারি, ১৯৬৪-তে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনটিতে ফাতেমা জিন্নাহ্‌কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেন। নির্বাচনের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে, ১৯৬৩-র ১৮ ডিসেম্বার তারিখে শেখ মুজিবুর রহমানকে পাবলিক সিকিউরিটি অ্যাক্ট-এর আওতায় রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৯৬৫: পাবলিক সিকিউরিটি অ্যাক্টের আওতায় শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার হয় এবং সরকারবিরোধী বক্তব্য দেয়ার কারণে তাকে ১ বছরের সাজা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দেয়া হয়।

৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬-তে শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার একটি জনসভায় ছয় দফা উত্থাপন করছেন

১৯৬৬: ঐতিহাসিক ছয় দফা উত্থাপনের বছর। এ বছরই ৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে ঢাকার এক জনসভার মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। এ বছরের মার্চের শুরুর দিকে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি ছয়দফা দাবীর প্রতি জনসমর্থন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে তিনি দেশব্যাপী ভ্রমণ করে জনসংযোগ করতে থাকেন। এই জনসংযোগ কর্মসূচীর বিভিন্ন পর্যায়ে ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহে তাকে একাধিক বার গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হয়। ১৯৬৬ সালের প্রথম ভাগেই ছয়দফার প্রচার করতে গিয়ে তিনি আটবার আটক হন। ৮ মে তারিখে নারায়ণগঞ্জের একটি পাট কলে শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্যের ফলে তিনি আবার আটক হন। এবার দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষের বিক্ষোভ প্রদর্শিত হল এবং টঙ্গি, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে গুলি ছোঁড়া হয়েছিল।
১৯৬৮: এ বছর শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট ৩৫ ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়। বলা হয়, ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)-এর কর্মকর্তা লেঃকর্নেল শামসুল আলমের দেয়া গোয়েন্দা রিপোর্টে ঐ ৩৫ জন, যাদের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানসহ ছিলেন রাজনীতিবিদ, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনের বাংলাভাষী সদস্য, এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক ষড়যন্ত্রে অংশ নেয়ার ব্যাপারে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এই মামলার অধীনে উল্লিখিত ৩৫ জনকে সেনাবাহিনী গ্রেপ্তার করে। ১৯ জুন তারিখে ঢাকা সেনানিবাসে এই মামলার বিচার কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয়।

আগরতলা ষড়যন্ত্রমামলার আসামী শেখ মুজিবুর রহমান।

আগরতলা ষড়যন্ত্রমামলার আসামী শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৬৯ সালে মামলাটির বিচারাধীন অবস্থায় এর ১৭নং আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হক আটকাবস্থায় নিহত হন। তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি সেখানে মারা যান। এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তার পরিণতিতেই আইয়্যুব খানের সরকারের পতন ঘটে। এ বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি তারিখে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাটি তুলে নেয়া হয়।
১৯৭১: বলা হয়ে থাকে যে ১৯৭১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসের বিশাল আয়োজন এবং পরে স্বাধীনতার দাবীর ফলেই পাকিস্তানের জঙ্গী শাসকগোষ্ঠী কুখ্যাত অপারেশান সার্চলাইটের পরিকল্পনা করেছিল, যার আওতায় যত বেশি সম্ভব বাংলাভাষাভাষী বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হবে। ২৫ মার্চ ছিল অপারেশান সার্চলাইটের নির্ধারিত দিন। এ সময়ে পুর্ব পাকিস্তানে সামরিক কর্মকান্ডের দায়িত্ম মূলত টিক্কা খান থাকলেও গণহত্যাটির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করেছিল জেনারেল রাও ফরমান আলী। ২৫ মার্চ তারিখে দিনের আলো নিভতেই ঢাকা ও চট্টগ্রামের রাস্তায় সামরিক বাহিনী অবস্থান নিতে শুরু করে। এক সময়ে শুরু হয় গণহত্যা। রাত যত গভীর হতে থাকে নিষ্ঠুরতার মাত্রাও তত চড়তে থাকে।

এসএসজি কর্তৃক গ্রেপ্তারের পর শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশেষ সামরিক বিমানে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় করাচিতে। করাচি বিমানবন্দরে দুই এসএসজি সদস্যে পাহাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমান।

এ রাতেই শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাসায় পাকিস্তান আর্মির বিশেষ বাহিনী স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ (এসএসজি)-র একটি দল হানা দেয়। বাসার বাইরে অপেক্ষমান কর্মী, পথচারী সহ বাসার ভেতরের কয়েকজনকে হত্যা করা হয় এবং সেখান থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে আটক করা হয়। শেখ মুজিবুর রহমানকে আটক করার পর ঢাকা সেনানিবাসের কন্ট্রোল রুম, যেখানে বসে টিক্কা খান শহরের পরিস্থিতি ও সেনাবাহিনীর কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করছিলেন, তাকে মেসেজ দেয়া হয়- “দ্য বিগ বার্ড ইন কেজ!”।

শেখ মুজিবুর রহমানের এবারের আটক হওয়া ও মুক্ত হওয়ার মধ্যে রচিত আছে ধর্ম-বর্ণ-ভাষা নির্বিশেষে প্রত্যেকটি বাংলাদেশীর গর্বের ইতিহাস।


৮ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান এবং সেদিনই একটি বিশেষ বিমানে লন্ডন পৌছান। লন্ডনের মেফেয়ারে অবস্থিত হোটেল ক্ল্যারিজেস-এ শেখ মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন, এবং মানবিকতার খাতিরে নবজাতক বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য বিশ্বের সচ্ছল দেশগুলোর প্রতি আবেদন জানান। লন্ডনে তিনি বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ও কনজারভেটিভ পার্টির নেতা এডওয়ার্ড হিথের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি লন্ডনের একটি হাসপাতালে তার শারীরিক পরীক্ষা-নীরিক্ষাও করান। ১০ জানুয়ারি তারিখে তিনি বৃটিশ রয়েল এয়ার ফোর্স (আরএএফ)-এর একটি বিশেষ বিমানে করে দিল্লী হয়ে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে বহুপ্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন করেন। দিল্লীতেও তাকে রাষ্ট্রপতি ভেঙ্কটগিরি ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিশেষ সংবর্ধনা দেন, এবং শেখ মুজিবুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করার জন্য ভারতকে ধন্যবাদ দেন।

Click here to get the full resolution.

(This article is a re-post from Bangladesh First)

It’s all about what we get used to and later what we assume the standard to be. You never know which comes first, our assumption or our getting used to. Years ago, say in late 90s or early 2000s, we had an assumption about the standard time it takes to travel certain distances inside Dhaka city. Gradually that standard time has become longer. Now, amazingly, we don’t really get stunned or the it doesn’t occur to us that we are spending the time in Dhaka’s streets nearly twice than what it was a decade ago, until someone comes up and mentions it was half of the today’s a decade ago.

We probably are waiting for some confession from any government official over Dhaka’s unbelievable traffic, like the finance minister A.M.A Muhith did over regulating commodity prices and breaking up syndicate. He simply ended up saying his government has been unable to have control over it. Dhaka’s traffic is almost catastrophically growing higher, offering all annoyances to Dhakaite dwellers, passengers, drivers and traffic police personnel too. And who knows, any responsible government official may show up someday with a confession that all have been done to fix and it was failure which eventually has come.

Isn’t it the time to think something beyond of just getting annoyed or, just regretting or, even coming up with ridiculously short-lived plans?

Rumi Ahmed
15 July, 2010. USA

Mahmudur Rahman printed stories involving allegations of corruption about the Prime Minister’s family and her cabinet.

He is in prison and his newspaper has been forced to stop publishing.

Shamsher Mobin Chowdhury wrote an article in the Daily Star analyzing BNP’s victory in the Chittagong City Corporation elections.

He is in prison.

Shahiduddin Chowdhury said that Bangabandhu cannot avoid responsibility for the forty thousand people killed during his administration.

He is brutalized, denied medical treatment, and then sent to prison.

The list goes on and on.

Here’s the latest entry:

Mohiuddin Khan Alamgir’s parliamentary membership is cancelled; he is no longer a MP. The seat, Chandpur-1, will be declared vacant by the Election Commission, and a by-election will be held to it.

His BNP opponent, Ehsanul Haque Milon, has been kept in the prison for the last one year, on absurd charges such as stealing wristwatches, solely so that when this moment would come, Alamgir would have some slight edge over his younger, more telegenic opponent.

Here is the Awami League 2008 Election Manifesto, the much-celebrated “Charter for Change:

“Good governance through establishing Rule of Law and avoiding Political Partisanship. Human rights will be established on a strong footing with a view to ensuring rule of law. Independence of the judiciary will be ensured and the Institutions of the State and Administration will be freed from partisan influence.”

What is more partisan than keeping an individual in jail for more than a year just so that he will not be able to mount an effective challenge in an election?

None of this should be news to anyone. Milon’s daughter, Tanzida Nahar Haque, said as much in a recent press conference: “”It is a matter of regret that political enmity can be so ruthless and inhuman.”

It is, indeed.

After Major Jasimuddin in Bhola, Mohiuddin Khan Alamgir is the second Awami League coalition candidate whose nomination has been found illegal: which means he should not have been able to contest the election in the very first place. There are at least two more AL and Jatiyo Party MPs whose nomination will also similarly be cancelled. Then there is Sheikh Helal, the MP from Bagerhat-1, who also won an election under a conviction.

These are five members of parliament who should not have even been eligible to contest the last parliamentary elections. That they still became MPs lends proof of the BNP’s allegation that the last caretaker government under Fakhruddin Ahmed and the Election Commission did everything in their power to help Awami League. If five Awami League coalition candidates were allowed to contest in direct contravention of the laws, how many were made to win by the administration’s covert and overt manipulation on election day?

2008 is past, the string of by-elections is now the future. There is no doubt that Awami League will try their very hardest to win, through coercion and force, if necessary. Even if they win, such victories will do incalculable long-term harm to this government. There are only bad options in front of Sheikh Hasina from now on. One fears, she will stay true to character, and continue to choose only the very worst ones.

__________

Rumi Ahmed is a Bangladeshi blogger contributing from United States.

Talks took place about the imposed friendship. How a friendship can be imposed? Several events can make the ground. There can be a campaign carried out where significant part of the media will exasperatedly not let you forget about that friendship. Again, the same campaign can take care of the other task, that, all of not-so-friendly-acts of that ceremonial friend will be well covered and obstructed while reaching the people. The whole effort becomes even more illustrious if the regime is found to have the same exasperation.

“…India’s foreign policy toward Bangladesh for these years got the fame of harshness, and it doesn’t appear to get better even after Sheikh Hasina became the Prime Minister….”

It ain’t really our fault to get anxious when a minister of the current regime Ramesh Chandra Sen places his statement like Newton placed his laws of motion, saying, the Farakka Barrage in fact never had anything to do with floods and other related difficulties in Bangladesh; it was all about the problem we have been having in ourselves. So this is another way you can help impose a friendship, or at least can help abate the bitterness about that particular ‘friend’, unnoticed of the fact that the bitterness is getting to a hike.

But it becomes hard if the friend doesn’t cooperate. You know, you are teaching me that ‘Rahim is your friend! Rahim is your friend!’, and suddenly Rahim categorizes me that I will need this and that specific clearances from him to even seek permission to enter his home, this means Rahim is giving you a real hard time. It’s just like a physics tutor is teaching Newton’s 1st book while Newton is writing a 2nd book contradicting the 1st one.

India’s foreign policy toward Bangladesh for these years got the fame of harshness, and it doesn’t appear to get better even after Sheikh Hasina became the Prime Minister. Before 5 weeks passed after Prime Minister Sheikh Hasina returned home ending this January 2010 India trip, hailing immense success of her visit and hailing the reinstating of ‘strong’ Bangladesh-India ties, the Indian authority enlisted Bangladesh as one of the few countries whose citizens will need to have special security clearances from the Indian Home Ministry to join a seminar in India.

The PIB press release upon the decision.

A press release by the Press Information Bureau (PIB) of Indian government, published at 4:12pm Indian standard time on 18 February, 2010 describes an announcement from the Home Ministry of India that says, “As per the revised procedure, while the Ministry of Home Affairs (Foreigners Division) grants in-principle approval for holding the event, security clearance for grant of Conference Visa is required from this Ministry only in respect of participants from Afghanistan, Bangladesh, China, Iran, Iraq, Pakistan, Sri Lanka & Sudan and in respect of foreigners of Pak origin and Stateless persons.”

Well, it’s their land and it’s in fact their choice that who they will permit in what purpose and how. India as a sovereign state does have the right to design its own foreign policies, and even the minimum count of realism allows them to categorize the nationals and types of the entries they will like to approve or not.

Including Bangladesh in the list containing China, Pakistan, Sri Lanka, Sudan, Iran etc. however came as a surprise. India’s relationship with other 7 nations have certain attributes which to some extent can justify such Indian sanctions to them for granting conference visas.

India has been having several military tensions turned to conflicts with China and Pakistan since 1960s, so sanctions for them are not bolts from the blue. Sri Lanka’s annihilating of RAW aided LTTE has stressed the India-Sri Lanka relationship. So sanctions for Sri Lanka too ain’t a surprise. Rather the Sri Lankan Army’s 2008 offensive was financially, diplomatically and militarily supported by China, so the China-India relationship was further stressed. Iran’s relation with presently India’s closest ally United States is sourest of all time, same applies to Sudan, so sanctions for Sudan and Iran are not bolts from the blue too.

But according to our Prime Minister Sheikh Hasina including the entire of her cabinet, the tie between India and Bangladesh is unbreakable, right?

According to the Prime Minister Sheikh Hasina, whatever measure India takes in whatever consideration, it won’t show any aggression by any mean to any concern of Bangladesh, right?

According to the Prime Minister Sheikh Hasina and many others inside or not inside her government, regimes of the past few years largely contributed in deterioration of Bangladesh-India ties, which Sheikh Hasina has been 100% successful to fix, 100% successful! Right?

The most recent Indian aggression toward Bangladesh was BSF intrusion in Jaintapur frontier of Sylhet, where a BSF unit allegedly raided to occupy a water body. Photo shows an argument between BDR and BSF personnel at Jaintapur, taking place inside Bangladesh territory.

And still the Bangladeshis are to be through the security filter to join conferences in India, rather accompanied by those who have longstanding or presently stressed ties with India.

After Sheikh Hasina returned Bangladesh from India last month, number of Bangladeshi political analysts came to the decision that any presentation of a stressed Bangladesh-India ties presently and any presentation showing India’s not-friendly-acts to Bangladesh are just insubstantial, old-fashioned and malicious propaganda to hamper the our ‘progressive tie’ with India. Now, if we ask them that why Bangladesh, having a ‘progressive’ and ‘mutually beneficiary’ tie with India as they have said, will have to be through the Indian filter of suppressing the public thoughts and freedom of expression, what the answers will be?

Indian political analysts and experts have already responded to the announcement and several pieces have been so far published criticizing such tendency of policing the free expression of opinions.

After the 2009 Awami League regime took office, tensions arose about the Tipaimukh barrage. With freshest memories about the damages Bangladesh conceded by the Farakka accord, the outcry emerged in Bangladesh against the Indian attempts at Tipaimukh. The unleashed group of intellectuals who wrote or spoke in support of the Tipaimukh barrage or kept mum shamelessly, were all turned down.

A certain manner that activism against India’s Tipaimukh efforts showed is, it associated activists both from Bangladesh and India where they worked with unity to an extent. Moreover their promotion with joint efforts and joint expressions were taking place both in Bangladesh and India. The recent decision of Indian Home Ministry hints at the Indian stance of policing public thoughts.

Special scrutiny for conference visa seekers hints at the effort by Indian analysts where the several attributes of a visa seeker like literary or activism contribution records, pattern of expression in previous seminars or conferences etc. will be scrutinized. This means, a conference about Tipaimukh Barrage in India will be participated by only those Bangladeshis who to the date haven’t even imagined about denouncing the aggressive Indian effort. Those who strongly protested the effort, in fact are the people for whom the filter in name of special security checkup has been set.

So, what about the friendship our honorable Prime Minister Sheikh Hasina was talking about?

The Day We
Learnt We will be
the Bangladeshis

M. Tawsif Salam

A school goer in Bangladesh won’t end up without knowing the name of Jabbar, Salam, Rafiq and Barkat. Thanks to the education system we have, which according to the experts has a bunch of flaws, but explains the 21 February of 1952 in a way that we take this as a something we have to respect as part of our lives, as part of our being the Bangladeshis.

The language movement was a series of events that started immediately after Pakistan’s independence from the British Raj. Here is a very short description of the events starting from 1947 which eventually resulted at the martyrdom of 8 people in February 1952 and the triumphant conclusions for the Bangladeshis both in 1952 and 1971.


1947

A rally taking place inside Dhaka University.

On 14 August of 1947, 69 million people got the new entity as ‘the Pakistanis’ and among them 44 million were living in the east who solely spoke in Bangla. An education summit held in Karachi in 1947 for the first time called for exclusive use of Urdu in education, media and offices.

The organization or outfit to make an immediate protest of the initiative was Tamaddun Majlish, an Islamic cultural organization based in the then East Pakistan. Abul Kashem, better known as Principal Abul Kashem, a Dhaka University physics professor, was founder and the key person behind this organization, which in fact advocated the movement to establish Bangla instead of Urdu as the state language of Pakistan.

Dhirendranath Datta

East Pakistan, especially the capital Dhaka didn’t stop staying vibrant on the issue. Dhaka University, the heart of the language movement, in 1948 started being accompanied by some major politicians of East Pakistan. Nurul Haque Bhuiyan, another professor of Dhaka University, convened a movement of Tamaddun Majlish and simultaneously Shamsul Haque, a Bengali lawmaker, formed a committee with some other politicians to strengthen the voice.

As Bangla was not allowed to use in the assembly, Dhirendranath Datta, a senior lawmaker from Comilla and the veteran Indian National Congress leader who refused migration to India after 1947 partition, proposed a legislation to allow Bangla as an usable language in the assembly. The proposition was firmly turned down.


Abul Kashem

1948

A mass movement mostly by the students in Dhaka took place on 11 March, 1948 where the regime became the most aggressive to the date. This protest was basically due to the dramatic removal of Bangla from coins, federal stamps, some other key official uses and especially from the recruitment exam of Pakistan Navy which was taking place during the timeline. That day a number of political and student leaders were arrested including Shamsul Haque, Ali Ahad, Abdul Wahed, Sheikh Mujibur Rahman, Golam Azam and 12 others. Other key persons of the procession were Abdul Malek Ukil, Mohammad Toaha and Abdul Matin. As a response to the assaulting law enforcers, Mohammad Toaha snatched a riffle from a police. Later Toaha was detained and tortured by the police, which resulted at his few weeks of stay in hospital.

Another part of this same rally on 11 March, 1952 marched toward the secretariat building where police was waiting to open attack on the students. Several students, leaders including Sher-e-Bangla A.K. Fazlul Haque was injured.

On 27 November, 1948, Golam Azam, General Secretary of DUCSU and later the Amir of Jama’at-e-Islam, presented a memorandum to Pakistan’s Prime Minister Liakat Ali Khan at Gymnasium Ground, Dhaka University, demanding Bangla to be the state language of Pakistan. But it got nothing but the denouncement of the Prime Minister representing the central administration.

Police formation to curb the 11 March, 1948 procession in Dhaka

It’s actually for those of the learners who at the schools have been largely taught that the movement started after Jinnah’s 1948 speech at Dhaka University convocation. Yes, the near final stage of the movement was triggered to start after Jinnah presentation of his Urdu-only policy at Dhaka University on 19 March, 1948. But the structure was very well formed before the Jinnah speech. This same structure was the spirit for our gallant freedom fighters to liberate Bangladesh.


1952

On 27 January, 1952, Khwaja Nazimuddin, the Urdu-speaking Bengali from Dhaka’s Nawab family and the Governor-General of Pakistan, defended Jinnah’s policy of using Urdu exclusively in entire Pakistan. This in fact was not taken as an act of betrayal by a Bangali because Khwaja Nazimuddin with some other East Pakistanis holding higher positions in the central administration didn’t stood by us to protect Bangla as the major language.

Procession at Dhaka University on the fateful 21 February, 1952

As a response to Nazimuddin, a meeting at the banner of Shorbodolio Kendriyo Rashtrobhasha Kormi Porishod took place at the Bar Library Hall of Dhaka University on 31 January, 1952, chaired by Maulana Abdul Hamid Khan Bhashani. The meeting decided 21 February as the date to go for a greater action. As a preparation of 21 February, students and people gathered at Dhaka University campus on 4 February and issued a final warning to the regime to come by their proposal.


21 February

As planned, students started gathering at Dhaka University premises at 21 February morning at 9am. The entire compound was cordoned by the police and amid the cordon students with the Vice Chancellor and other teachers were preparing to disobey the section 144 that police enforced earlier. At around 11am, a rally of students marched toward the Dhaka University gate.

Police waiting at the cordon shot tear shell fires to the students. This resulted the expected disarray in the rally and a group of students ran toward the Medical College. The Vice-chancellor requested the Police to stop firing. At this point police arrested a number of students due to violation of section 144.

Enraged by the arrests, a group of students gathered around the East Bengal Legislative Assembly to show anger and to present their demand to the assembly. As the students blocked the legislator’s way toward the building, Police opened fire. Rafiquddin Ahmed, a Dhaka resident who took part in the procession, was shot in the head and died instantly, being the first martyr of Bangla language movement. Others who succumbed the bullet injuries were Abdus Salam, Abul Barkat and Abdul Jabbar.


22 February

Killings took place on 22 February too, particularly on two locations. One was in front of High Court, where a military truck was deliberately driven over a procession mourning the killings of 21 February. It took the lives of Abdul Awal, a rickshawpuller, and an unidentified teenager. Dead body of the teenager was snatched by the police and his death later was never acknowledged.

A condolence rally inside Dhaka University on 22 February, mourning the killings of the previous day

Another condolence procession was in progress near Rathkhola of Nawabpur, Dhaka. Without any provocation and at all of a sudden, police opened fire on a rally. Shafiur Rahman, a Dhaka University law student and also a High Court Accounts section employee, who was in a rally beside the Khoshmahal Restaurant near Rathkhola, was martyred. The shootings also took life of a teenager named Ohi Ullah. But his body was taken by the police and later never found. Death of Ohi Ullah was later never acknowledged by the authority.


Rafiquddin Ahmed

Rafiquddin Ahmed

Probably the first martyr of Bangla language movement, Rafiquddin Ahmed was born to Abdul Latif Miah and Rafiza Khatun on 30 October, 1926 in the Paril village at Singair Upazila, Manikganj. Rafiq’s father has been employee of Manikganj Commercial College. Rafiq completed his matriculation from Baira School in 1949 and kept his intermediate incomplete being a student at Devendra College.

Discontinuing studies, Rafiquddin was sent to Dhaka to work in his father’s printing business. After the date 21 February was fixed for a greater action by Shorbodolio Kendriyo Rashtrobhasha Kormi Porishod, Rafiq responded and joined the movement. He was shot exactly in the position the present Shaheed Minar is situated in, in front of the then Dhaka Medical College.


Abul Barkat

Abul Barkat

Barkat’s family migrated to East Pakistan when he was 21-year old. He was born on 16 January, 1927 in the village Babla at Bharatpur, Murshidabad, West Bengal. He completed his matriculation in Talibpur High School in 1945. Completion of intermediate was in 1947 from Behrampore College, later known as the Krishnath College. His family migrated to East Pakistan in 1948.

In 1948 Barkat admitted in Dhaka University for his undergrad. His concentration was Political Science and he completed his honours in 1951 standing 4th in second class. Following the honours, he started masters in the same subject in Dhaka University.

Though there was no involvement in any student or political organization, Abul Barkat was a student with political consciousness and he couldn’t evade the call of greater gathering by Shorbodolio Kendriyo Rashtrobhasha Kormi Porishod. On 21 February, 1952, Barkat joined the fateful rally at Dhaka University and became shot at the very initial stage of police aggression. Rushed to Dhaka Medical College Hospital with other injured, he fought for the whole day. Abul Barkat was pronounced dead at 8pm on that day at Dhaka Medical College Hospital. He was buried at Azimpur Graveyard.


Abdul Jabbar

Abdul Jabbar

Abdul Jabbar was born to Hasan Ali and Safatun Nesa on 11 October, 1919 in the village Panchua at Gaffargaon Upazila, Mymensingh. He discontinued his education being a student of Dhopaghat Krishibazar Primary School, mostly due to poverty and the fact that he had to help his father in farming.

In order to seek better fortune, Jabbar travelled by train to Narayanganj, then an important place with commerce, naval communication etc. In Narayanganj Jabbar got in touch with a British national who found a job for him in Myanmar, the then Burma. Jabbar returned home after working for 12 years in Burma. Upon his return, Jabbar organized few youngsters of his village and formed a village defense group under his command.

In 1949 Jabbar married Amina Khatun, his friend’s sister. In one and half year, they were blessed with a boy, who was named Nurul Islam Badal.

The night before the decisive 21 February, Jabbar came to Dhaka to take his mother-in-law home. Jabbar’s mother-in-law, suffering from cancer, was being treated in Dhaka Medical College Hospital. The following day, seeing a procession onward beside the hospital, Jabbar went ahead and joined a rally. Jabbar’s rally was one of the those on which police opened fire. Jabbar was shot and was rushed to Dhaka Medical College Hospital where he fought for a day. Jabbar succumbed his wounds on 22 February, 1952.


Abdus Salam

Abdus Salam

Abdus Salam was an employee of Directorate of Industries Dhaka. He was born to Mohammed Fajil Miah in 1925 in the village Lakshmipur of Feni. Being a peon of the Directorate of Industries, he lived at 36B Nilkhet Barrack, the place that was allotted to him for his being a government employee.

Salam attended the pre-planned procession at Dhaka University premises on 21 February, 1952, and later became part of the action to violate section 144. As the police responded with tear shell shots, a group of protesters including Abdus Salam ran toward the assembly building where they tried to make the legislators convey their insistence to the house. As the group tried to bar the way of the legislators, police opened fire and Salam got injured with several other protesters. In the same wave of fire, Rafiquddin received a lethal head shot and died on the spot.

Abdus Salam was rushed to Dhaka Medical College Hospital where doctors started fighting with his blood loss. Salam’s injuries were severe and appeared to take time to recover. After nearly a two weeks fight, 27-year old Abdus Salam succumbed his wounds on 7 April, 1952 under treatment at Dhaka Medical College Hospital.


Shafiur Rahman

Shafiur Rahman

Shafiur Rahman was born in 1918 in the village Konnagar at Hooghly, West Bengal, where in fact his family lived before the 1947 partition. His father Maulvi Mujibur Rahman migrated to East Pakistan in 1948 and got employed as a superintendent at the Post and Telegraph Office. Shafiur was employed at the Accounts section of High Court in Dhaka and simultaneously studied law in Dhaka University as an evening student. He was married.

The entire region turned stunned after police opened fire on the protesters on 21 February, 1952 and instantly killed at least 4 of them. A large crowd gathered for further protests and mourning in Dhaka on 22 February. In such a demonstration taking place at Rathkhola, Nawabpur, Dhaka, police again opened fire. Shafiur Rahman, who joined the mourning of the deaths of 21 February, was shot beside the Khoshmahal Restaurant near Rathkhola and died on the spot. He was 34-year old.


Abdul Awal

Abdul Awal died after a military truck was driven over a condolence procession on 22 February, 1952 taking place in front of today’s High Court. Awal was a rickshawpuller and was 26-year old.


Ohi Ullah

Ohi Ullah was a teenager who died on 22 February shootings at Rathkhola, Nawabpur, Dhaka condolence rally and his death was never officially acknowledged by the government. His father Habibur Rahman was a construction worker.


Unidentified Teenager

Abdul Awal was not the only victim of the 22 February killings in front of the High Court. As a condolence rally was deliberately ran over by a military truck, a teenager too died who was later never identified because police snatched his corpses and later never acknowledged the killing.


Sources:

  • Asiatic Society of Bangladesh
  • South Asia Analysis Group
  • Encyclopaedia of World’s Languages
  • Richard D. Lambert (Far Eastern Survey at April 1959)
  • Bangla Academy
  • Amar Ekushe (http://www.21stfebruary.org)
  • The Azad
  • Asia-Pacific Centre for Security Studies
fateful

Senior Journalist Beaten

in response of reporting graft allegation
against Prime Minister’s son and adviser

M. Abdullah, Amar Desh journo beaten at response of reporting graft case against PM's son Sajib Wajed Joy

M. Abdullah, a journalist of Daily Amar Desh who reported a graft allegation against the son of Prime Minister Sheikh Hasina along with one of her advisors, has received severe injuries after a group of miscreants launched an assault of him. The attack took place within less than 36 hours of Syeda Shajeda Chowdhury, Jahangir Kabir Nanak and some other senior ruling party Awami League leaders threatened M. Abdullah and declared of ‘serious measures’ to be taken against him for the report he wrote.

It appears that the attackers were waiting at multiple points. The first wave came near the Army Stadium where stones were pelted toward his car and resulted at smashed glasses. Speeding up from the site, the car came at the Kakoli intersect toward Banani and the attackers again halted him. This time M. Abdullah himself received pelted stones and became injured. Immediately after knowing that the car can’t move without running over any of his halters, Abdullah jumped out and ran to escape the what appears to be a lynching attempt on him. He hustled in a running bus but before he could get on it, the attackers made it to hit him for several times and pelted stones and other objects to him on pursuit. At this, Abdullah received severe skull injuries.

In the meantime the car he escaped from was still left on the street with his chauffer Akkas Ali. The attackers attended the car and ended up with smashed glasses and the critically injured Ali. Police took a safe side by occupying the spot after the triumphant Awami League activists left an injured Abdullah, even more seriously injured Akkas Ali and the nearly destroyed vehicle standing like a fool. Apart from any of the attackers, all were rescued to Gulshan Thana.

Until all of us turn to be stupidly reticent, none of the newspapers existing in Bangladesh can satisfy us all in all. Readers can find a pile of articles in this website vehemently criticizing the Daily Star and Prothom Alo. Here the entity is not criticized. The entity Prothom Alo and Daily Star are not criticized. What receive vehement criticism are somewhat appear to be politically motivated or any ill-motivated contribution by those particular medias. But that’s just criticism, expression of disapproval to an unacceptably partisan or ill-motivated presentation, and that is the best possible way.

But now it looks like the best way now to express disapproval against a journalist and letting the people know about this is to halt his car, smash his skull with melee weapons, bleed him in back by frequent stoning and show rest of the wrath on his chauffer and vehicle when he escapes from the scene.

Beside those who actively took part in the carnage and those who provoked them openly in public speeches (Syeda Shajeda Chowdhury, Jahangir Kabir Nanak etc.), each and every person will have to take responsibility who have been vocal against attacks against journalists years ago but has decided to keep mum this time.

Related links,

against

Arbinda Rajkhowa being produced to a court at Guwahati, Asam.

So it appears Bangladesh government handed over Arbinda Rajkhowa without going by any definite extradiation treaty with India? Within hours of Adv. Sahara Khatun, the Minister of Interior strongly denied arrest of any ULFA leader taking place in Dhaka, evidences came out that she gave flawed information to the local media. Arbinda Rajkhowa was produced to a Guwahati court where he told he was held by the Bangladeshi authorities from Dhaka and then handed over to BSF through Tamabil-Daoki border. Later Indian officials told the media thata 10-member ULFA group including Rajkhowa’s wife Kaberi Kachari (42), his two sons Gadadhar (5) and Kamsena (13), Raju Baruah’s wife Nirala Neog (30) and his minor son Hemanta, Sashadhar Chowdhury’s wife Runima Choudhury (41), his 10-month-old daughter Hema and Raja Bora, PSO of Rajkhowa were held by BSF on Bangladesh-Meghalaya border on Friday morning. So according to Rajkhowa’s statements he gave after being produced to the court, all the mentioned were held by Bangladeshi authorities and then handed over to Indian authorities at Tamabil-Daoki border.

Dhananjay Mahapatra of Times of India stated here,

Two facts are significant in Rajkhowa’s arrest. First, India does not have an extradition treaty with Bangladesh. Second, there was no formal request for his extradition through proper channels, which begins with a competent court issuing letter rogatory to its counterpart in the foreign country for extradition of the accused for trial in offences committed in India.

In the absence of these two, the arrest of Rajkhowa and his aides clearly shows that they were detained by Bangladeshi authorities and then pushed across to India at a mutually agreed place for the BSF to take them into custody. This is substantiated by Rajkhowa’s repeated assertions before media prior to being produced before the CJM that he had not surrendered.

Meanwhile Kolkata based The Telegraph reveals the fact that the handover of the ULFA kingpins without even a minimum consideration of proper ways from Bangladeshi side have something more to do than just Sheikh Hasina’s smoothing the ties with India. It says that Delhi is to start the process of handover of two prisoners from Indian custody to Bangladesh. These two prisoners appear to have names Abdul Mudib and Muslimuddin, two of the prime suspects of murder of Bangabandhu and his family on 15 August, 1975.

Nishit Dholabhai of The Telegraph writes here,

Bangladesh’s generosity in handing over leaders of the United Liberation Front of Asam springs from Prime Minister Sheikh Hasina’s eagerness to see Sheikh Mujibur Rahman’s assassins brought to justice, apart from her interest in smoothing relations with India.

Delhi is expected to return the favour to Dhaka by probably sending two persons wanted in the Mujib murder case who are lodged in Tihar jail, sources said. The duo’s identities are being kept under wraps though sources said their aliases could be Abud Mudib and Muslimuddin.

So it appears the Bangladeshi authorities under the present Awami League government has been showing immense generosities to India since their beginning.

  • A group of protesters where beaten mercilessly when they appeared in a procession demanding expel of the former Indian High Commissioner to Bangladesh Pinak Ranjan Chakravarty in September 2009.
  • A pair of Bangladeshi ministers (Dr. Dipu Moni, Minister of Foreign Affairs and Abul Hossain, Minister of Communication) was keeping mum when this Pinak Ranjan Chakravarty added the adjective “so called intellectuals” behind a panel of academics from University of Dhaka, Jagangirnagar University, University of Rajshahi and Shahjalal University of Science and Technology in August 2009.
  • The Minister of Water Resources Ramesh Chandra Sen found it fun to tell in July 2009 Bangladesh as a smaller neighbor can easily accept some damage to maintain a friendship with the bigger neighbor India.
  • The Minister of Foreign Affairs Dr. Dipu Moni was shy to spare a word when an Indian journalist called Bangladesh “a buffer state” in last February.

Now a group of people were handed over to India without the confirmation of their being criminals and even without any mutual extradition treaty just to show how generous the present regime is to India.

Reading the entire pile of emotional stories on the generosity of a 162 million’s nation to a 1200 million’s nation, we can expect the generosity from our Minister of Interior Adv. Sahara Khatun to answer the following question that,

For what on earth she denied that Rajkhowa was arrested in Bangladesh? And if she was telling the truth, why she is this ultra-generous to put not a single protest against any of the Indian medias those apparently made her contend for being provider of the most viciously flawed information?

M. Tawsif Salam
11 September, 2009, Dhaka

Bangladeshis Killed in 9-11

Clockwise: Mohammed Salahuddin Chowdhury, Mohammad Shahjahan, Nurul Haque Miah, Abul Kashem Chowdhury, Shakila Yasmin and Shabbir Ahmed.

Immediately after the horrible 9/11 attacks, the perception about Bangladeshi fatalities was that at least 50 of our countrymen have been missing in the rubles, dead or else. Watching the twin towers of the World Trade Center emitting smokes almost like two sky-scrapping chimneys, initially very few people overseas were concerned about knowing how much people of what nationalities have been victims, apart from those who knowingly had family members, coworkers or friends working in New York’s Lower Manhattan that day.

People of approximately 60 nationalities were among the victims. The initial perception of around 50 Bangladeshis killed was later corrected as there were 12 Bangladeshi victims documented. Now this information too ain’t assuring as there were talks that there could be some Bangladeshis working around but ‘not documented’, might have been in terms of legal measures. This means disappointment, that the actual number of how many Bangladeshis were killed in 11 September 2001 attacks won’t be known ever.

For someone looking for stuffs about the Bangladeshi victims of 9/11, the initial disgust will be offered by the authority of Bangladesh, that’s our government. Throughout a staggering hunt for information about brothers & sisters we lost that day, one will completely fail to get something that can be thought is given or provided by any agencies or departments of Bangladesh government. It’s understandable that during the attack the administration at home was to execute a general election of nearly 70 million voters, so it couldn’t respond at once. But not only years passed rather it’s being almost a decade after a number of Bangladeshi deaths overseas, we rarely found any of our government people to pronounce a word about it or to provide at least some statistics. It can be that we ain’t keen enough to get them so they ain’t keen enough to provide.

Among 12 confirmed Bangladeshis who were killed on September 11, 2001 there are Mohammad Sadeque Ali, Shabbir Ahmed, Nurul Haque Miah, Nurul’s wife Shakila Yasmin, Mohammad Shahjahan, Mohammed Salahuddin Chowdhury, Abul Kashem Chowdhury, Navid Hossain, Osman Ghani and Ashfaq Ahmed. As the Bangladesh High Commission at United States has a confirmation of 12 victims, definitely there are two more names those I’ve failed to mention here. However all the mentioned 10 were the citizens of United States of America and except Ashfaq Ahmed, Navid Hossain & Osman Ghani, I can provide at least something about seven others.


Mohammad Sadeque Ali

Mohammad Sadeque Ali, 62, according to a former Bangladeshi diplomat Syed Muazzem Ali, was a newspaper vendor. He lived in New York’s Jackson Heights with his wife Mumtaz. During the attack Ali was at Lower Manhattan presumably somewhere too-close-to or inside the World Trade Center and was later never found.

Shabbir Ahmed

Shabbir Ahmed

Shabbir Ahmed

Shabbir Ahmed, 47, worked in the famous ‘Windows on The World’ restaurant on the 106th floor of the WTC North Tower. Migrated to US from Bangladesh in 1981, he loved the job he had in ‘Windows on The World’ and he stayed there for 11 years. Ahmed was married to Jeba and the couple had three children. Ahmed became able to meet his dream of sending all of them for college education. At the time of Ahmed’s death, a son named Tanvir was 16-year old and a daughter that went to Brooklyn College were 19-year old. The family’s home is at Marine Park, Brooklyn, New York. At the time a plane penetrated the tower, Ahmed was at work in his beloved workplace with 89 other coworkers including Mohammed Salahuddin Chowdhury, another Bangladeshi employee in there, reportedly were serving 76 guests; none of the people survived.


Mohammad Shahjahan

Mohammad Shahjahan

Mohammad Shahjahan

Mohammad Shahjahan, 41, lived with his wife Mansura at Spring Valley, a neighborhood at the border of towns Ramapo and Clarkstown at Rockland County, New York. He was a Computer Administrator in the professional service provider & insurance brokerage farm Marsh & McLennan Companies, Inc. (MMC)., which held offices between floors 93 & 100, the ultimate impact zone of the attack. 295 employees including Shahjahan and two other Bangladeshis, Nurul Haque Miah & Shakila Yasmin, were working at MMC at the time of attack; among them nobody survived.


Abul Kashem Chowdhury

Abul Kashem Chowdhury

Abul Kashem Chowdhury

Abul Kashem Chowdhury, 30, was 2nd generation Bangladeshi-American, child of a former Bangladeshi diplomat. He resided in New York with his family of his wife, parents, a brother and two sisters. A College of Staten Island graduate, Chowdhury was about to pursue a career on computer expertise, which even he had one at financial services farm Cantor Fitzgerald L.P. as a Senior Assistant Analyst. His brother Abul Qaiser Chowdhury said that he and his brother worked to support their family; have been like two arms to their loved ones. During the attack Chowdhury was on the 103rd floor, who even called his brother after the plane made the hit and he was approaching to come down, but the communication was tragically brief and everything was finished in hours. Months before the attack Chowdhury got married to Young Kim, a 2nd generation Korean-American. Kim, remarking his husband as a ‘devoted moviegoer’, was about to go to movies with him after work on the fateful day.


Mohammed Salahuddin Chowdhury

Mohammad Chowdhury

Mohammad Salahuddin Chowdhury

Mohammed Salahuddin Chowdhury, 38, was a Queens, New York resident where he lived with his wife Baraheen Ashrafi. Salahuddin, a Dhaka University physics graduate, migrated to US in 1987. In US he studied real-estate and also obtained a diploma in Computer Science. Initially he worked in Baltimore but later came to New York for something better would come up. He decided to stay in New York in anyways so he started working in the famous ‘Windows on The World’ restaurant as a waiter. Salahuddin & Baraheen had a 6-year old boy. In the time of attacks Baraheen was pregnant and was due to operate at late hours of the fateful date. In fact Salahuddin usually attended the work in evening hours but that day chose to serve in the morning so that he could stay with his wife to the operation. Farqad Chowdhury, born 48-hours after deadly attack took away his father with 88 other coworkers, has been perhaps one of the first 9/11 orphans to be born. HBO’s 9/11 documentary “In Memoriam: New York City, 9/11/01” has covered the tragic fate of Salahuddin’s family.


Nurul Haque Miah

Nurul Huq Miah

Nurul Haque Miah

Nurul Haque Miah, 35, was born in Bangladesh to an immensely pious family in 1966. A mid-80s immigrant to US, Nurul started working for Marsh & McLennan Companies, Inc., (MMC) in 1986. In 1999 he married Shakila Yasmin; an early-90s immigrant whom he met in a friend’s wedding in 1995 & dated for 5 years. Nurul had a very good reputation at work & was awarded as recognition of merit in MMC. Nurul studied and had a degree in audiovisual technology, as the final position he had in MMC was an Audiovisual Technologist where he worked for 15 years. Nurul’s workplace was on the 93rd floor. But during the attack he was in a meeting on the 99th floor, while his wife Shakila, also an MMC employee, was on the 97th floor; MMC was a tenant holding 8 floors from 93rd to 100th. To mention, all these floors got the worst impact after the plane made hit especially the floors 93th-99th through where the plane actually penetrated, let as assume Nurul and his wife to be two of the very initial victims of the deadly attack.


Shakila Yasmin

Shakila Yasmin

Shakila Yasmin

Shakila Yasmin, 26, wife of Nurul Haque Miah, went to US with her parents Sharif A. Chowdhury and Shawkat Ara Sharif when she was 16. She did her S.S.C in Bangladesh and in US got admitted in Wakefield High School in Arlington, Virginia. Obtaining US citizenship in the sixth year of stay, she graduated from Virginia Commonwealth University in 1999 with a degree of Management Information Systems. As told before, she was married to Nurul Haque Miah in 1999, joined her husband’s workplace MMC as a Computer Assistant one year prior to the deadly attack. She was on the 93rd floor when the first plane penetrated the building.


Renaming Brooklyn Streets after Shakila and Nurul

ShakilaYasmin

Shakila Yasmin and Nurul Haque Miah

Nurul and Shakila lived in Brooklyn, New York and they had a very good relationship with the neighbors. One of their neighbors Diane Hunt, touched by her neighbors’ tragic deaths, took an initiative to propose renaming of the street in Brooklyn in names of Shakila and Nurul, took the matter to the city council. At her proposition and consent from the fellow councilors, the Mayor of New York City Michael Bloomberg (world’s 8th richest man, the Republican politician who owns Bloomberg L.P) passed a bill 746-A on 29 December, 2005 that renamed a total 67 streets of New York, including the Evington Avenue and the Third Avenue in Brooklyn those got the new name “Shakila Yasmin & Nurul Haque Miah 9-11 Memorial Way”. Mayor Bloomberg, fellow New Yorker Hunt and others who consented in paying respect to our fallen countrymen are yet to receive gratitude officially from Bangladesh. You know we have a lot of real works to do than just go thanking people like recently dead Senator Ted Kennedy who was singled out in US Senate just for talking for Bangladesh in 1971, or the Jewish NYC Mayor Michael Bloomberg who honored Bangladesh by naming streets whereas he could choose from people of 59 other nationalities.

Prothom Alo and Daily Star. I actually don’t blame myself while being highly skeptical about two most notable newspapers of our country, because they practically were correlated to my association with blogging in past. I remember the role that Prothom Alo and Daily Star played amid the 1/11 misrule in fact when I started active blogging, where I and many other bloggers can quite rightfully state based upon facts that they were becoming the engineers to establish the public support for the 1/11 regime which appeared to have been having ill-motives against Bangladesh. Whenever we had a confusion about what the then ‘Lord of the Rings’ Gen. Moeen U. Ahmed were trying to say or do, we were used to read Prothom Alo or Daily Star editorials or others’ write-ups inside them. In fact their articles or news reports at that time were written in such way that Gen. Moeen and his conmen were being quite well explained.

Prothom Alo and Daily Star
Prothom Alo and Daily Star, have been subjected to several controversies.

Prothom Alo and Daily Star claim themselves to have the highest circulation among those of their competitors, which I don’t deny. And considering them as two leading newspapers of Bangladesh, they have so far faced handful of allegations which I believe no other leading newspaper in Bangladesh did and in most of the countries are too much rare to face. The series of allegations include with, being weapons to knock down their owner’s business rivals, being an unofficial media body to provide subsequent explications of an undemocratic and unlawful government’s series of ill-motivated steps etc. Deeds they did to viciously support the undemocratic 1/11 government should be enough to completely discourage number of people who could have respect on them as honest journalists.

ATN Bangla House Grab Case
The Gulshan Avenue house which was raided by perpetrators with sign-board saying “Owner of This Land is ATN Bangla – এই জমি ক্রয়সূত্রে মালিক এটিএন বাংলা”

What Salman F. Rahman today has told, I consider it to be his right to defend himself if someone throws dirt to him. We remember that after the unlawful grab attempt of a Gulshan Avenue residential building by group of people claiming themselves to be conmen of Mahfuzur Rahman holding a signboard which says “This Property Belongs to ATN Bangla”, Salman F. Rahman being a relative to the actual owner of the building got involved in the case to support his family member, and that was the beginning of a series of ATN Bangla reports against both Salman F. Rahman and BEXIMCO. As similar sort of allegations have come forward about Prothom Alo and Daily Star for a number of times before, we cannot mark someone to be completely without logic if he says a same affair might have taken place between Salman F. Rahman and Prothom Alo & Daily Star. More importantly, according to Daily Star editor Mahfuz Anam’s claim that they are committed to present substantial news to their readers, Prothom Alo and Daily Star were supposed to carry out at least a follow-up of the Gulshan Avenue flap, which they eventually didn’t do. So Prothom Alo and Daily Star’s general claim having ‘social responsibilities’ eventually becomes arguable.

Salman F. Rahman at press-conf
As a reader and subscriber of both Prothom Alo and Daily Star which I was two years back, I will strongly support if someone claims that Prothom Alo and Daily Star both have been a party to the previous 1/11 regime to help them build their public support, as Salman F. Rahman.

I just can put a shortlist of their assistances. Incidentally and now I feel it was most unfortunate that it were Prothom Alo and Daily Star who gave me the first details of the 1/11 coup d’état. However as the 1/11 regime accommodate some tasks in their plans those where necessary for the harmonious run of a state, distinctive parts of their plans can be marked as they were not completely malicious. These not-malicious plans are often chosen to state that “1/11 also did some good things”. These ‘good things’ were given good coverage by Prothom Alo and Daily Star which I don’t think to be disappointing, and to some extent I was not suspecting about their roles or any of its appeared-to-be-association with the 1/11 government till those moments. But after the 1/11 government was on its political plans like minus-1/2, gagging major parties, creating king’s factions in name of reformists, forcing media to filter presentations, torturing journalists, politicians, teachers, students etc., I attentively noticed that Prothom Alo and Daily Star were being at very effective assistance where number of stories were being made to help the government have a convinced group of people and an apparent public support to their position completely against the ongoing political system. Following this notice, my delivery boy was told that no Prothom Alo and Daily Star should be seen in my house any further. Yes, I subscribed both and I unsubscribed both.

Daily Star ATN Bangla Collaboration
A screenshot from Daily Star website. ATN Bangla and Daily Star seem to have collaboration.

Now, one can ask if I have made detached from two newspapers. Well I haven’t been detached. When any important issue takes place and becomes attention of the majority media, I become curious about what role Prothom Alo & Daily Star are playing and I get in touch with their online edition. In fact their apparent apathy on the grab attempt on that Gulshan Avenue residential building came by my eyes when I specially checked that what’ve been their remark about allegation on their partial media partner (as ATN Bangla and Daily Star works together online in some cases) ATN Bangla in that illegal operation.

Anyways, about the beginning of 1/11, their reports really gave me and most of their readers an idea that the 10 January late night at Bangabhaban was really a scene full of merriness where D. Iajuddin Ahmed laterally handed over the state-running scepter to hands of the then military chief Gen. Moeen U. Ahmed. In fact the book written by Gen. Moeen U. Ahmed almost echoed what was reported by those newspapers on January 11, 2007. These ‘truths’ started being differed after other officials of Bangabhaban who were present during the overthrow and who were notable ‘non-military’, started to open mouths. Claims of the then Press Secretary of the President hint that Bangabhaban that night was an exact stereotype of how a presidential palace becomes amid a coup d’état; military officials in every rooms, regular house officials with faces like they were looking at ghosts, raiding military officials threatening Bangabhaban officials, officials getting to the President with prepared papers and having them signed etc. As the topic Press Secretary has come, I must mention that Syed Fahim Munaim, who was chosen as the Press Secretary to Dr. Fakhruddin Ahmed, was a Daily Star official prior to his appointment to the Chief Advisor’s office.

Salman F. Rahman
For sake of better acceptability of the claims Salman F. Rahman has made, I will suggest that the matter should be taken to the court as soon as possible so that there can be set an exemplary judicial action against Prothom Alo and Daily Star, if Rahman’s claims are found evident.

Incidentally the political targets of the 1/11 regime have been interesting matches with Prothom Alo and Daily Star targets to be defamed with series reports, substantial or insubstantial. Now those newspapers can defend this that the matches have been coincidental or they were simply doing the duties of ideal journalists. But we, the people who read those (at least once have read) newspapers, have opportunities of their analysis and do know that there exists a term called ‘yellow journalism’, won’t like to be fed and satisfied with these fancy ‘social responsibility’ explanations. People will play with the facts. And the claim that Prothom Alo and Daily Star were party to the promotion of unconstitutional and unlawful regime does have facts to back.

At least this has to be appreciated that Salman F. Rahman stood vocal against Prothom Alo and Daily Star despite many of their targets simply had things forgone or dealt by other means. I will expect that the information that Rahman provided have been substantial. For sake of better acceptability of the claims Salman F. Rahman has made, I will suggest that the matter should be taken to the court as soon as possible so that there can be set an exemplary judicial action against Prothom Alo and Daily Star, if Rahman’s claims are found evident. I also wish courage to the honorable judges that before ensuring justice against the practice of any illegitimate journalism, they will overcome the uneasiness of possibilities that they also can become suitable targets of Prothom Alo and Daily Star.

The Writer’s Club in Bangla

দ্যা রাইটার্স ক্লাবের বাংলা ভার্সন লেখক সংঘ ব্লগ খোলা হয়েছে।

The Writer's Club is now available in Bangla.

RSS South Asia

  • An error has occurred; the feed is probably down. Try again later.

RSS Unheard Voices

  • An error has occurred; the feed is probably down. Try again later.
September 2017
M T W T F S S
« Nov    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930